কপিলমুনিতে আধুনিক চিংড়ি চাষে মৎস্য চাষীদের ভাগ্য বদলে দিচ্ছে


543 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কপিলমুনিতে আধুনিক চিংড়ি চাষে মৎস্য চাষীদের ভাগ্য বদলে দিচ্ছে
আগস্ট ২৫, ২০১৬ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি :
আধুনিক চিংড়ি চাষ কপিলমুনি এলাকার মৎস্য চাষীদের ভাগ্য বদলে দিয়েছে। ইউ এস এ আই ডি এর অর্থায়নে ওয়ার্ল্ড ফিস কর্তৃক মৎস্য ঘেরে পরিবেশ বান্ধব আধুনিক পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষের উপর প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা গ্রাম্য অনভিজ্ঞ সাধারণ চিংড়ি চাষিদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছে ।

সরেজমিনে দেখা যায়, কপিলমুনির পার্শ্ববর্তী হেতালবুনিয়া গ্রামের আশুতোষ মন্ডলের ছেলে সুকান্ত মন্ডল ২০১২ সালে আইন প্রকল্পের চিংড়ি চাষী দলের সদস্য হন, এবং গুরুত্ব সহকারে প্রশিক্ষণ নিয়ে বুঝতে পারেন এতদিন তাদের করা চাষ পদ্ধতিতে  কি কি ভুল ছিল। ভুলগুলো সুধরে নিয়ে  সঠিক সময় পরিমান মত চুন সার প্রয়োগ করে পানির গভীরতা ঠিক রেখে, বছর শেষে কালো পচা কাঁদা অপসারণ করে পি সি আর পরিক্ষিত পি এল অভ্যস্তকরণ করে ঘেরে ছেড়ে ক্রমান্নয়ে তার উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে ।
এই বিষয় তিনি এলাকার চাষিদের মধ্যে বুঝানোর চেষ্টা  করেছেন এই যে আধুনিক পদ্ধতিতে পরিবেশ বান্ধব চিংড়ি চাষ করে যদি পরিবর্তন আসে তবে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যাবে এবং সেই সাথে অর্থনৈতিক ঘাটতি পুরণ করা যাবে। এরপর তিনি ২০১৪ সালে আইন প্রকল্পের সি এফ হিসেবে নিযুক্ত হয়ে এলাকার মৎস্য চাষীদের প্রশিক্ষণ করানোর সুযোগ পান। যার ফলে এলাকার অধিকাংশ  চাষীদের চিংড়ি চাষে ব্যাপক পরিবর্তন আসে।

সুকান্ত জানান, তিনি ২০১৫ সালে ২৬৪ শতক জমিতে বাগদা পেয়েছেন ৭৮৪ কেজি যার বাজার মূল্য ছিল ৫০৯৬০০ টাকা, এবং সাদামাছ পেয়েছেন ১০৫০ কেজি যার বাজার মূল্য ছিল ৫৭৭৫০ টাকা, ২০১৫ সালে সুকান্ত মন্ডলের মোট বিক্রয় হয় ৫৬৭৩৫০ টাকা। এবং মোট খরচ হয় ১৪৫০০০ টাকা, লাভ থাকে ৪২২৩৫০ টাকা। চলতি বছর ১৫ই আগস্ট পর্যন্ত একই জমিতে তিনি বাগদা পেয়েছেন, ৫৮৩ কেজি, এবং সাদা মাছ ৪৩৫ কেজি, তিনি আশা রাখেন বর্তমান পরিবেশের উপর নির্ভর করে সামনে তিনি ২২০০০০ টাকার মাছ ধরতে পারবেন। তার মধ্যে বাগদা ২৫০ কেজি ও সাদা মাছ ৯ ‘শ কেজি।

এলাকার একাধিক মৎস্য চাষীর সাথে কথা বলে জানা যায় এ পদ্ধতিতে চাষের ফলে অধিকাংশ চাষিদের ভাগ্যের পরিবর্তন আনতে পেরেছেন তারা।