কদর বেড়েছে খাঁচায় পোষা পশুপাখির


173 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কদর বেড়েছে খাঁচায় পোষা পশুপাখির
আগস্ট ২৫, ২০২০ ইতিহাস ঐতিহ্য ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

করোনাকাল

অনলাইন ডেস্ক ::

দীর্ঘ পাঁচ মাস বাসায় রাফি। নেই কলেজ। বাইরে খেলাধুলা বন্ধ। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডাবাজিও নেই। ঘরেই কাটছে সময়। করোনায় স্বাভাবিক জীবনে ঘটেছে তার ছন্দপতন। অনলাইনে পড়াশোনা, অবসরে টেলিভিশন আর গল্পের বইয়ে সময় কাটাতে কাটাতে হাঁপিয়ে উঠেছে সে। সময় কাটাতেই বাসার ব্যালকনিতে বাগান করা শুরু করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন গ্রুপে নানা প্রজাতির পাখি কেনাবেচার পোস্ট দেখে তারও মনে পাখি পালার ইচ্ছা জাগে। তাই রাজধানীর জুরাইন থেকে গতকাল সোমবার সে এসেছিল কাঁটাবনের পশুপাখি ও মাছের মার্কেটে।

পছন্দ করে একজোড়া বাজরিগার পাখি খাঁচাসহ কেনে। সঙ্গে একটি ছোট অ্যাকুয়ারিয়ামে একজোড়া গোল্ডফিশও। এরা আগামী দিনে হবে তার অবসরের সঙ্গী। রাফি বলে, ‘করোনার কারণে বাবা-মা প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বেরুতে দেন না। সারাদিন শুয়েবসে কাটাতে হচ্ছে। বন্ধুদের অনেকেই পশুপাখি পালে। ফেসবুকেও দেখি অনেকেই পাখি পোষে। বিক্রিও করে। তাই বাবা-মাকে বলে আমিও পাখি কিনতে এসেছি। এখানে এসে মাছও পছন্দ হলো। পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে জানি না। ফলে এখন এদের সঙ্গেই সময় কাটাব।’

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে মার্চ থেকে দেশজুড়ে সাধারণ ছুটি শুরু হলে দেশের অন্যসব কিছুর মতো বন্ধ হয়ে যায় কাঁটাবন মার্কেটও। প্রথম দিকে কয়েক দিন তো পশুপাখির খাদ্য দেওয়া প্রায় বন্ধ ছিল। অসহায় পশুপাখির চিৎকারে এলাকার পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে প্রশাসনের উদ্যোগে দোকানিদের দিয়ে পশুপাখিদের খাবার সরবরাহ স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। লকডাউন তুলে নেওয়ার পর দোকান খুলেও ব্যবসা তেমন জমেনি বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

বিল্লা বার্ডশপের এক কর্মী জানান, লকডাউন শুরু হলে তারাও দোকান বন্ধ রাখেন। বেচাকেনা বন্ধ ছিল প্রায় তিন মাস। সাধারণ ছুটি তুলে নেওয়ার পর সব দোকান খোলে আবার। ইদানীং বিকিকিনি একটু বেড়েছে। তবে পরিস্থিতি এখনও আগের মতো হয়নি। এখন যারা আসছেন তাদের অধিকাংশই নতুন করে পাখি-মাছ পালা শুরু করেছেন। করোনায় বাসার বন্দিত্ব ঘোচাতেই এমন ক্রেতা বেড়েছে বলে মনে করেন তিনি।

কাঁটাবন মার্কেটে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরলেও পাখিসহ অন্যান্য পশু ও মাছের জোগান কম। গতকাল বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা গেছে পাখির সংখ্যা অনেক কমেছে। জানতে চাইলে দোকানিরা জানান, করোনায় দেশের বাইরে থেকে পশুপাখি আসছে না। খাবারের দামও বেড়েছে। দেশেই যারা পাখি পালন ও বাচ্চা উৎপাদন করেন, তাদের কাছ থেকেও জোগান মিলছে না। পয়সা দিলেও পাখির দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। বার্ড প্যালেসের এক বিক্রয় কর্মী জানান, করোনার আগে পাখির যে খাবার ৬০-৭০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে, এখন তা ১০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। ফলে পাখি পালন ব্যয়বহুল হয়ে গেছে। তাই বাচ্চা উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছেন খামারিরা। এঞ্জেল ফিশের এক কর্মী বলেন, করোনার আগে বেচাকেনা জমজমাট ছিল। মাঝে তো একদম বন্ধ ছিল। এখন অনেকেই আসছেন। মাছ ও অ্যাকুয়ারিয়াম কিনছেন।

নাসিমা আক্তার এসেছেন ধানমন্ডি থেকে। তিনি তার ককাটেলের জন্য একটা পুরুষ সঙ্গী খুঁজছিলেন। তার সঙ্গে কথা হলে জানান, গত কয়েক বছর ধরেই পাখি পোষেন। বাসায় বিড়ালও রয়েছে। করোনার বন্দিত্বকালে পশুপাখিদের সঙ্গে সুন্দর সময় কেটেছে। গত সপ্তাহে একটি পাখি মারা গেছে। তাই নতুন পাখি সংগ্রহের জন্য কাঁটাবনে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘এখন খাবারের দাম অনেক বেশি। এতে খরচ বেড়েছে। তারপরও সময় কাটাতে পশুপাখি ভালো সঙ্গী। কারণ, কাজ ছাড়া বাইরে বেরুতে পারছি না। বন্ধুদের সঙ্গেও ঘোরা বন্ধ রয়েছে। ফলে অফিস থেকে ফিরে বা সকালের অবসর সময়টুকু গাছ, পাখি আর বিড়ালের পরিচর্যা করেই কাটাচ্ছি।