কপিলমুনি সংবাদ ॥ সরিষার ফুলে যার রুটি-রুজি


569 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কপিলমুনি সংবাদ ॥ সরিষার ফুলে যার রুটি-রুজি
জানুয়ারি ১১, ২০১৬ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি ॥
সর্ষের ফুল নেবে কেউ সর্ষের ফুল, প্রত্যেক আটি ১০ টাকা। এভাবেই প্রতিনিয়ত সরিষার ফুল হাতে নিয়ে ডাক ছাড়েন লোকটি। জীবিকার টানে ক্ষেতের সরিষার ফুল তুলে এনে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খুলনার কপিলমুনি বাজারের অলি-গলিতে ৫/১০ টাকায় বিক্রি করে জীবন সংগ্রামে টিকে থাকা পেশা, তিনি হলেন ওই এলাকার আমজেদ মিয়া। প্রতিনিয়ত অত্যন্ত কষ্ট করে জীবিকা অর্জন  করলেও তাতেই সদালাপী মিষ্টভাসী ষাটর্ধো আমজেদ যেন অনেক সুখী। সোমবার দুপুর ১২টায় জীবন সংগ্রামের এ মানুষটির ছবি  নিয়েছেন আমাদের কপিলমুনি প্রতিনিধি পলাশ কর্মকার।
##

 

উদ্ভাবন নিয়ে ব্যস্ত কপিলমুনির ক্ষুদে কৃষি উদ্ভাবক আজিজুর
বসে নেই কপিলমুনির ক্ষুদে কৃষি উদ্ভাবক এস এম আজিজুর রহমান। একের পর এক নতুন নতুন উদ্ভাবন করেই চলেছেন তিনি। প্রতিনিয়ত নতুন উদ্ভাবনের লক্ষ্যে গবেষনায় জীবনের মূল্যবান সময় ব্যয় করলেও  তার ভাগ্যে আজও জোটেনি সরকারী স্বীকৃতি|aziz kapilmuni
জানা যায়, পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়নের কাজিমূছা গ্রামের মোঃ আনছার আলী মোড়লের ছেলে আজিজুর। ছোট বেলা থেকে ছিলেন ভাবুক প্রকৃতির। বাল্যকাল কাটিয়ে উঠে তিনি যখন পা বাড়ালেন শৈশবে, আর তখন থেকেই জীবনটা কে অন্য ভাবে কাটানোর করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ভেবেছেন কিভাবে জীবনের মূল্যবান সময় মানুষের সেবায় লাগানো যায়। সাধনা শুরু করলেন, তিনি একে একে আবিস্কার করেন জৈব ও বালাই নাশক কুইক কম্পোজ, ইমু, বুকাশি,ও ভার্মি সার, গবাদী পশুর জৈব খাবার। যা ব্যবহারে পরিবেশে কোন ক্ষতি হয় না, নেই কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া। এসংক্রান্ত প্রতিবেদন ফলাও করে পত্রিকান্তরে প্রকাশ ও টেলিভিশনের পর্দায় আজিজুরের আবিষ্কার নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন সম্প্রচারও হয়েছে একাধিকবার। ফলে তার উদ্যাম আরও বেড়ে যায়। সম্প্রতি তিনি মাননীয় প্রধান মন্ত্রী বরাবর বিশেষ কোটায় আর্থিক অনুদান পাওয়ার জন্য আবেদনও করেছেন। আম ও ধানের ভাল ফলনের জন্য ঔষধ ও মাছের জৈব খাবার আবিস্কার করেছেন যা ব্যবহার করে এলাকার হাজার হাজার মানুষ উপকৃত হয়েছেন। পাইকগাছার দঃ সলুয়ার আল্লাদ শিকদার, গলডাঙ্গার আব্দুল করিম, বিরাশীর সরদার কামাল, উঃ সলুয়ার আফছার শেখ ও অর্জুন কর্মকার তার উদ্ভাবিত পণ্য ব্যবহার করেছেন ফল ভাল হয়েছে। হরিঢালী ইউনিয়নের  উত্তর সলুয়া গ্রামের অর্জুন কর্মকার বলেন, আমার মৎস্য ঘেরে আজিজুরের উদ্ভাবিত জৈব খাদ্য প্রয়োগ করে মাছ অধিক মোটা হয়েছে।
উদ্ভাবন নিয়ে মোঃ আজিজুর রহমান প্রতিবেদক কে বলেন, “আমার দীর্ঘ দিনের সাধনার ফল ধানের জন্য কুইক কম্পোজ, ইমু, বুকাশি, ভার্মি সার, আম এবং সর্বশেষ মৎস্য ও গরুর জৈব খাবার উদ্ভাবন। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো আমার কর্মের উপর আজও সরকারী স্বীকৃতি ও সাহায্য মেলেনি।” এ ব্যাপারে সরকারী সাহায্যের জন্য সংশ্লিষ্ট মহলের সুদৃষ্টি চান তিনি।