কপিলমুনিতে লাঠে উঠতে বসেছে ঘড়ির ব্যবসা, কমছে ব্যবহার


1584 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কপিলমুনিতে লাঠে উঠতে বসেছে ঘড়ির ব্যবসা, কমছে ব্যবহার
এপ্রিল ৯, ২০১৭ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি ::
সময় জানতে এক সময় অফিস, বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে প্রায় সব সময় মানুষের হাতে শোভা পেতো ঘড়ি। কিন্তু কালের বিবর্তনে অতীত হতে চলেছে এমন দৃশ্যপট। সস্তা ও সহজ লোভ্য মোবাইল ফোনে ঘড়ি সংযুক্ত থাকায় সীমিত হয়ে এসেছে জনপ্রিয় অনুষঙ্গটির ব্যবহার। এ অবস্থায় সারা দেশের মতো কপিলমুনিতেও ঘড়ি ব্যবসায় চলছে মন্দাভাব। দূর্দিন চলছে ঘড়ি মেরামতকারীদের, পেশা ছাড়ছেন অনেকেই।
জানাগেছে, মুঠো ফোনে সংযুক্ত রয়েছে ঘড়ি -টর্চলাইটসহ নানা ফ্যাশান। যার কারণে ঘড়ির ব্যবহার বিশেষ করে হাত ঘড়ির ব্যবহার ক্রমশ কমে আসছে। সেই সাথে ক্ষয়িষ্ণু হচ্ছে টর্চ লাইটের ব্যবহারও। রাত্রির অন্ধকারে টর্চ লাইটের ব্যবহার মিটিয়ে দিচ্ছে মোবাইল। আলাদা করে ব্যাটারী পাল্টানোর ঝামেলাও নেই এতে। মোবাইল ফোনে সংযুক্ত ঘড়ির উপর নির্ভর করে চলছেন সবাই। কোন অনুষ্ঠান সেমিনারে উপস্থিত বিষয়টি ভুলে যাওয়ার এতে সম্ভাবনা নেই। রিমাইন্ডার এ্যালার্ম স্মরণ করিয়ে দেবে কখন কোথায় কোন প্রোগাম আছে। তবে ফ্যাশান সচেতন ও রুচিশীল ব্যক্তিত্বের কাছে এখনো কমেনি এই ঘড়ির কদর। ভালো পোশাকের সাথে দামী ব্রান্ডের ঘড়ির ব্যবহার তাদের কাছে আগের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। তবে সর্ব সাধারণের ভেতর ঘড়ি ব্যবহারের রেওয়াজ যে অনেকাংশে কমে গেছে তা নিশ্চিত বলে মনে করছেন সচেতনরা। ফলে কপিলমুনি এলাকায় ঘড়ির দোকানগুলো আর আগের মতো জমজমাট নেই। তাই অনেকে ঘড়ি ব্যবসার সাথে তাদের দোকানে অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর পসরা সাজিয়েছেন। এখানকার ব্যবসায়ীরা যেন এক প্রকার উপায় না পেয়ে ঘড়ির দোকানগুলোতে মোবাইল ফোন, ফোনের চার্জার, সিমকার্ড, মেমোরি কার্ডসহ নানান ইলেকট্রনিকস্ সামগ্রী সাজিয়েছেন, কেউ দিচ্ছেন ফ্লেগজিলোডও। অনেক মোবাইল ঘড়ির মেকানিক এখন পেশা পাল্টেছেন। অন্য পেশা বেছে নিয়ে কোন রকমে জীবিকা নির্বাহ করছেন। কেউবা আবার আকড়ে ধরে আছেন পুরনো পেশাটা। মেয়েদের হাত ঘড়ি এখন আর মোটেও বিক্রি হয় না, তারা সম্পূর্ন মোবাইলের উপর নির্ভরশীল।
বাজরটির ঘড়ির দোকানী বিশ্বজিৎ অধিকারী বলেন, ‘পুর্বের তুলনায় ঘড়ি কেনাবেচা একদম কম। প্রতি বছর বোর্ড পরীক্ষার সময় কিছু ঘড়ি বিক্রি হয়, কারণ পরীক্ষা হলে মোবাইল নিসিদ্ধ; তাই বাধ্য হয়ে পরীক্ষার্থীরা ওই সময় ঘড়ি কিনেন।
স্বর্ণপট্টির ঘড়ি মেকানিক আব্দুল্যাহ আল-মামুন বলেন, ‘সেই ১৯৮৫ সাল থেকে ঘড়ি মেরামত পেশায় আছি; একটা সময় কাজ করে পারতাম না, আর এখন প্রায় সময় বসেই থাকতে হয়’। কিছুদিন দেখছি অল্প দামের ঘড়ি মেরামতের জন্য খরিদ্দার আসছে’।