কপিলমনির হরিঢালী ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের ছাড়পত্র দেয়ার নামে অর্থ বানিজ্য !


620 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কপিলমনির হরিঢালী ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের ছাড়পত্র দেয়ার নামে অর্থ বানিজ্য !
সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৫ খুলনা বিভাগ
Print Friendly, PDF & Email

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি :
খুলনার হরিঢালী ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তারক চন্দ্র ঘোষ অবশেষে দম্ভের সাথে বলেছেন, আমার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীর পিতা সুকুমার মন্ডল পত্রিকায় সংবাদ পরিবেশন করিয়েছেন তাই আমার কাছে ক্ষমা না চাইলে আমি টিসি দেব না।

জানাগেছে, রামনাথপুর গ্রামের সুকুমার মন্ডলের কণ্যা মিতু মন্ডল হরিঢালী ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মানবিক বিভাগের ছাত্রী। সে পার্শ¦বর্তী কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দির স্কুল এন্ড কলেজে ভর্ত্তি হতে চায়, সে লক্ষ্যে হরিঢালী ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তরক চন্দ্র ঘোষের নিকট ১২ জুন ২০১৫ তারিখে একটি টি সি পাওয়ার জন্য আবেদন করে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের নির্দ্দেশ মোতাবেক সোনালী ব্যাংকে টি সি ফিস বাবদ ৭ ৫৮ টাকা জমা দেয়া হয়। এরপর বিভিন্ন খরচের কথা বলে আরো ৩ হাজার টাকা দাবী করলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকে ২ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এবিষয় নিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট একটি লিখিত অভিযোগও করা হয়। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো দীর্ঘ কয়েক মাস অতিবাহিত হতে চললেও আজো শিক্ষার্থী মিতু মন্ডলের টি সি দেয়নি স্কুল কর্তৃপক্ষ। ফলে মিতুর শিক্ষা জীবনে নেমে আসছে ঘোর অন্ধকার। এক দিকে সে হরিঢালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়বে না, অন্য দিকে ওই বিদ্যালয়ের টিসি না পেলে  সহচরী বিদ্যা মন্দিরে ভর্ত্তি বা পড়ার সুযোগ পাচ্ছে না। ফলে তার পড়া লেখা বন্ধের উপক্রম হয়েছে। সচেতন এলাকাবাসীর প্রশ্ন তাহলে কোমলমতি এ কিশোরীর শিক্ষা জীবন কি এখানেই থমকে যাবে? থমকে যাবে লেখাপড়া করে তার বড় হওয়ার ভবিষ্যৎ স্বপ্ন দেখা ?

মিতুর পিতা সুকুমার মন্ডল এ প্রতিবেদককে বলেন, আমার কন্যা সহচরী বিদ্যা মন্দিরে পড়তে ইচ্ছুক, তাই হরিঢালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে টিসি পাওয়ার জন্য একটি আবেদনও করা হয় কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তরক চন্দ্র ঘোষ টি সি না দিয়ে নানান টালবাহানা করে আসছেন।

এব্যাপারে মুঠোফোনে কথা হয় অভিযুক্ত শিক্ষক তারক চন্দ্র ঘোষের সাথে, তিনি অত্যন্ত দম্ভের সাথে এ প্রতিবেদককে সাফ জানিয়ে দেন আমার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে তাই বিদ্যালয়ে এসে আমার কাছে ক্ষামা না চাইলে আমি টিসি দেব না এটা আমার চ্যালেঞ্জ। তিনি সাংবাদিকদের প্রতি ক্ষুব্দ হয়ে আরো বলেন, আপনারা যত পারেন আমার নামে লেখেন।
এবিষয়ে পাইকগাছা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শেখ মতিউর রহমান বলেন টিসি পাওয়া একজন শিক্ষার্থীর ন্যায্য অধিকার। আমি পাইকগাছাতে অতি সম্প্রতি এসেছি, বর্তমানে ছুটিতে আছি। ছুটি শেষে বিষয়টি দেখব।