কপিলমুনিতে কপোতাক্ষ নদের উপর সেতু নির্মাণে কাটছেনা দশাদিশে


217 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কপিলমুনিতে কপোতাক্ষ নদের উপর সেতু নির্মাণে কাটছেনা দশাদিশে
জুন ১৭, ২০২১ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

পলাশ কর্মকার ::

পানি উন্নয়ন বোর্ড সেতু নির্মাণ বন্ধ করলো, আর এলজিইডি নির্মাণে প্রস্তাব করছে। তবে সময় ও স্থানের ব্যবধান। শত বছর ধরে চলছে রশি টানাটানি। সেতু নির্মাণে কাল্পনিক অযৌক্তিক যুক্তি, মিথ্যা তথ্য সরবরাহ, অনিয়ম দুর্নীতি এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য পাওনা না পাওয়া ও মামলায় দশাদিশে কাটছে না কপিলমুনি সেতু নির্মাণে। ইতোমধ্যে প্রায় ২কোটি টাকা ধ্বংস হয়েছে, ২০০০ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ব্রীজ নির্মাণ শুরু করলেও তা অনিয়ম দুর্নীতির ফলে আংশিক নির্মাণের পর বন্ধ হয়ে যায়।
খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি থেকে সাতক্ষীরা সদর হয়ে সরাসরি কলিকাতা যাওয়ার সড়ক নির্মাণে স্বপ্ন দেখে ছিল আজ হতে শত বছর পূর্বে আধুনিক কপিলমুনির প্রতিষ্ঠাতা স্বর্গীয় রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধুু। সে মতো টাকাও সংগ্রহ করে ছিলেন তিনি। তৎকালীন কিছু প্রতিবন্ধকতায় সে সময়ও সেতু নির্মাণ সম্ভব হয়নি। তবে তৎকালীন সময় সেতু নির্মাণে টাকা কলিকাতার ব্যাংকে জমা রাখেন বলে তার জীবনী গ্রহন্থ থেকে জানা যায়। এলাকাবাসী বলছেন, কপিলমুনি খননকৃত কপোতাক্ষ নদের উপর দিয়ে সেতু নির্মাণ করে জেঠুয়া হয়ে সাতক্ষীরা সদর পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করলে শুধু দুরত্বই কমবে না; দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয়রা জানান, স্বাধীনতার পরবর্তী সময় এলাকাবাসী দীর্ঘ দিন ধরে আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছেন কপিলমুনি কপোতাক্ষ নদের উপর সেতু নির্মাণে। তারই ফলশ্রুতিতে ২০০০ সালে আওয়ামীলীগ সরকার সকল প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করে সেতু নির্মাণ কাজে হাত দেয়। কাজ কিছু দিন চলার পর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম দুর্নীতির ফলে বন্ধ হয়ে যায়। সে সময় সেতুটির আংশিক কাজ সম্পূর্ণ হয়। পরবর্তীতে পলি পড়ে নদীটি মরা খালে পরিণত হয়। সেই সাথে এলাকাবাসীর দীর্ঘ দিনের আন্দোলন-সংগ্রাম ও স্বপ্নের মৃত্যু হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, তৎকালীণ সময় কপিলমুনি-কানাইদিয়া সেতু নির্মাণ কাজে ব্যয় ধার্য করা হয় ১কোটি ৯৩ লাখ ৪২হাজার ৯০০শত ১৯টাকা ৫৫পয়সা। কাজের মান উন্নয়নের জন্য পরবর্তীতে বাজেট বাড়িয়ে করা হয় ২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এন হক এসোসিয়েট নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি ২০০০ সালের ১২ এপ্রিল সেতু নির্মাণ কার্যক্রম শুরু করে। এরপর ঐ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি ২০০৩ সালের ১২ নভেম্বর পর্যন্ত আংশিক কাজ করে আইএফআইসি ব্যাংক খুলনা শাখা হতে ১কোটি ৬৭লাখ ৭২২টাকা উত্তোলণ করে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। পরবর্তী পর্যায় বিষয়টি নিয়ে আদালত পর্যন্ত গড়ায়। খুলনা মহানগর হাকিম আদালতে দায়েরকৃত মামলা নং পি-৫৮/০৬ ধারা ৪০৬/৪২০/১০৯/৩৪। যার ফলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নামে মামলাসহ নানা জটিলতা ও দীর্ঘ সূত্রতার কারণে সেতু নির্মাণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। সেতুটির বাকী কাজ সমাপ্ত করতে ইসলাম গ্রুপ নামের আরো একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পুনরায় উক্ত নির্মাণ কাজ শুরু করে। সে সময় সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড কপোতাক্ষ নদের ¯্রােত এ বাঁধা পাবে মর্মে একটি চিঠি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে পাঠিয়ে দেওয়ায় সেতু নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। যার ফলে জেলার বৃহত্তম বাণিজ্যিক উপশহর কপিলমুনি-সাতক্ষীরার জেঠুয়া সংযোগ ব্রিজ ও সড়ক নির্মাণ কাজ ১৭ বছরেও সমাপ্ত হয়নি। যতদুর জানাযায় আইনি জটিলতা আজও তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে কপিলমুনি সেতু নির্মাণের জন্য অধিগ্রহণকৃত দু’পারের মানুষের শত শত একর জমি বাবদ তাদের প্রাপ্য টাকা আজও পরিশোধ করা হয়নি। অথচ ব্রিজ নির্মাণ হলে জেলার পাইকগাছা হতে সাতক্ষীরার দুরত্ব কমে যোগাযোগ ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নসহ বাণিজ্যিক সুবিধা লাভ করতো দক্ষিণাঞ্চলে কয়েকটি উপজেলার লাখ লাখ মানুষ। এক কালের করালগ্রাসী কপোতাক্ষের মৃত্যু হতে পারে এমন আশঙ্কায় যে চিঠি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে প্রেরণ করা হয়েছিল তার অবসান হয়েছে। কারণ পরবর্তীতে কপোতাক্ষ নদের মৃত্যু হয়ে মরা খালে পরিণত হয়। তবে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার প্রায় ২শ কোটি টাকা ব্যয় কপোতাক্ষ নদ খনন করে নতুন জীবন দিয়েছে। আবার দাবি উঠছে দুই উপজেলার লাখ মানুষের দুর্ভোগ লাগবে দ্রুত কপিলমুনি-কাইদিয়া সেতু নির্মাণ করা হোক।
এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান এম মফিদুল হক লিটু জানান, উপজেলা বিস্তৃীর্ণ জনপদের মানুষের নদী পারাপারে বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাঁকোটি দিয়ে পার হতে হয়। ইউনিয়নের মানুষের দূর্ভোগ লাঘবে এখানে ব্রীজ নির্মান জরুরী।
.

#