কপিলমুনি সংবাদ ॥ যাদু সূর্য আর পি সাহা ছিলেন দক্ষিণাঞ্চলের প্রখ্যাত জাদুকর


837 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কপিলমুনি সংবাদ ॥ যাদু সূর্য আর পি সাহা ছিলেন দক্ষিণাঞ্চলের প্রখ্যাত জাদুকর
জানুয়ারি ১৯, ২০১৯ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি ::
দেশের যাদু শিল্প অঙ্গনের ধ্রুবতারা জাদুকর রামপদ সাহা (আর,পি,সাহা) এর আজ যুগপুর্তি মৃত্যু বার্ষিকী। ২০০৭ সালের ২০ জানুয়ারী মাত্র ৫৫ বছর বয়সে তিনি মৃত্যু বরণ করেন। ২০০০ সালের ২ মে গড়–ইখালীতে নিজ মঞ্চে যাদু প্রদর্শনীর সময় হঠাৎ অসুস্থ্য হয়ে পড়লে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্দ হয়ে তিনি মৃত্যু বরন করেন।
জানাযায়, দেশ মাতানো এই যাদুকরের ইন্দ্রজালে বন্দি হননি এমন মানুষ কম ছিল। দেশ তথা পদ্মার এপারের জনপদে আর,পি,সাহার সেকাল একালের যাদু দেখে মুগ্ধ হতো দর্শকরা। তার নিজস্ব জোনাকী যাদু চক্রের মঞ্চে অবাক করা যাদু খেলার পাশাপাশি কিছু বিপদ জনক যাদু দেখিয়ে হাজার হাজার ভক্ত দর্শকের ভালবাসায় সিক্ত হতেন। প্রচার বিমুখ এই যাদুকরের যাদু মঞ্চে যাদু প্রদর্শনের সময় আকর্ষনীয় অঙ্গ ভঙ্গি মিষ্টি হাসি আর সুন্দর বাংলা শব্দের বাচন ভঙ্গি দর্শকদের হৃদয় ছুয়ে যেত। উজ্জল বর্নের অত্যন্ত সুদর্শন এ যাদুকরকে অনেকে পারস্যের যাদুকর বলে অবহিত করতো। যাদুর প্রতিটি ইভেন্টে তাঁর শৈল্পিক প্রতিভার কারনে তিনি পৌঁছেছিলেন অনন্য উচ্চতায়। নির্লোভ সদালোপি মিষ্ট ভাষী আর,পি সাহা আমৃত্যু পর্যন্ত অসাম্প্রদায়িকতার চেতনা লালন করেছিলেন। এলাকার বিভিন্ন শ্রেনীর পেশা, বর্নগোত্র ও ধর্মের মানুষের সাথে তার ছিল গভীর মিতালী। হিংসা ও অহংকার বোধ কখনো ছুতে পারেনি তাকে। কালজয়ী যাদুকর হবার স্বপ্ন সাধনা তাকে সব সময় তাড়িয়ে বেড়াত। কিন্তু সরকার ও বিভিন্ন গোষ্টীর আর্থিক পৃষ্টপোষকতার অভাবে এই গুনী লোকটি তার ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি। তার স্বপ্ন সারথি যাদু খেলার আধুনিক সব ইভেন্টে বিচরন না করায় এক বুক ব্যাথা নিয়ে এই অবেলায় মহা প্রয়ানে যাবেন এটা তার ভক্তরা বুঝতে পারেনি। তিনি সব সময় চীনের দেওয়াল ভেদকারী বিশ্ববিখ্যাত যাদুকর ডেভিড কপারফিল্ড, ডাইভ অব ডেথ এর যাদুকর ডেভিড ব্রেইন, নদীর উপর হাটা যাদুকর স্টিভেন ফ্লেয়ন ডায়ানামো হবার স্বপ্ন দেখতেন। তবে বিশ্ববিখ্যাত আরেক যাদুকর হ্যারি হুডিনির অভিনব উপায়ে পলায়ন কর্মের খেলাটি তিনি দেখিয়ে তাঁদের কাতারে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। জীবদ্দশায় আর পি সাহা তার একমাত্র সন্তান পি সি সাহা (প্রকাশ চন্দ্র সাহা) কে এ শিল্পকে ধরে রাখতে উৎসাহিত করতেন। অনেক বড় মাপের যাদুকর হতে স্বপ্ন দেখাতেন। বাবার মৃত্যুর পর উচ্চ শিক্ষিত সন্তান পি,সি সাহা বাবার দেখানো পথে কিছুদুর হেটে থমকে যান। বাবার মত সরকারী পৃষ্টপোষকতা না পেয়ে প্রচন্ড আর্থিক দৈন্যতার কারনে তিনি অন্য পেশায় চলে যান। সেখানে চাকুরীর পাশাপাশি ডিপার্টমেন্টাল এর বিভিন্ন প্রোগ্রামে যাদু প্রদর্শন করে থাকেন । তিনি ভারত, নেপাল, সিঙ্গাপুর, মালেশিয়া,থাইল্যান্ড, জার্মানী, ফ্রান্স ,ইতালী, দুবাই সহ বিভিন্ন দেশে যাদু প্রদর্শন করেছেন।
পি সি সাহা বলেন, ‘বাবার যাদু খেলার সব অনুসঙ্গ যখন অবলোকন করি তখন ভুলে যাওয়া বেদনার নোনা জল দু চোখকে সিক্ত করে।’
আর,পি সাহা ১৯৭৫ সালে খুলনা কমার্স কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ১৯৭৭ সালে একই কলেজ থেকে ¯œাতক ডিগ্রী লাভ করেন। ১৯৬৬ সালে মীনা ম্যাজিক পার্টির অবিসংবাদিত যাদু শিল্পী প্রফেসর আব্দুর রশিদ কপিলমুনির মাঠে মহা বারুনী মেলা উপলক্ষে যাদু প্রদর্শন করেন। প্রফেসর রশিদের যাদু দেখে ভীষণভাবে মুগ্ধ হলেন। তখন পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র আর পি সাহার চৌদ্দ বছর বয়স। সেদিন পার্শ্ববর্তী কপোতাক্ষ নদের পাড়ে দাঁড়িয়ে তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন আমি ভবিষ্যতে যাদু শিল্পী হব। এরপর ১৯৬৭ সালে তিনি ভারতে যেয়ে যাদু স¤্রাট পিসি সরকারের সাথে দেখা করে তার প্রতিষ্ঠিত অল ইন্ডিয়া ম্যাজিক সার্কেলে যোগ দিয়ে এর সদস্য পদ লাভ করেন, যার নং ৪১৭৫। ঐ বছর ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে যাদুর যাদুকর পিসি সরকারের কাছে যাদু শিল্পে হাতে খড়ি হয়। ১৯৬৮ সালের জানুয়ারী মাসে তিনি জীবনে প্রথম মঞ্চে যাদু প্রদর্শন করেন। ১৯৫২ সালের ২০ জানুয়ারী খুলনা জেলার কপিলমুনি গ্রামের এক নি¤œ বিত্ত কৃষক পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। তার পিতার নাম লোলিত মোহন সাহা আর গুনগর্ভা মায়ের নাম সুস্মিতা সাহা শশী। জীবদ্দশায় তিনি বহু পুরুস্কারে ভূষিত হন।

#

কপিলমুনিতে প্রীতি ক্রিকেট খেলা অনুষ্ঠিত
পলাশ কর্মকার ::
কপিলমুনিতে প্রীতি ক্রিকেট খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বেলা ১১ টায় কপিলমুনি সহচরী বিদ্যা মন্দির স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে কপিলমুনি জুয়েলার্স সমিতির বিবাহিত একাদশ বনাম অবিবাহিত একাদশের মধ্যে খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলায় বিবাহিত একাশ জয়লাভ করে।
১৬ ওভারের খেলায় বিবাহিত দলের অধিনায়ক পলাশ দে ও অবিবাহিত দলের অধিনায়ক শুভংকর দে টচ করে অবিবাহিত একাদশকে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত দেয়। অবিবাহিত একাদশ ১৫ ওভার ১ বলে ১০৯ রানে অল আউট হয়। জবাবে বিবাহিত একাদশ ১০ ওভার ৪ বলে ৪ ইউকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষে পৌঁছায়।

#

কপিলমুনিতে তাফসির মাহফিলের প্রস্তুতি মুলক সভা অনুষ্ঠিত
পলাশ কর্মকার ::
কপিলমুনি বায়তুস সালাম কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের উদ্যোগে ও উন্নয়ন কল্পে আগামী ১১ই ফেব্রুয়ারী তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের প্রস্তুতিমুলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার জুম্মাবাদ অনুষ্ঠিত উক্ত সভায় খতিব মুফতি মাওঃ আঃ হান্নানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ কওছার আলী জোয়াদ্দার, সাবেক উপাধ্যক্ষ মোঃ আফসার আলী, ডাঃ আজমল হোসেন, আলহাজ্ব এরফান আলী মোড়ল, ইউনুস সিদ্দিকী, মনজুরুল ইসলাম, শেখ আমিরুল ইসলাম, সাঈদ গোলদার, মোঃ আসাদুল গাজী, আসলাম গাজী, ওবাইদুল ইসলাম, হাফেজ মফিজুল ইসলাম। এ সময় চেয়ারম্যান কওছার আলী জোয়াদ্দারকে আহবায়ক ও সরদার গোলাম মোস্তফাকে সদস্য সচিব করে ৩৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির নাম প্রস্তাব করা হয়।

#