কপিলমুনিতে ভরাট করা সহচরী সরোবরটি পুনঃ খনন করে গড়ে তোলা যেতে পারে পর্যটন স্পট


69 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কপিলমুনিতে ভরাট করা সহচরী সরোবরটি পুনঃ খনন করে গড়ে তোলা যেতে পারে পর্যটন স্পট
জুন ১৭, ২০১৯ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি ::

ভরাট করা কপিলমুনি সহচরী সরোবরটি পুনঃখনন করে দর্শনীয় পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তোলার দাবী তুলেছেন এলাকাবাসী। কপিলমুনি উন্নয়নের নানা দাবীর মধ্যে এটি তাদের অন্যতম প্রধান দাবী। কপিলমুনির বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের সরোবরটি খননের প্রানের দাবীতে পরিনত হয়েছে। সরোবরটি যারা সংহার করেছে তাদের প্রতি মূহুর্তে ধিক জানাচ্ছে স্থানীয়রা। কপিলমুনি বাজারের ¯্রষ্টা স্বর্গীয় রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধু ১৯৩৯ সালে কপিলমুনি মেহেরুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দক্ষিন পাশে ৫২ শতক জমির উপর তার মমতাময়ী মায়ের নামানুসারে “সহচরী সরোবর” খনন করেন। পরবর্তিতে সরোবরটি নুনদার পুকুর হিসাবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। পুকুরটির উত্তর ও পূর্ব দিকে পুরুষ এবং মহিলাদের জন্য পৃথক পৃথক দুটি দৃষ্টি নন্দন প্রশস্ত সান বাঁধানো সিড়ি ঘাট নির্মান করেন। কপোত চক্রের ন্যায় স্বচ্ছ ও শীতল পানি আর সারা মৌসুম জুড়ে একই গভীরতায় পানি থাকা এ সরোবরটির ছিল অনন্য বৈশিষ্ট। গ্রীস্মের প্রচন্ড দাবদাহে ওষ্ঠাগত এলাকাবাসী আর শত শত পরিশ্রান্ত হাটুরে ও ব্যবসায়ীরা এ সরোবরের শীতল জলে অবগাহন করে পরম তৃপ্তিলাভ করতো। শুধু তাই নয় এ সরোবরের পানি দিয়ে স্থানীয়রা রান্নাবান্না সহ ঘর গৃহস্থলীর নানা কাজে ব্যাবহার করতেন। জনস্বার্থে পুকুরটি ছিল অবারিত।
জানাযায়, ২০০৪ সালে খুলনা জেলা বোর্ড সরোবরটি বালু দিয়ে ভরাট করে দেয়। কি উদ্দেশ্যে, কাদের স্বার্থে, সরোবরটি ভরাট করা হলো তার সঠিক ব্যাখ্যা তারা দিতে পারেনি। বর্তমানে ভরাট হওয়া সরোবরটি অনেক মূল্যবান জায়গা ভূমিগ্রাসীদের দখলে চলে গেছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে জায়গাটির পুরো অংশ ভুমিগ্রাসীরা গিলে খাবে। এমনটাই জানালেন কপিলমুনির বিশিষ্ট জনরা। তবে তারা বর্তমান সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে সরোবরটি পুন: খননের দাবী জানিয়েছেন। কপিলমুনির গুরুত্ব আর প্রকৃতির বৈরিতার কথা বিবেচনা করে সরোবরটি পুন: খনন এখন সময়ের দাবীতে পরিনত হয়েছে।
এলাকার অনেক শিক্ষক, আইনজীবি, রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীরা জানান, যে মহান উদ্দেশ্যে রায় সাহেব সরোবরটি খনন করেন সেটা ভরাট করে তার আত্মার কষ্ট দেয়া হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন একটা কায়েমী স্বার্থন্বেষী মহলের স্বার্থ রক্ষার্থে সরোবরটি ভরাট করা হয়েছে। কেন? কি উদ্দেশ্যে সরোবরটি ভরাট করা হলো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে স্থানীয় সংসদ ও ভূমি মন্ত্রনালয়ের দৃষ্টি আকর্ষন পূর্বক সরোবরটি পুন: খননের জন্য কপিলমুনি বাসী জোর দাবী জানিয়েছেন।
এবিষয়ে কপিলমুনি বিনোদ স্মৃতি সংসদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও পাইকগাছা আইনজীবি সমিতির সাঃ সম্পাদক এড. দীপংকর সাহা বলেন, ‘জনস্বার্থে রায় সাহেব পুুকরটি খনন করেছিলেন কিন্তু বালি দিয়ে ভরাটের পর তা আর জনস্বার্থে কাজে লাগছে না। রায় সাহেব নিয়েই দীর্ঘ দিনের গবেষনা থেকে বলবো তাঁর চিন্তাচেতনা অবশ্যই সঠিক ছিল, প্রয়োজনের খাতিরেই তিনি নিজের অর্থ ব্যয় করে পুকুর কেটেছিলেন। কিন্তু জনস্বার্থের কথা না ভেবেই পুুকরটি সরকার ভরাট করে, যা আদৌ ঠিক হয়নি বলে আমার মনে হয়। সর্বশেষ বলবো, রায় সাহেবের স্মৃতিটুকু ধরে রাখতে সহচরী সরোবর পুনঃ খনন দরকার।’
কপিলমুনি গুণীজন স্মৃতি সংসদের সভাপতি আঃ সবুর আল আমীন বলেন, ‘রায় সাহেব প্রতিষ্ঠিত সহচরী সরোবরটি কালক্রমে হয়ে গেল নুন্দার পুুকুর, বর্তমানে বালি দিয়ে ভরাট করা তাই হয়ে গেল বালির মাঠ, জানিনা এরপর আর কি নামকরণ হবে। জনস্বার্থে ব্যবহৃত পুকুরটি যে শেষমেষ বালি মাঠে পরিণত হবে এমন স্বপ্ন তো দেখেননি রায় সাহেব বিনাদ বিহারী সাধু ? বালির মাঠে প্রবেশ করতে হলে নাকে রুমাল দিতে হয় কারণ এর একটা অংশ ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। আমি সরকারের কাছে দাবী রাখবো, অবিলম্বে পুকুরটি খনন করে একটি দর্শনীয় পর্যটন স্পটে রুপান্তর করা হোক।’

#