কক্ষপথে স্যাটেলাইট, সংকেত গাজীপুরের ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রে


381 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কক্ষপথে স্যাটেলাইট, সংকেত গাজীপুরের ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রে
মে ১২, ২০১৮ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

কক্ষপথে পৌঁছছে স্বপ্নের বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। কক্ষপথে পৌঁছার পর স্যাটেলাইটি এখন তার নির্ধারিত অবস্থান ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি দ্রাঘিমাংশের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় স্পেসএক্সের লঞ্চিং স্টেশন থেকে উৎক্ষেপণের ১ ঘণ্টা ১০ মিনিটে মাথায় স্যাটেলাইটটির সংকেত পৌঁছায় গাজীপুরের ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রে।

শনিবার রাতে  এসব তথ্য জানান বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট পরিচালনায় নবগঠিত কোম্পানির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল ইসলাম।

তিনি জানান, স্যাটেলাইটটি ইন্টারমিডেয়েট কক্ষপথে পৌঁছেছে এবং উৎক্ষেপণ যান থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর উপবৃত্তাকার পথে ঘুরে এটি এখন তার জন্য নির্ধারিত ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

সাইফুল ইসলাম জানান, আরও প্রায় ৩৬ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে নির্ধারিত অবস্থানে পৌঁছবে স্যাটেলাইটটি। এ পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে ৯ থেকে ১৯ দিন। তবে আশা করা হচ্ছে, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট ১২ দিনের মধ্যেই কক্ষপথে তার নির্ধারিত অবস্থানে স্থাপিত হবে। যুক্তরাষ্ট্র, কোরিয়া ও ইতালির ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র থেকে এমন তথ্যই জানানো হয়েছে বাংলাদেশকে।

দেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত ২টা ১৪ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় স্পেসএক্সের লঞ্চিং স্টেশন থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়। ওই সময় স্যাটেলাইটটিকে নিয়ে মহাকাশের পথে ছুটে যায় উৎক্ষেপণ যান ফ্যালকন ৯—

তিনি আরও জানান, এই তিন ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র থেকেই সমন্বিতভাবে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি দ্রাঘিমাংশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট পুরোপুরি স্থাপিত হওয়ার পর এর নিয়ন্ত্রণ শুরু হবে গাজীপুর ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র থেকে। এর আগ পর্যন্ত গাজীপুর ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র থেকে শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হবে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট পুরোপুরি বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করতে কমপক্ষে দুই মাস সময় লাগবে বলেও জানান সাইফুল ইসলাম।

এদিকে গাজীপুর ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রের প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম  জানান, ফ্লোরিডায় স্পেসএক্সের লঞ্চিং স্টেশন থেকে উৎক্ষেপণের ৩৩ মিনিটের মধ্যেই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ইন্টারমিডিয়েট কক্ষপথ বা জিওস্টেশনারি ট্রান্সফার কক্ষপথে পৌঁছে যায়। এখানে এক অর্থে কিছুটা যাত্রাবিরতির মত একটা ব্যাপার ঘটে। সেখানে উৎক্ষেপণ যান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কক্ষপথে নিজের অবস্থানের দিকে অগ্রসর হতে শুরু করে স্যাটেলাইটটি।

তিনি জানান, উৎক্ষেপণ যান থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রায় ৪০ মিনিট পর স্যাটেলাইটটির প্রথম সংকেত আসে গাজীপুর ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রে। এ সময় কেন্দ্রের অবস্থান সবাই উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন। কারণ এ সংকেত পৌঁছার অর্থ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট সঠিক নিয়মে এবং সঠিক পথেই অগ্রসর হচ্ছে।

প্রকৌশলী তাজুল আরও জানান, উপবৃত্তাকার পথে ঘুরে প্রায় ৩৬ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি দ্রাঘিমাংশে পৌঁছবে স্যাটেলাইটটি। গাজীপুর ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের ওপর ২৪ ঘণ্টা নজর রাখা হচ্ছে। বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত ৩২ জন প্রকৌশলী এই পর্যবেক্ষণের দায়িত্বপালন করছেন। তারাই পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করবেন।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটকে মহাকাশে পৌঁছে দিয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসার পর স্পেসএক্সের পুনরায় ব্যবহারযোগ্য উৎক্ষেপণ যান ফ্যালকন-৯ আটলান্টিক মহাসাগরে স্পেসএক্সের ভাসমান ড্রোনশিপ স্টেশনে অবতরণ করে—

দেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত ২টা ১৪ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় স্পেসএক্সের লঞ্চিং স্টেশন থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়। ওই সময় স্যাটেলাইটটিকে নিয়ে মহাকাশের পথে ছুটে যায় উৎক্ষেপণ যান ফ্যালকন ৯।

এ বিষয়ে স্পেসএক্সের ওয়েবেসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, উৎক্ষেপণের দেড় মিনিটের মাথায় ফ্যালকন-৯ ম্যাপ কিউ অতিক্রম করে। নির্দিষ্ট উচ্চতায় পৌঁছে রকেটের স্টেজ-১ খুলে যাওয়ার পর স্টেজ-২ কাজ শুরু করে। পুনরায় ব্যবহারযোগ্য স্টেজ-১ এরপর সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরে আসে এবং আটলান্টিক মহাসাগরে স্পেসএক্সের ভাসমান ড্রোনশিপ স্টেশন ‘অফকোর্স আই স্টিল লাভ ইউ’তে অবতরণ করে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, উৎক্ষেপণের সাড়ে ৩৩ মিনিটের মাথায় স্যাটেলাইটটি পৌঁছে যায় জিওস্টেশনারি ট্রান্সফার অরবিটে। সেখানেই রকেট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মহাশূন্যে গা ভাসায় বাংলাদেশের প্রথম কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মহাকাশযাত্রার ইতিহাসে এই উৎক্ষেপণ চিহ্নিত হয়ে থাকবে পুনর্ব্যবহারযোগ্য ফ্যালকন-৯ রকেটের নতুন সংস্করণের প্রথম সফল উৎক্ষেপণ হিসেবেও। ব্লক ফাইভের এই সফল যাত্রার ওপর ভর করেই মঙ্গল অভিযানের স্বপ্ন দেখছে স্পেসএক্স। এই নভোযানেই আগামী ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে নভোচারী পাঠাবে স্পেসএক্স।