কপিলমুনি কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে তালা রিপোটার্স ক্লাবে সাংবাদ সম্মেলন


739 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কপিলমুনি কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে তালা রিপোটার্স ক্লাবে সাংবাদ সম্মেলন
আগস্ট ৮, ২০১৫ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

তালা প্রতিনিধি :
কপিলমুনি কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে তালা রিপোটার্স ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকালে উক্ত সাংবাদিক সম্মেলন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তালা উপজেলার খলিলনগর গ্রামের মৃত. আফতাব উদ্দীনের পুত্র আব্দুল গফুর মোড়ল।
লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, দীর্ঘ ৮ বছর খুলানা জেলার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি কলেজে অধ্যক্ষ পদ শূন্য থাকায় উপাধ্যক্ষ বাবু ত্রিদিব কান্তি মন্ডল ভারপ্রাপ্ত অধ্যÿক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কলেজটিতে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সময় ৮ থেকে ১০ বার পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী প্রত্যেকবার একাধিক প্রার্থী আবেদন করেন। কিন্তু প্রার্থীদের কাছ থেকে চাহিদা মোতাবেক ঘুষের অর্থ না পাওয়ায় নানান অযুহাত দিয়ে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।
তিনি আরো বলেন, খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রা) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. শেখ মো. নুরুল হক পদাধিকার বলে কপিলমুনি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সভাপতি হবার পর থেকে কলেজের অধ্যক্ষসহ অন্যান্য পদে নিয়োগ দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ বানিজ্য’র জন্য বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। সম্প্রতি তিনি জাতীয় এবং আঞ্চলিক পত্রিকায় কলেজের সকল শূন্য পদের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেন। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর অধ্যক্ষ পদে আমিসহ ২৩ জন আবেদন করি। গত ০৭/০৮/১৫ ইং তারিখ শুক্রবার ছিল অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পরীক্ষা। পরীক্ষার ভেন্যু হিসেবে খুলনা বিএল কলেজ, দৌলতপুর নির্ধারন করা হয়। উক্ত নিয়োগ পীরক্ষায় অংশগ্রহণ করার পূর্বেই আমরা সকল প্রার্থীরা জানতে পারি যে, কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও সংসদ সদস্য অ্যাড. শেখ নুরুল হক একক প্রভাব বিস্তার করে মো. হাবিবুল্লাহ বাহার নামের এক আলোচিত ছাত্রদল ক্যাডারকে ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেবার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। তিনি বর্তমানে খুলনার দিঘলিয়াস্থ আলহাজ্ব সরোয়ার খান কলেজের শিক্ষকতা করেন। বিষয়টি আমরা জানতে পেরে পরীক্ষা বর্জন করি। বক্তব্যে তিনি আরো জানান, সংসদ সদস্য শেখ নুরুল হক ব্যাপক অনিয়ম এবং ২০ লক্ষ টাকার ঘুষ বানিজ্য করে শুক্রবার জুম্মার নামাজের পূর্বে একই কলেজের প্রার্থীসহ ২জন প্রার্থীকৈ পরীক্ষায় অংশগ্রহন করান। এতে করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ক্রম পূরণ না হওয়ায় জুম্মার নামাজের পরে এমপি একই কলেজের (সরোয়ার খান কলেজ) আবেদনকারী আরেক শিক্ষককে বাড়ি থেকে মোবাইলে ডেকে নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণে বাধ্য করান। সাংবাদিক সম্মেলনে আরও বলা হয়, গফুরসহ সকল পরীক্ষার্থী কপিলমুনি কলেজের নিকটবর্তী বাসিন্দা এবং উক্ত কলেজের শুভাকাঙ্খি। কলেজের সভাপতিকে চাহিদা মোতাবেক ঘুষের টাকা দিতে না পারায় মেধাবী এবং যোগ্য প্রার্থীদের কৌশলে বাদ দিয়ে অনৈতিক ভাবে, অনিয়ম আর দুর্নীতির মাধ্যমে অযোগ্য, মেধাহীন ও এক আলোচিত ক্যাডারকে কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেবার চেষ্টা চালাচ্ছে।
উক্ত মেধাহীন ক্যাডার যদি কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পায়, তাহলে কলেজটি তার ঐতিহ্য হারানোর পাশাপাশি কলেজের শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্র¯Í হবে। এ জন্য তিনিসহ সকল প্রার্থী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দুর্নীতি আর অনিয়মের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে যাওয়া উক্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করার দাবী জানান ।