কচুয়ায় কর্মসংস্থান কর্মসূচীর শ্রমিকদের টাকা লুটপাট !


402 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কচুয়ায় কর্মসংস্থান কর্মসূচীর শ্রমিকদের টাকা লুটপাট !
আগস্ট ১৪, ২০১৬ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট :
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচীর আওতার উপকার ভোগী শ্রমিকদের পারিশ্রমিকের টাকা ভুয়া টিপসই/স্বাক্ষর করে লুটপাট করে নিচ্ছে ইউপি চেয়ারম্যান, ব্যাংক কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা।
সুত্রে জানায়ায, বাধাল ইউনিয়নের ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে সাইনবোর্ড বাধাল মেইন রোর্ডের বকুলতলা হইতে সাহাজান মোল্লার বাড়ি পর্যন্ত  রাস্তার উভয় পার্শে মাটিরকাজ এবং রঘুদত্তকাঠী দেবেন দাসের বাড়ি হইতে  মাঠের রাস্তার মাটিভরাট। প্রকল্প দু‘টিহতে প্রায় ৭ লক্ষধীক টাকা বাধাল বাজার কৃষি ব্যাংক ম্যানেজার এর যোগসাজসে ইউপি চেয়ারম্যান ও ট্যাক আফিসার সহয়াতায় ভারতে,ঢাকয় চাকুরিরত শ্রমিক সহ বিভিন্ন শ্রমিকের ভুয়া টিপসই/স্বাক্ষর করে লুটপাট করে নিয়েছে। উক্ত প্রকল্প দু‘টি বাস্তবায়েন লক্ষে ৪০দিনের কর্মসংস্থান কর্মসূচির প্রবল্পের আওতায় ২য় কিস্তিতে ১৪১ জন শ্রমিকের  নিয়োগ করে দৈনিক ২‘শত মজুরি বাবদ ১১ লক্ষ ২৮ হাজার টাকা ব্যয় প্রকল্পের কাজ শুরুকরে ৪০দিনের স্থলে মাত্র ১৮দিন ৯০জন শ্রমি কাজকরে। প্রতি প্রকল্পে ৪০-৫০জন ভিআইপি শ্রমিক অর্থৎ তারা কাজ নাকরে টাকা নেয়। গত ১৮/০৭/১৬ ইং তারিখ সঞ্চয়ের ২৫ টাকা বাদে ৪২জন শ্রমিকের ভুয়া টিপসই/স্বাক্ষর সহ ১৪১জন শ্রমিকের দৈনিক ১৭৫ টাকারে ৪০ দিনের মজুরি ৯ লক্ষ ৮৭ হাজার টাকা ব্যাংক হতে উত্তোলন করে। ৯০ জন শ্রমিকের মজুরি বাবদ ২লক্ষ ৮৩ হাজার ৫শত টাকা দিয়ে বাকি ৭ লক্ষ ৩ হাজার ৫শতটাকা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান,ব্যাংক ম্যানেজার,পিআইও, ট্যাক অফিসারের হাতিয়েনেয়ার অভিযোগ পাওয়াগেছে।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একইউপি সদস্য জানায়,বিভিন্ন সময় শ্রমিক নিয়োগ করে বাধাল বাজার কৃষি ব্যাংকে ১০ টাকার বিনিময়ে সঞ্চয়ী হিসাব খোলা হয় কিন্তু  হিসাব নম্বরটি শ্রমিকদের হাতে দেওয়া হয় না এটি ইউনিয়ন পরিষদের নিকট হস্তান্তর করা হয়।
শ্রমিক শিব দাস ও গবিন্দ দাস জানায়, তারা ব্যাংক হতে ২য় কিাস্ততে কোন টাকা তোত্তোলন করেনি। কেবা কাহার তাদের নামের টাকা ভুয়া স্বাক্ষর দিয়ে তুলে নিয়েছে। বিষয়টি জানার জন্য তারা দু‘জন গত ৩/০৮/১৬ইং তারিখ বাধাল বাজার কৃষি ব্যাংকে তাদের সঞ্চয়ী ৯৮৪২ এবং ৯৮৫৮ নং হিসাবের  টাকা সম্পকে জানতে গেলে বাংক ম্যানেজার স্বাপন কুমার সরকার বলে আপনাদের একাউন্ট হচ্ছে ১০ টাকার উপকার ভোগির একাউন্ট আপনারা শুধু টাকা তোলেন কিন্তু জমারাখেন না তাই চেয়ারম্যান ছাড়ার কোনতথ্য দেওয়া যাবে না। শ্রমিক দের মধ্যেহতে ৮নং ওয়ার্ড মসনী গ্রামের মৃত শশীভুষন দাসের পুত্র সহাদেব দাস গত ২৩/০৫/১৬ ইং স্ব-পরিবারে ভারতে চলে য়ায় ৭নং ওয়ার্ড (মসনী) অংশ গ্রামের মুকুন্দ লাল দাসের পুত্র সাধন কুমার দাস এক বছর পূর্বে ভারতে চলে যায়। এছাড়া রঘুদত্তকাঠী গ্রামের বাবুল শেখের স্ত্রী ময়না বেগম এরা পূর্বে কর্মসুচির শ্রমিকের কাজ করতো বর্তমানে ময়না বেগম দুই বছরে কেয়ারের প্রকল্পের রাস্তার কাজকরে, ৪নং ওয়ার্ডের কাদের খানের পুত্র মজিবর খান এবং ইউসুপ শেখের পুত্র মোস্তাফা শেখ এরাব বর্তমানে ঢাকা চাকুরি করে।এদের কর্মসূচির শ্রমিকে তালিকায় নাম সহ ৪২জনের ভুয়া স্বাক্ষর করে টাকা উত্তোলন করে। এছাড়ার উক্ত তালিকায় মোড়েলগঞ্জ উপজেলার মোহনপুর গ্রামের শ্যামল দত্তের পুত্র লিটন দত্ত এর নাম রয়েছে।
এছাড়া ৮নং ওয়ার্ড মসনী গ্রামের শ্রমিক মৃত রজনীকান্ত দাসের পুত্র জুড়ান দাস বিলকুল গ্রামের ইনুস নকীবের পুত্র খবির নকীব হিসাব নং ৯৭৪৮,ছলিমদ্দি হাওলাদারের পুত্র মোকাম হাওলাদার হিসাব নং ৯৭৫১,সৈয়াদ শিকদারের পুত্র বাচ্চু শিকদার হিসাব নং ৯৭৪৩ সাংদিয়া গ্রামের নিরাঞ্জন দাসের পুত্র শিব দাস হিসাব নং ৯৮৪২, কর্তিক দাসের পুত্র বাসুদেব দাস হিসাব নং ৯৮৪৩, তারাপদ দাসের পুত্র গোবিন্দ দাস হিসাব নং ৯৮৫৮,রেবতী দাসের পুত্র প্রনব দাস হিসাব নং ৯৮৪৪,মোশারেফ শেখের পুত্র কুদ্দুস শেখ হিসাব নং ৯৮৪৬,নাছিম শেখের স্ত্রী নাছিমা বেগম হিসাব নং ১১৭৭৩, হানিফ তালুক দারের স্ত্রী মর্জিনা বেগম হিসাব নং ১১৭৭৪,আসিম দাসের স্ত্রী ইতু রানী দাস হিসাব নং ১০০৮৮,আফরা গ্রামের কাশেম খানের পুত্র একলাস খান হিসাব নং ১০৯৪৩, পানবাড়িয়ার মহম্মাদশেখের পুত্র কামরুল শেখ হিসাব নং ১০৯৪৮,অখিল দাসের স্ত্রী সবিতা রানী দাস হিসাব নং ১১১২০, এছাড়া ৫নং ওয়ার্ডের সোবাহান শেখের পুত্র সিরাজুল মল্লিক,রুস্তুম ফকির ৯নং ওয়ার্ড বাধাল গ্রামের মনি সরদ্দার, আলমগীর শেখ. সুপিয়া বেগম, রুবিয়া বেগম, সালেহা বেগম, নুর নাহার বেগম সহ ৪২ জনের নাম ভুয়া স্বাক্ষ দিয়ে টাকা উত্তোলন করে নেয়।
এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান নকীব ফয়সাল অহিদ জানায়, আমার পূর্ববতী চেয়ারম্যনের তালিকা আমি এর সাথে জড়িত নয়। কৃষি ব্যাংক ম্যানেজার স্বাপন কুমার সরকার নিকট জানতে চাইলে তিনি  বলেন,এটি ব্যাংকে অভ্যন্তিক ব্যাপার কোন তথ্য দেওয়া যাবেনা।