কপিলমুনিতে গৃহবধু সালমার রহস্যজনক মৃত্যু


365 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কপিলমুনিতে গৃহবধু সালমার রহস্যজনক মৃত্যু
অক্টোবর ২০, ২০১৬ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

কপিলমুনি প্রতিনিধি :
কপিলমুনির কাজীমুছায় গৃহবধূ সালমা বেগম কি আতœহত্যা করেছিল, নাকি সে হত্যার শিকার ? এমনই প্রশ্ন এখন এলাকাবাসীর মনে ঘুর পাক খাচ্ছে। গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে দু’পরিবারের মধ্যে মোটা অংকের রফার বিনিময়ে এখন পর্যন্ত থানায় কোন হত্যা মামলা দায়ের হয়নি। থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে, যার নং ৪৮/১৬।
এলাকাবাসী জানায়, শুধুমাত্র সন্দেহবশত গত প্রায় ৩ বছর যাবৎ নিহতের স্বামী মোঃ রোকনুজ্জামান কাগজী তাকে বিভিন্ন সময় ব্যাপক শারিরীক ও মানষিক নির্যাতন করত। এমনকি রাতে নিজের চিংড়ি ঘেরে যাওয়ার সময় স্ত্রী সালমাকে ঘরের বাইরের গ্রীলে তালা দিয়ে রেখে যেত। তাই রাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে সালমাকে ঘরের মধ্যে রাখা বালতির সাহায্য নিতে হত। ঘটনার দিন সকালে সংবাদ সংগ্রহে গেলে এলাকাবাসী সাংবাদিকদের কাছে এমন অভিযোগ তুলে ধরেন।
নিহতের একমাত্র ছেলে সাইফুল¬া (৮) জানায়, প্রতি রাতের ন্যায় ঘটনার রাতেও তার পিতা রাতের খাবার খেয়ে ঘেরে চলে গিয়েছিল। তবে পরে আর সে ঐ রাতে বাড়িতে আসে কিনা তা সে জানেনা। প্রসংগত, বুধবার সকালে উপজেলার কপিলমুনির কাজীমুছা গ্রামের মোঃ রোকনুজ্জামান কাগজীর বাড়ি থেকে তার স্ত্রী সালমা বেগমের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তাৎক্ষণিক নিহতের পিত্রালয় থেকে আসা তার ভাই আঃ রশিদ সহ অন্যান্যরা অভিযোগ করেছিলেন রোকন তার বোন সালমাকে হত্যা করে গলায় ওড়না পেচিয়ে লাশ ঘরের আঁড়ায় ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, উদ্ধারের সময় লাশের পা খাটের উপর ভাজ করা ছিল। এছাড়া তার মুখ দিয়ে গেঁজা বেরুচ্ছিল। খবর পেয়ে স্থানীয় কপিলমুনি ফাঁড়ি পুলিশ ঐদিনই তার মৃত দেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
এদিকে বৃহস্পতিবার নিহতের লাশ স্বামীর বাড়িতে না নিয়ে তার পিত্রালয় তালার মহান্দী গ্রামে দাফনের জন্য নেওয়া হয়। এতে এলাকাবাসীর সন্দেহ আরো ঘণিভূত হয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, পারিবারিকভাবে বিষয়টি মিটিয়ে নিতে রোকনসহ তার বাড়ির লোকদের গতকাল সকালে সালমার ভাইয়েরা তাদের বাড়িতে ডেকে পাঠিয়েছে। সেখানে নাকি প্রস্তাব দেয়া হয়েছে যে, নিহতের ছেলে সাইফুল¬ার নামে নগত ১লক্ষ টাকা ও ১ বিঘা জমি লিখে দিলে তারা তার নামে কোথাও কোন মামলা করবে না। এলাকাবাসীর দাবি, সঠিক পুলিশি তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসতে পারে।
এবিষয়ে কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ী ইনচার্জ মোঃ বরকত হোসেন বলেন, নিহতের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত ঠিক বলা যাচ্ছেনা সে আতœহত্যা করেছে নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে।