কপিলমুনিতে চিংড়ি ঘেরে ভাইরাস : চাষীরা সর্বশান্ত


344 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কপিলমুনিতে চিংড়ি ঘেরে ভাইরাস : চাষীরা সর্বশান্ত
মে ৯, ২০১৬ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি
খুলনার কপিলমুনিতে মৌসুমের শুরুতেই চিংড়ি ঘেরে দেখা দিয়েছে ভাইরাস। বাজারজাত করার আগেই অধিকাংশ চিংড়ি ঘেরের চিংড়ি মরে যাচ্ছে। এদিকে অন্য বছরের তুলনায় এবছর চিংড়ির মূল্য অর্ধেক হওয়ায় চাষীরা ব্যাপক ভাবে ক্ষতি হচ্ছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানাযায়, জেলার গুরুত্বপূর্ণ এএলাকায় ৮০’র দশকে শুরু হয় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চিংড়ি চাষ। শুরুর দিকে চিংড়ি চাষ অধিক লাভজনক হওয়ায় কপিলমুনিসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে পড়তে থাকে এ চাষ ব্যবস্থা। ৯০ দশকের মাঝামাঝিতে দেখাদেয় ভাইরাসসহ নানা রোগ বালাই। বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে চিংড়ি শিল্পকে এগিয়ে নিতে থাকেন এশিল্পে সংশ্লিষ্টরা। এবছর অর্ধেকেরও কমে নেমে এসেছে চিংড়ির বাজার মূল্য। ফলে চড়া মূল্যে হারির টাকা দিয়ে ঘের করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন চাষীরা। এ যেন মরার উপর খাড়ার ঘা; এমন অবস্থার শিকার তারা। প্রতাপকাটী গ্রামের ঘের ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম জানান, এবছর চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৩০০-৬০০  টাকায়। এছাড়াও প্রতি বছর মৌসুমের শুরুতেই চাহিদা বেশি থাকায় হ্যাচারী মালিকরা পোনার দাম বাড়িয়ে দেয়। অনেক চিংড়ি চাষী বলছেন চিংড়ি বাজারের এ দুরাবস্থা চলমান থাকলে ভবিষ্যতে চিংড়ি চাষ ও ব্যবসা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তন, দূর্বল নার্সারী, তাপমাত্রা ওঠানামা, ত্রুটিপূর্ণ ঘের ব্যবস্থাপনা এবং চাষাবাদে ভাইরাসমুক্ত পোনা ব্যবহার না করা ও চাষের ক্ষেত্রে আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ না করাটা চিংড়িতে ভাইরাসসহ অন্যান্য রোগ বালইয়ের কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আরেক ঘের ব্যবসায়ী অমিত হালদার জানান, চিংড়িতে ভাইরাস ও বিক্রি মূল্য হ্রাসের কারণে এবছর আমারা একেবারেই ধরাশয়ী। ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে চিংড়ি চাষ করেছি, কিভাবে সেটা পরিশোধ করবো তা ভেবে পারছিনা।
বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম খ্যাত হচ্ছে হিমাইত চিংড়ি, যা রপ্তানি করে সরকার প্রচুর বৈদেশিক মূদ্রা অর্জন করে থাকে। এ পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকরা বলছেন, চিংড়ির বাজার মূল্য বৃদ্ধি, ভাইরাসসহ অন্যান্য রোগ বালাই  দমন করার ক্ষেত্রে সরকারীভাবে কার্যকরী পদক্ষেপ না নিলে চিংড়ি শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে, আর দেশ হারাবে বৈদেশিক মূদ্রা।
##