কপিলমুনিতে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও!


621 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কপিলমুনিতে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও!
এপ্রিল ২৫, ২০১৭ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

পলাশ কর্মকার ::
বিদ্যুতের অব্যাহত লুকোচুরি ও ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা গত সোমবার রাতে কপিলমুনি বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করেন । শতশত ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ মিছিল সহকারে স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিসটি ঘেরও করে রাখেন। জন বিক্ষোভ আঁচ করতে পেরে ঘেরাওয়ের কয়েক মিনিটি আগেই কর্তৃপক্ষ অফিসে তালা মেরে পালিয়ে যায়। অফিসের সামনে ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ করতে থাকলে সংবাদটি স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ীর এস আই বরকত হোসেন বিক্ষোভকরীদের বিদ্যুৎ সরবরাহে আশ্বস্ত করায় তারা শান্ত হন।
ব্যবসায়ীরা জানান, কপিলমুনি বিদ্যুৎ অফিসের ইনচার্জ নুর আলম এখানে যোগদানের পর থেকেই বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং শুরু হয়। চরম স্বেচ্ছাচারী, অব্যবস্থা ও দায়িত্বহীনতার মধ্য দিয়ে তিনি তার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
ভূক্তভোগীরা আরো জানান, দীর্ঘদিন বিদ্যুতের এই লুকোচুরিতে মিল কারখানার স্বাভাবিক উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। স্থানীয় বরফ কারখানাগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী বরফ উৎপাদন না হওয়ায় হিমায়িত খাদ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পোল্ট্রী খামারীরা ব্যাপক লোকশানের মুখে পড়েছেন। গত ইরি মৌসুমে কৃষকরা ঠিকতম শেচকাজ চালাতে পরেননি। বর্তমানে এই লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরো বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতাল ও ক্লিনিকের রোগীরা ভিষণ কষ্ট পাচ্ছেন।
স্থানীয় গ্রাহক মানোয়ার হোসেন শিকদার জানান, কপিলমুনি থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৩৩ লক্ষ টাকা বিদ্যুৎ বিল আদায় করা হয়। এখানে বিলের টাকা পেতে কর্তৃপক্ষের কোন ঝামেলা পোহাতে হয় না। অথচ বিদ্যুৎ সরবরাহে কেন এই গাফিলতি। তিনি ক্ষোভের সাথে আরো জানান, পার্শ্ববর্তী কানাইদিয়া ও তালায় নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ চলছে। তাবে আমরা কেন এ বৈষম্যের শিকার?
শিক্ষক জ্যোতি বিশ্বাস জানান, চলমান এইচএসসি বোর্ড পরীক্ষা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ম সাময়িক পরীক্ষার পরীক্ষার্থীরা বিদ্যুতের অভাবে পড়ালেখা করতে পারছে না। তাই এর প্রভাব পড়ছে পরীক্ষার উপর।
কপিলমুনি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী হাওয়া ও রোজ জানায়, দিনে রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় গ্রীষ্মের এই প্রচন্ড তাপদাহে তারা ঠিকমত পড়ালেখা করতে পারছে না, এ করণে তাদের পরীক্ষাও ভাল হচ্ছে না। কপিলমুনির গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে কথিত লোডশেডিংয়ের নামে পুনরায় বিদ্যুৎ নিয়ে লুকোচুরি খেললে এর বিরুদ্ধে কঠোর কর্মসূচী দেওয়া হবে বলে ব্যবসায়ীরা হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন।