কটিয়াদীতে প্রেমিকাকে হত্যার পর লাশ ধান ক্ষেতে ফেলে পালান রুবেল : পুলিশ


182 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কটিয়াদীতে প্রেমিকাকে হত্যার পর লাশ ধান ক্ষেতে ফেলে পালান রুবেল : পুলিশ
ডিসেম্বর ৫, ২০২০ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শাড়ি পেঁচিয়ে প্রেমিকাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পিবিআইয়ের তদন্তে মামলার আসামি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

জানা গেছে, গত ১৪ নভেম্বর আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশনের পাশের একটি জমি থেকে এক অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে নিহতের পরিচয় জানতে তৎপর হয়ে উঠে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরে জানা যায়, মৃতের নাম নুরুন্নাহার (২৬)। ১৬ নভেম্বর নুরুন্নাহারের ভাই জয়নাল আবেদীন বাদী হয়ে কটিয়াদী মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরে বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলা রুজু করা হয়।

অভিযোগে জানা যায়, করিমগঞ্জ থানার জনৈক রুবেলের সেলাই মেশিনে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন নুরুন্নাহার। ১৩ নভেম্বর বিকেলে নুরুন্নাহার তার ছেলেকে বোনের কাছে রেখে ময়মনসিংহে যাবেন বলে বাসা থেকে বের হন। পরে ১৪ নভেম্বর সন্ধ্যায় বাদী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পারেন, তার বোনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। অজ্ঞাতনামা আসামিরা পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক তার বোনকে গলায় রশি বা কাপড় পেঁচিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি।

পরে পিবিআইতে মামলাটি স্থানান্তর করা হয়।

পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তা আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে গত ২ ডিসেম্বর গাজীপুরের টঙ্গী থানার দেওড়া এলাকা থেকে হত্যা মামলায় জড়িত সন্দেহে রুবেল আহম্মদকে (৪৪) গ্রেপ্তার করেন।

রুবেল করিমগঞ্জ উপজেলার নয়াকান্দি গ্রামের আ. হামিদের ছেলে। পরে আসামি নুরুন্নাহারকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছেন মর্মে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দিতে রুবেল বলেন, রুবেল ও নুরুন্নাহারের মধ্যে পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। নুরুন্নাহারকে কাপড়ের দোকান করে দেবে বলে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৩ লাখ টাকা কৌশলে নেন রুবেল। পরবর্তী সময়ে রুবেলকে নুরুন্নাহার তার পাওনা টাকা ফেরত ও তাকে বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।

রুবেল জানান, গত ১৩ নভেম্বর তিনি নুরুন্নাহারকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দেন। পরে নুরুন্নাহার তার ছেলেকে ছোট বোন শামছুন্নাহারের কাছে রেখে বাসা থেকে বের হন। পরে কিশোরগঞ্জ থেকে রুবেল-নুরুন্নাহার পৃথকভাবে কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ডে এসে একত্রিত হন। পরে কটিয়াদী-বাজিতপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে রাত ১০টার দিকে নুরুন্নাহারকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ঘটনাস্থলে নিয়ে যান। এক পর্যায়ে রুবেল তার মুখ চেপে ধরে সঙ্গে থাকা নতুন শাড়ি দিয়ে নুরুন্নাহারের গলায় পেঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। লাশ গুম করার জন্য পাশের ধান ক্ষেতে ফেলে পালিয়ে যান রুবেল।

বর্তমানে কটিয়াদী মডেল থানায় মামলা তদন্তাধীন অবস্থায় আছে।