কপিলমুনিতে প্রবল বর্ষণে মৎস্য ঘের ও জনহিতকর প্রতিষ্ঠান প্লাবিত


452 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কপিলমুনিতে প্রবল বর্ষণে মৎস্য ঘের ও জনহিতকর প্রতিষ্ঠান প্লাবিত
আগস্ট ১০, ২০১৬ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

পলাশ কর্মকার,কপিলমুনি :
গত ২ দিনের প্রবল বর্ষণে কপিলমুনির অসংখ্য মৎস্য ঘের ভেসে গেছে। কয়েকটি জনহিতকর প্রতিষ্ঠান এখন পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। কপোতাক্ষের নাব্যতা হ্রাস, আর অতি বৃষ্টিকেই দায়ী করছেন এলাকাবাসী।

সরেজমিনে দেখা যায়, কপিলমুনি হাসপাতাল, কালী মন্দির, জাফর আউলিয়া মাজার, অনুকূল চন্দ্রের সৎ সংঘ মন্দির, বিনোদ বিহারী শিশু বিদ্যালয়, জাফর আউলিয়া মাদ্রাসা, জাফর আউলিয়া জামে মসজিদ সহ শত শত সাধারণ মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। কপোতাক্ষের নাব্যতা হ্রাস আর অতি বষর্ণের ফলে এসমস্যা সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন এলাকার ভূক্তভোগী মানুষ। সূত্র জানায়, প্রতিবছর এ এলাকায় অসংখ্য পরিবার পানিবন্দি জীবন যাপন করে থাকে। উল্লেখিত জনহিতকর প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের পদচারণা ঘটে। কপোতাক্ষ নদীর ওপার কানাইদিয়া থেকে প্রতি দিন কয়েক হাজার মানুষ ব্যবসাসহ নানা প্রয়োজনে কপিলমুনিতে আসে, আর আসতে গেলেই  প্লাবিত এলাকা দিয়ে নেংরা পানির সাথে যুদ্ধ করতে হয়। এ অবস্থা দীর্ঘদিন চলতে থাকলেও যেন পরিত্রাণ নেই।

এদিকে কপিলমুনি এলাকার নিম্নাঞ্চল সমূহে চিংড়ি চাষ এলাকা নামে খ্যাত  গোয়লবাথান, চিনামলা, হাউলী, একাতড়, আব্দুল খালী, রেজাকপুর, কাশিমনগর, শ্রীরামপুর, উত্তর সলুয়া, নাবা, প্রতাপকাটী, পুটিমারী, তালতলা, নাছির সহ এলাকার প্রায় ২সহ¯্রাধিক মৎস্য ঘের জলমগ্ন হয়ে একাকার হয়ে গেছে। জলমগ্ন এসব মৎস্য ঘের সমূহে বাগদা গলদা ও সাদা মাছ উজানের পানিতে ভেসে গেছে। এলাকার শতশত কাঁচা ঘরবাড়ী ধ্বসে পড়েছে। মৎস্য ঘের সমূহে ক্ষতির পরিমান প্রায় ৫ কোটি টাকা। কাঁচা রাস্তাগুলো বর্ষা ও বাতাসের ঝাঁপটায় বিনষ্ট হয়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এলাকার শত শত মূল্যবান গাছপালা উপড়ে বিদ্যুতের তারের উপর পড়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত কপিলমুনি অঞ্চলে গত মঙ্গলবার থেকে বিদ্যুৎ ছিল না। চিংড়ি ব্যবসার এ ভরা মৌসুমে দু’দিনের প্রবল বর্ষণে লিজ ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত উঠার উপক্রম হয়েছে। চলতি চিংড়ি মৌসুমে এ ধরনের ক্ষতির কারণে লিজ মালিকরা ব্যাংক লোন নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে বর্ষণে নিম্ন আয়ের মানুষের দূর্দশার শেষ নেই। অনেক গ্রামের হতদরিদ্র মানুষের কাঁচা ঘর ধ্বসে পড়ায় অন্যের বাড়ীতে আপাতত আশ্রায় নিয়েছেন।

ঘের মালিক এইচ এম এ হাশেম জানান, বাগদা চিংড়ি মৌসুমের শুরু থেকে একর পর এক ভাইরাসের কারণে দিশেহারা ছিল এলাকার ব্যবসায়ীরা।  শ্রাবণে একটু স্বস্তি পাওয়ার পর পরই প্রবল বর্ষণের কারণে আবারো চিন্তায় পড়ে গেলাম। মহাজনী লোন আর ব্যাংক দেনা কিভাবে পরিশোধ করবো।