কপিলমুনিতে খাস্তা ইটে তৈরী হচ্ছে রাস্তা !


398 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কপিলমুনিতে খাস্তা ইটে তৈরী হচ্ছে রাস্তা !
সেপ্টেম্বর ১, ২০১৮ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

‘রাস্তায় এমন ইট দিচ্ছে যা গলে যাচ্ছে পানিতে ’

পলাশ কর্মকার ::
কোন রকম নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই খাস্তা ইটে রাস্তা তৈরীর মহোৎসবে মেতেছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। বেরিয়ে পড়েছে দুর্নীতির নানান দৃশ্য। অনেকটা শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মত। রাস্তার পাশে পাইলিং না করে পলিথিন দিয়ে পাইলিং করার দৃশ্য এখন সকলেরই চোখে পড়ছে। শুনা যায় রডের পরিবর্তে বাঁশ দিয়ে রাস্তা-ব্রিজের কাজ হচ্ছে। কিন্তু পাইলিং না করে পলিথিন দিয়ে পাইলিং মনে হয় এটাই প্রথম। এমনই একটি দৃশ্য দেখা যাবে পাইকগাছার কপিলমুনির নাছিরপুর হতে রেজাকপুর সড়কে। কোটি টাকার বেশী ব্যয়ে এলজিইডি পাইকগাছার নাছিরপুর-রেজাকপুরের ২৩০০ মিটার সড়কের কাজ শুরু করে চলতি বছরের প্রথম দিকে। যেখানে মাটি কেটে কাজের শুরুতে গোড়া পত্তন হয় দুর্নীতির। সরকারি নিয়ম না মেনে চাহিদার তুলনায় ফেলা হয় কম বালু। নামমাত্র তদারকি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীকে চোখে বৃদ্ধাঙ্গুল দিয়ে শুরু হয় দুর্নীতির মহোৎসব। নম্বর বিহীন খাস্তা ইটের খোয়া দিয়ে তৈরী হচ্ছে রাস্তা। সামান্য বৃষ্টিতে রসের পিঠার মত গোলতে শুরু করে ইট। কর্তৃপক্ষকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর অভিযোগ কোন আমলে না নিয়ে সরকার দলীয় নেতাদের নাম ভাঙ্গিয়ে দ্রুত কাজ করতে থাকে ঠিকাদার। তড়িঘড়ি খাস্তা ইটের স্তর ঢাকতে ফেলা হয় বালি।
স্থানীয় বাসিন্দা আলাল বলেন, দাম্ভিক ও সুচতুর ঠিকাদার অতিদ্রুত নিন্ম মানের ইটের উপর সামান্য পিকেট ভেঙ্গে ছড়িয়ে দিয়ে কোন রকম রুলার ব্যবহার করে খোয়াটা বসিয়ে দিয়ে এলাকা ছাড়ে। ঘটনাটি ঈদুল ফিতরের আগের।
পথচারী আম্বিয়া বেগমের অভিযোগ, কয়েক মাস কোন রকম কাজ না করে গত সপ্তাহ থেকে আবারও খোয়া ভাঙ্গতে শুরু করেছে রাস্তার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা। এদিকে গত কয়েক দিনের সামান্য বর্ষণে রাস্তার হেজিং ভেঙ্গে সৃষ্টি হয়েছে গর্ত। একাধিক স্থানে কোন পাইলিং না থাকায় পিচ ঢালাইয়ের আগেই দেখা দিয়েছে ফাঁটল। স্থানীয়রা বলেন, এসব স্থান পাইলিং ছাড়া যদি দায়সারা ভাবে কাজ করেন ঠিকাদার তবে সরকারের উন্নয়নমুলক কোটি টাকার প্রকল্প ভেস্তে যেতে পারে সামান্য টাকার পাইলিংয়ে।
কাজের দেখভালকারী কর্মকর্তা উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী বি এম ফরিদুজ্জামান মুঠোফোনে জানান, গত অর্থ বছরের কাজ হলেও স্থানীয় নানান জটিলতার কারনে কাজ করতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে কবে নাগাদ কাজ শেষ হবে তার সঠিক কোন দিনক্ষণ তিনি বলতে পারেননি। এদিকে দীর্ঘ দিন যাবত রাস্তায় খোয়া দিয়ে রাখার কারনে স্থানীয়দের খোয়ার উপর দিয়ে হাঁটতে এবং যানবাহনে চলাচল করতে নানাবিধ অসুবিধা হচ্ছে।
স্থানীয় আব্দুর রহিম গাজী জানান, ‘ইট দুই নম্বর হলেও ভালো ছিল। রাস্তায় এমন ইট দিচ্ছে যা গলে যাচ্ছে পানিতে, রোলার দেওয়া লাগবে না। রাস্তার একেক জায়গায় একেক রকম। রাস্তা তৈরীর আগেই ইতোমধ্যে রাস্তা অনেক জায়গায় ভেঙ্গে গেছে’। তিনি আরো জানান, ‘রাস্তা খুঁড়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৪ জোড়া স্যান্ডেল পাল্টানো হয়ে গেছে। আর যে কত জোড়া পাল্টাতে হবে তার ঠিক নেই। এতে করে জুতার দোকানদারদের লাভ হচ্ছে’।
এদিকে স্থানীয় লোকজন রাস্তার ভোগান্তিতে ফুঁসে উঠেছে। প্রায় ৮/৯ মাস রাস্তা খুঁড়া আছে। রহিম গাজী অনেকটা আক্ষেপ করে বলেন, পাবলিকের যত টাকা স্যান্ডেলের পিছনে ব্যায় হয়েছে সেই টাকায় রাস্তা হয়ে যেতো। অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ প্রকল্পে পাইলিং এর জন্য কোন বরাদ্দ নেই। এদিকে এলাকাবাসী জানিয়েছেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড সামান্য টাকার কারনে ব্যাহত হতে চলেছে। রাস্তা তৈরীর আগে যদি সিডিউলে সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষ পাইলিং এর জন্য আলাদা বরাদ্দ রাখতো তাহলে রাস্তা তৈরীতে কোন সমস্যাও হতোনা। এখন যত ভোগান্তি জনগণের। এর থেকে কবে যে এলাকাবাসী পরিত্রান পাবে তার কোন সময় সীমা নেই। অপরদিকে সংশ্লিষ্ঠ কাজ পেয়েছে জিয়াউল ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। যদিও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কাউকে তেমন দেখা যায়না। স্থানীয় একাধিক সুত্র জানিয়েছে, ঠিকাদারের কাছ থেকে একজন সাব-কনটাক্টার নিয়ে উক্ত রাস্তার কাজ করছেন। মুল ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কাউকে দেখা যায়না। এককথায় কাজের শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত কাজের কোন নিয়মনীতি নেই। প্রতিপদে শুধু দুর্নীতি আর অনিয়ম ভর করছে। স্থানীয় এলাকাবাসী অনতিবিলম্বে রাস্তার ভোগান্তির হাত থেকে রক্ষা পেতে সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। স্থানীয়রা নির্মাণ কাজে অনিয়মের প্রতিবাদ জানাতে সোমবার বিকালে নির্মাণধীন ওই রাস্তার উপরই মানববন্ধন করবে বলে জানা গেছে।
##