কপিলমুনিতে এক অসহায় মায়ের সংবাদ সম্মেলন


176 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কপিলমুনিতে এক অসহায় মায়ের সংবাদ সম্মেলন
জুন ২, ২০২০ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

॥ পলাশ কর্মকার ॥

দু’ভাই অপু ও দিপু গ্রেফতারের ঘটনায় মা হোসনেয়ারা বেগম দু’ছেলেকে গ্রেফতারের নেপথ্যের ঘটনা তুলে ধরে সোমবার সন্ধ্যায় খুলনার পাইকগাছার কপিলমুনি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে হোসনেয়ারা বেগম বলেন, ‘আমি একজন দুঃখিনী অসহায় মা। আমার দু’সন্তানকে কপিলমুনি ফাঁড়ির পুলিশ গত ২৩/০৫/২০ তারিখে ষড়যন্ত্র মুলক মিথ্যা মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়েছেন। আমার সন্তান অপু ও দিপু দু’ভাই সম্পূর্ন ষড়যন্ত্রের শিকার। উল্লেখিত তারিখে কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ির দারোগা অভিজিৎ রায় প্রকাশ্য দিবালোকে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে কপিলমুনি বাজারের জনবহুল মাছকাটা সংলগ্ন রাস্তা থেকে আমার দু’ছেলেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। ওই সময় জনসম্মুখে তাদের কাছে কোন মাদক দ্রব্য খুঁজে পায়নি তারা। যা প্রকাশ্য দিবালোকে বহু মানুষ দেখেছিল। এমতাবস্থায় পুলিশ তাদেরকে ফাঁড়িতে নিয়ে আটকে রাখে। খবর পেয়ে আমি দ্রুত কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়িতে গেলে আমাকে ঢুকতে দেয়নি দারোগা অভিজিৎ। তদুপরি আমি আমার ছেলেদেরকে নিয়ে আসার কারণ কি জানতে চাইলে দারোগা অভিজিৎ আমাকে বলেন, ‘এখন কোন কথা বলবো না, যা বলার থানায় যেয়ে বলেন।’ এই কথা বলে দ্রুত দুটি মোটর সাইকেল বের করে দু’ছেলেকে থানায় নিয়ে যায়। এরপর মিথ্যা মাদক মামলায় দু’ভাইকে জেল হাজতে পাঠানো হয়।
তিনি লিখিত বক্তব্যে আরো বলেন, আমার বড় ছেলে অপু সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা ইজিবাইক সমিতির অধিনে পাটকেলঘাটা রুটে ইজিবাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। ছোট ছেলে দিপু কপিলমুনি কলেজে পড়াশোনা করে। ঈদ উপলক্ষে বড় ছেলে অপু বাড়িতে আসলে ঘটনার দিন তারা দু’ভাই কপিলমুনি বাজারে ঈদের কেনাকাটা করতে গত ২৩ মে সকাল ১০ টার দিকে কপিলমুনি বাজারে যায় তারা। সেমাই, চিনি ও অন্যান্য ঈদ সামগ্রী কিনে বাড়ি ফেরার পথে কপিলমুনি বাজারের জনবহুল এলাকা মাছকাটা রোডে পৌঁছালে দু’ভাই কে গ্রেফতার করেন।
সেদিন সেখানে দুভাইকে তল্লাশি করে কিছুই পায়নি পুলিশ। দু’ছেলেকে থানায় নেয়া ও মিথ্যা মাদক মামলা সাজিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠায়। যার মামলা নং ২৩/১৬৩, তারিখ ২৩/০৫/২০। যা সম্পুর্ন ষড়যন্ত্র ও প্রহসনমুলক।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমার স্বামী শেখ শাহাজুল ইসলাম একজন প্যারালাইসিস রোগী। তিনি হাটাচলা করতে পারেন না। মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় ফাঁসানো আমার দু’ সন্তানের এমন পরিস্থিতিতে পিতামাতা হিসাবে আমরা আজ বড় অসহায়। মামলার কাগজ উঠিয়ে দেখি দারোগা অভিজিৎ রায় আমার দু’ছেলের কাছ থেকে ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজা উদ্ধারের মিথ্যা বর্ণনা লিখেছেন আরজিতে। ওইদিন প্রকাশ্য দিবালকে জনবহুল এলাকার কেউ দেখেনি এসব মাদক উদ্ধার করতে। থানার কথা বলে নিরীহ দু’ছেলেকে নিয়ে যান দারোগা অভিজিৎ সহ অন্যান্যরা। বর্তমানে মিথ্যা মামলার ঘানি টানছে আমার দু’সন্তান। এই মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলার সম্পুর্ন কাকতালীয় ও উদ্দেশ্যমূলক। এ ব্যাপারে তিনি প্রশাসনের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টিদানে ন্যায় বিচারের জন্য হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

#