কপিলমুনিতে বৃষ্টির ফোঁটা পড়লেই চলে যায় বিদ্যুৎ : জনদুর্ভোগ চরমে


374 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কপিলমুনিতে বৃষ্টির ফোঁটা পড়লেই চলে যায় বিদ্যুৎ : জনদুর্ভোগ চরমে
এপ্রিল ২৪, ২০১৭ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

পলাশ কর্মকার ::
গ্রীষ্মকাল চলছে; প্রচন্ড দাবাদহ, বর্ষাকাল আগত, এরই ফাঁকে দু’এক দিন ভারী বাতাস সমান্য বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তাই একটু বৃষ্টির ফোঁটো পড়লে আর বাতাস উঠলেই কপিলমুনিতে চলে যায় বিদ্যুৎ। এমনি ভাবেই চলছে বেশ কিছু দিন। ভ্যাপসা ওই অসহনীয় প্রচন্ড গরমে বিদ্যুতের লোডশেডিং এভাবেই করলেও  যেন কোন পরিত্রান নেই।

জানাযায়, প্রতিদিন কপিলমুনি এলাকায় বিদ্যুৎ যায় ৮-১০ বার। এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালীন এমন অবস্থা বিরাজমান। সম্প্রতি এলাকাটিতে বিদ্যুতের লোডশেডিং ভয়াবহতায় রুপ নিয়েছে। দিন ও রাতের কিছু কিছু সময় এমন হয় যে, মিনিটে ৫/৬ বার বিদ্যুৎ যায় আর আসে। অবস্থা দৃষ্টে মনে হয় এ যেন নতুন লাইন চেকআপ হচ্ছে। মেঘ থেকে বৃষ্টি ফোঁটা পড়লে আর বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেই বিদ্যুৎ চলে যায়। মিল কলকারখানাসহ বিদ্যুৎ চালিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো লাঠে উঠতে বসেছে। বরফ মিলগুলোতে চাহিদার তুলনায় বরফ উৎপাদন না হওয়ায় মৎস্য বাজারজাতকরণে ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন অসংখ্য ব্যবসায়ী। এমন অবস্থা দীর্ঘ দিনের, তারপরও যেন পরিত্রাণ নেই বৃহত্তর এ জনগোষ্ঠীর।

ভূক্তভোগীদের অভিযোগ, স্থানীয় বিদ্যুৎকর্তারা পরিকল্পিতভাবে লোডশেডিং করছেন। ভূক্তভোগী কপিলমুনির রেজাকপুর গ্রামের শাবানা বেগম বলেন, প্রতিদিন বহুবার বিদ্যুৎ যায়, আচমকা বারবার বিদ্যুৎ যাওয়া আসা করার ফলে টিভি ফ্রি লাইট বারবার নষ্ট হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ‘নামেই এখানে একটি অভিযোগ কেন্দ্র রয়েছে, অভিযোগ জানালে অফিসের কর্তারা কোন কর্নপাত করেন না, বরং বলে বসেন এভাবেই চলবে যদি কিছু করতে পারেন তো করেন’।

চাউল ব্যবসায়ী সুকান্ত কুমার মনা বলেন, আমাদের এখানে রাত পোহায় লোডশেডিং দিয়ে আর সারাটা দিন বিদ্যুৎ যায় আর আসে। বিদ্যুৎ অফিসে ফোন দিলে ফোন ধরা হয় না, কখনো কেটে দেওয়া হয়, আবার কখনো ফোন বন্ধ রাখা হয়।

এই হলো কপিলমুনি এলাকার বিদ্যুৎ থাকা আর না থাকার গল্প। এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালীন বিদ্যুতের এমন ভেলকিবাজি মেনে নিতে পারছেন না কোন মানুষই। পরীক্ষার্থী ইমরান বলেন, ‘দিন রাতে বর্তমানে অনেকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে ফলে আমাদের পড়া লেখার মারাতœক ব্যাঘাত ঘটছে’।

এবিষয়ে পল্লী বিদ্যুতের কপিলমুনি অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জ নুর আলম বলেন, ‘বর্তমানে মেইন লাইনের কাজ চলছে, তাই তালা থেকে বিদ্যুৎ দিয়ে চালানো হচ্ছে। লাইনের কাজ শেষে হলে সমস্যা সমাধান হবে’।