কপিলমুনিতে বৃক্ষরোপনে ঝুঁকছে মানুষ : চারাগাছের বাজার জমজমাট


414 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কপিলমুনিতে বৃক্ষরোপনে ঝুঁকছে মানুষ : চারাগাছের বাজার জমজমাট
সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৮ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

পলাশ কর্মকার ::
চাল-ডালসহ নিত্যপণ্যের পাশাপাশি অন্ততঃ একটি করে গাছ যেন চাই…..চাই। জনসচেতনতা বৃদ্ধির কারণে মানুষের মৌলিক চাহিদার পাশাপাশি নিজ উদ্যোগে বৃক্ষায়ন কর্মসূচীতে যেন প্রতিযোগীতায় নেমেছে মানব সমাজ। আর তাই কপিলমুনিতে রবি ও বৃহস্পতিবার হাটের দিনে ক্রেতাদের ভীড় সামলিয়ে গাছের চারা কিনছেন সর্বস্তরের ক্রেতারা। ২০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০/১০০ টাকায় একটি গাছের চারা সংগ্রহ করে তা বাড়িতে নিয়ে রোপন করছেন নিন্ম আয়ের মানুষ। এতে মধ্যবিত্ত্ব বা বিত্ত্বশালীরাও বসে নেই, তারাও রীতিমত বৃক্ষের চারা কিনে ভ্যান বোঝাই করে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন। রবিবার হাটের দিনে খুলনার ঐতিহ্যবাহী বানিজ্যিক কেন্দ্র কপিলমুনিতে চারা গাছের বাজারের চিত্রটা প্রত্যক্ষ করলেই মনে হয় যেন প্রত্যেক মানুষ প্রতিযোগীতা শুরু করেছেন। গাছ কিনতে আসা শিক্ষক আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে হলে আমাদের গাছ লাগাতে হবে, এর কোন বিকল্প নেই।’এলাকায় বৃক্ষায়ন কর্মসূচীতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির কারণে বৃক্ষায়নের এমন দৃশ্যপট আমাদের সামাজিক পরিবেশকে আরোও তরান্বিত করবে।
জানাগেছে, সরকারের বনায়ন কর্মসূচীর আওতায় বৃক্ষরোপন কর্মসূচী ও জন-সচেতনতা বৃদ্ধিতে তৃণমূল পর্যায় এর কার্যক্রম চলছে। উপজেলা পর্যায় বৃক্ষায়ন কর্মসূচীতে বিনা মুল্যে চারাগাছ বিতরণ করা হচ্ছে। যে কারণে ”গাছ লাগান পরিবেশ বাঁচান” শোগানে একাতœতা প্রকাশ করে এলাকার মানুষ প্রতিদিনকার সাংসারিক খরচ বাঁচিয়ে নুন্যতম একটি গাছের চারা ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন। এলাকার বিভিন্ন নার্সারী মালিকরা ফলজ বৃক্ষের পাশাপাশি মেহগনি, শিরিশ, ইউক্লেপটাস, নিম, গামারী, সেগুন ইত্যাদী গাছের উৎপাদন করে তা বাজারে বিক্রি করছেন। ২০ টাকা থেকে শুরু করে ২০০/২৫০ টাকায় উন্নত গাছের চারা সরবরাহ ও বিক্রি হচ্ছে। এমনকি ভাল জাতের চারা গাছ সংগ্রহে আগাম বায়নাও করছেন অনেকে। অত্র অঞ্চলের নার্সারী মালিকরা নিজ এলাকার চাহিদা মিটিয়ে গাছের চারা বাইরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় রপ্তানী করছেন। যে কারণে অধিক মুনাফা উপার্জিত হচ্ছে নার্সারী মালিকদের।
সুত্রমতে, ৮০’র দশকের পর হতে দক্ষিণ পশ্চিম উপকুলীয় এলাকা সমুহে মৌসুমী বায়ুর প্রভাব ও বিভিন্ন সময়ে ঝড়, বন্যা, জলোচ্ছাস-এ সাবাড় করে দেয় দক্ষিন উপকুলীয় এলাকার বনবৃক্ষরাজি। বিভিন্ন সময়ে জলোচ্ছাস ও বন্যায় লবন পানির প্রভাবে মারা গেছে মূল্যবান গাছপালা। আর এ কারণে দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ বনায়ন সরাসরি ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে গেছে; পরোক্ষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে প্রায় ১০ শতাংশ গাছপালা। শুধু তাই নয়, পরপর দেশে স্মরণ কালের ভয়াবহ ঘুর্ণিঝড় আইলা, সিডর, নারগিস লন্ডভন্ড করে দেয় সুন্দরবনসহ উপকুলীয় এলাকা। যার ফলে সামাজিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় রীতিমত হুমকির মুখে পড়ে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে ফলজ বৃক্ষের পাশাপাশি অধিক হারে বৃক্ষরোপন বা বনায়ন করতে পারলে সার্বিক পরিবেশ রক্ষা পাবে।