কপিলমুনিতে খ্রিষ্টান মিশনের ব্যাপ্টিষ্ট অপহরণ মামলা কাকতালীয়


109 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কপিলমুনিতে খ্রিষ্টান মিশনের ব্যাপ্টিষ্ট অপহরণ মামলা কাকতালীয়
জুন ১৭, ২০১৯ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ভিকটিম আদম ব্যাপারী তুষার পুলিশের খাঁচায় !

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি ::

পুলিশ অভিযান চালিয়ে অপহরণ মামলার ভিকটিম কপিলমুনির কাশিমনগর খ্রিষ্টান মিশনের সাবেক ব্যপ্টিষ্ট চার্জ তুষার বিশ্বাসকে আটক করেছে। রবিবার রুপসা উপজেলার কুদির বটতলা এলাকা থেকে ভিকটিম তুষারকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে পাইকগাছা থানায় হস্তান্তর করা হয়।
অভিযোগসূত্র ও পুলিশ জানায়, বাগেরহাটের কাঠান্দুলা গ্রামের রনজন বিশ্বাসের ছেলে তুষার বিশ্বাস প্রায় ৭/৮ বছর পূর্বে পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনির কাশিমনগর খ্রিষ্টান মিশনের ব্যাপ্টিষ্ট চার্জ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঐসময় স্থানীয় ঋষি পাড়ার বিভিন্নজনের সাথে ভাল সম্পর্কের জের ধরে স্থানীয় ৫ যুবককে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এরপর দীর্ঘ দিনেও তাদের বিদেশে না পাঠিয়ে নানা তালবাহানা করতে থাকে। এক পর্যায়ে ভুক্তভোগী ৫ ব্যক্তি তাদের টাকার দাবীতে প্রশান্ত দাসকে বাদী করে তুষারের নামে পাইকগাছা আদালতে একটি মামলা করে। যার নাং সি আর ৩২৬/১৭, তারিখ ২৫/৬/১৭। উক্ত মামলা বিচারাধীন থাকাবস্থায় মামলায় দায়ী হতে পারে ভেবে ধুর্ত তুষার তার স্ত্রী সীমা রাণী বিশ্বাসকে বাদী করে অপহরণের মিথ্যা অভিযোগে কাশিমনগর গ্রামের মৃতঃ গোকুল দাশের ছেলে নীলকোমল দাশ, পাগল দাশের ছেলে প্রশান্ত দাশ, সিদাম দাশের ছেলে নির্ম্মল দাশ ও নীল কোমল দাশের ছেলে সীমান্ত দাশকে আসামী করে বাগেরহাট থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। যার নং-৬, তারিখ ৭/১১/১৮। ঐ মামলায় ইতোমধ্যে নীল কোমল ও প্রশান্ত জেলও খেটেছেন। এদিকে পাওনা টাকা অনাদায় ও মিথ্যা অপহরণ-গুম মামলায় দিশেহারা পরিবারগুলি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন যে, তুষার নিজ এলাকায় আতœগোপন করে আছেন। এমন খবরে তারা বাগেরহাট এলাকায় সোর্সও নিয়োগ করেন। একপর্যায়ে রোববার জানতে পারেন যে, কুদির বটতলা এলাকার একটি মেলায় অবস্থান করছেন কথিত অপহৃত ও প্রতারক আদম ব্যবসায়ী তুষার। এমন খবরে মামলার কাগজপত্রাদিসহ পাইকগাছা-স্থানীয়থানা পুলিশের সহযোগীতায় বিকেলের দিকে তাকে প্রথমে আটক ও পাইকগাছা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে পাইকগাছা থানায় নিয়ে আসে। সোমবার তাকে আদালতে সোর্পদ করা হতে পারে।
ভূক্তভোগী এলাকাবাসী জানায়, তুষার কাশিমনগর খ্রিষ্টান মিশনের ব্যাপ্টিষ্ট থাকাকালীণ এলাকার প্রশান্ত দাশ, নির্ম্মল, সীমান্ত, মিলন ও শংকরকে বিদেশে চাকরী দেয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা নিয়ে আতœগোপন করে। পরে এনিয়ে প্রতারিতরা তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করলে পরিকল্পিতভাবে গুমের নাটক করে তাদের বিরুদ্ধে স্ত্রী সীমাকে দিয়ে একটি মিথ্যা গুমের মামলা করিয়ে দেয়। এদিকে কথিত অপহরণের ভিকটিম তুষার আটকের পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্বস্থি ফিরেছে ভুক্তভোগী পরিবারের মাঝে।