কপিলমুনিতে আগের মতো নজরে পড়ে না মাটির ঘর


999 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কপিলমুনিতে আগের মতো নজরে পড়ে না মাটির ঘর
মে ৮, ২০১৮ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি ::
গাও গ্রামের মানুষের এসি ঘর হিসাবে খ্যাত মাটির তৈরি ঘর। ঝড়-বৃষ্টি থেকে বাঁচার পাশাপাশি প্রচুর গরম ও তীব্র শীতে আদর্শ বাস-উপযোগী মাটির তৈরি এসব ঘর কপিলমুনি এলাকায় আগের মতো এখন আর তেমন একটা নজরে পড়ে না। আধুনিকতার ছোঁয়া আর কালের আবর্তে কপিলমুনির পাশ্ববর্তী প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামের ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। অতীতে মাটির ঘর গরীবের শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত ঘর বলে পরিচিতি থাকলেও এখন আর তা থাকছে না। শুধু গরীব মানুষ কেন ৬০’র দশকের গ্রামের মোড়ল বা মাতব্বরের বাড়িতে মাটির তৈরি দ্বিতল ঘরও ছিল। সেখানে বহিরাগতদের বসবার জন্যও আলাদা ঘর থাকতো সেটাও ছিল মাটির তৈরি। মধ্যবিত্তদের বাড়ি মাটির তৈরি হলেও বিভিন্ন কারুকার্যে ভরপুর থাকতো। এসব মাটির ঘর গরমের মওসুমে আরামদায়ক ছিল তাই আরামের জন্য গ্রামের দারিদ্র মানুষের পাশাপাশি অনেক বিত্তবানরাও মাটির ঘর তৈরি করেছেন।
জানা যায়, এসব ঘর তৈরির জন্য এঁটেল বা আঠালো মাটি কাঁদায় পরিণত করে দুই-তিন ফুট চওড়া করে দেয়াল তৈরি করা হত। ১০-১৫ফুুট উঁচু দেয়াল কাঠ বা বাঁশের সিলিং তৈরি করে তার উপর গোলপাতা, ধানের খড়-কুটো, তালপাতা, মাটির তৈরি টালি অথবা ঢেউটিনের ছাওনি দেয়া হত। আর এই মাটির ঘর অনেক সময় দোতলা-তিনতলা পর্যন্ত করা হতো। আর বাড়ির গৃহিনীরা মাটির দেয়ালে বিভিন্ন রকমের আল্পনা বা নকসা একে ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতেন।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বর্ষা মওসুমে মাটির ঘরের ক্ষতি হয় বলে বর্তমানে ইট-বালু ও সিমেন্টের ঘর নির্মানে উৎসাহী হচ্ছে মানুষ। এক সময় এলাকার প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিভিন্ন গ্রামের মানুষরা মাটির ঘরে বাস করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করলেও প্রবল বর্ষণে মাটির ঘরের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয় বলে আজ গ্রাম বাংলার মানুষের চিন্তা চেতনায় পরিবর্তন এসেছে। যদিও ভূমিকম্প বা বন্যা না হলে একটি মাটির ঘর শত বছরেরও বেশি স্থায়ী হয়। আধুনিকতার ছোঁয়া এবং কালের বিবর্তনে দলান-কোঠা বা অট্রালিকার কাছে হার মানছে মাটির ঘর। ৭০’র দশকের পর থেকে একে একে গ্রামবাংলায় তৈরি হয়েছে ইট-বালু-সিমেন্টের তৈরি বিশাল বিশাল প্রাসাদ সম অট্রালিকা। মাটির ঘর বসবাসের জন্য আরামদায়ক হলেও যুগের পরিবর্তনে আধুনিকতার ছোঁয়ায় অধিকাংশ মানুষই মাটির ঘর ভেঙ্গে অধিক নিরাপত্তা ও স্বল্প জায়গায় অনেক লোকের বসবাসের লক্ষ্যে পাকা ইমারত নির্মান করছেন। তাই আজ আর সারা গ্রাম ঘুরেও কোথাও মাটির তৈরি ঘর খুজে পাওয়া যাবে না। যা দু’একটি আছে তাও বিদায় নিতে তৈরি হয়ে আছে।