কপিলমুনিতে এক ব্যবসায়ীর সংবাদ সম্মেলন


351 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কপিলমুনিতে এক ব্যবসায়ীর সংবাদ সম্মেলন
অক্টোবর ১৮, ২০১৮ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি ::

হারিয়ে যাওয়া চেক নিয়ে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন অপচেষ্টা, অর্থ-সম্পদ লোপাটের প্রকাশ্য হুমকি ও চেক হারানোর খবরে হৃদরোগে পিতৃ মৃত্যুর জন্য জনৈক নাজমুলকে দায়ী করে বৃহস্পতিবার সকালে পাইকগাছার কপিলমুনি সিটি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।
কপিলমুনির দক্ষিণ সলুয়া গ্রামের মৃতঃ রামকৃষ্ণ দাশের ছেলে ও স্থানীয় মামুদকাটি মোড়ের মেসার্স ভাই ভাই স্টোরের স্বত্ত্বাধিকারী মুদি ব্যবসায়ী সন্দীপ কুমার দাশ একই এলাকার মোঃ নওয়াব আলী গাজীর ছেলে মোঃ নাজমুল হোসেন গাজীর বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১ টায় কপিলমুনি সিটি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
সম্মেলনে সন্দীপ লিখিত বক্তব্যে বলেন, তিনি তার ব্যক্তিগত ব্যবসায়ীক সুবিধার্থে বিভিন্ন সময় কপিলমুনি বাজারস্থ কমার্স ব্যাংকে ২ টি যথাক্রমে ০৪১২১০০০০০১৫৩, ০৪১৪৪২০০০০০৩৩ একাউন্ট ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে একাউন্ট নং ০০১১১০০০০০১০৯ খোলেন। সম্প্রতি কমার্স ব্যাংকের দু’টি একাউন্টের যার চেক নং- ১৫৮৭৮৫১ পাতা হইতে ১৫৮৭৯০০ পর্যন্ত মোট ৫০টি, চেক নং-১৮৫৫৯০১ পাতা হতে ১৮৫৫৯৫০ পর্যন্ত মোট ৫০টি এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে একাউন্ট’র যার চেক নং ৫৫৮১৩০১ পাতা হতে ৫৫৮১৩২৫ পর্যন্ত মোট ২৫ টি সর্বমোট ৩টি একাউন্টের ১২৫ টি পাতার চেক বহি হারিয়ে যায়। এরপর চেকগুলি সম্ভাব্য সব জায়গায় ব্যাপক খোঁজা-খুঁজির পর না পেয়ে এ ব্যাপারে গত ৩ অক্টোবর তিনি পাইকগাছা থানায় একটি জিডি করেন। যার নং ১৩৩।
চেক হারানোর বিষয়টি পরিবারের মধ্যে জানাজনি হলে তার পিতা তাৎক্ষণিক সহ্য করতে না পেরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পরদিন ৪ অক্টোবর দিবাগত রাত আনুমানিক ৯ টার দিকে আকস্মিক মৃত্যু বরণ করেন। ঘটনায় গোটা পরিবার যখন শোকে স্তব্ধ ঠিক এমন অবস্থায় ১৭ অক্টোবর ২০১৮ বেলা আনুঃ সাড়ে ১০ টার দিকে মোঃ নাজমুল হোসেন গাজী তার হারিয়ে যাওয়া চেক থেকে একটিতে ৪ লক্ষ টাকার অংক বসিয়ে কমার্স ব্যাংক কপিলমুনি শাখায় নিয়ে দাখিলপূর্বক টাকা উত্তোলনের জন্য অপচেষ্টা করে। বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ’র সন্দেহ হলে তারা তাকে বেলা ১১ টার দিকে ০১৭১৯-৩৬৩৭৮৬ নং মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার ব্যবহৃত ০১৭০৮-৬৩৬১৪২ ফোনে অবগত করেন। পরে সন্দ্বীপ ব্যাংকে হাজির হলে বিস্তারিত জানার পর অনাপত্তি জানালে চেকটি ঐ দিন ডিজ অনার না হলেও নাজমুল গং নানা ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে।
সম্মেলনে তিনি আরো দাবি করেন, নাজমুল ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনে ব্যর্থ হয়ে বিভিন্ন অপ-কৌশলে তার অর্থ-সম্পদসহ সর্বস্ব লুট করে নিতে বর্তমানে প্রকাশ্য দিবালোকে জনসম্মুখে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও হুমকি-ধামকি অব্যাহত রেখেছে। এমন অবস্থায় তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে।
সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, নাজমুল হোসেন একজন অসামাজিক ব্যক্তি। সে তার পিতা-মাতাকে পর্যন্ত মারধর করে। ইতোপূর্বে কপিলমুনি বাজারস্থ মুসলিম জুয়েলার্সের স্বত্ত্বাধিকারী আলহাজ্ব ফজলুর রহমানের নিকট থেকে ভাড়ায় একটি মোটরসাইকেল নিয়ে নিজ নামে কাগজ-পত্র তৈরিসহ আতœসাৎ ও লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে আতœসাৎ করে। বি,আর,ডি,পি,এস,এ কর্মরত থাকাবস্থায় মোটা অংকের অর্থ কেলেংকারীতে জড়িয়ে পড়লে কর্তৃপক্ষ তাকে তাড়িয়ে দিতে বাধ্য হয়। এছাড়া তার নিজ এলাকার জনৈক আজিজুর রহমান গাজীর রেকর্ডীয় জমি ভূমি দস্যু ও সন্ত্রাসী তান্ডব চালিয়ে সেখান থেকে উচ্ছেদ পর্যন্ত করেছে। গত রমজান মাসে তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় পিতা ও ভাইকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে জেল খাটায়। তাছাড়া সে এলাকার চিহ্নিত সমাজ বিরোধীদের সাথে সখ্যতা গড়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছে। সম্মেলনে তিনি তার ব্যবহৃত চেক উদ্ধারপূর্বক তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
##