কপিলমুনি সংবাদ ॥ সিটি প্রেসক্লাবে ডাঃ অজিয়ার রহমানের সংবাদ সম্মেলন


418 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কপিলমুনি সংবাদ ॥ সিটি প্রেসক্লাবে ডাঃ অজিয়ার রহমানের সংবাদ সম্মেলন
ডিসেম্বর ৮, ২০১৫ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি :
কপিলমুনি সিটি প্রেসক্লাবে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে  কপিলমুনি জাফর আউলিয়া ফাজিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ডাঃ অজিয়ার রহমানের সংবাদ সম্মেলন মঙ্গলবার দুপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনের আয়োজক কাশিমনগর গ্রামের মরহুম পরশ উল্লাহ মোড়লের ছেলে ডাঃ অজিয়ার রহমান লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ৩০ নভেম্বর দৈঃ সময়ের খবর ও  কল্যাণ পত্রিকায় জমিদান করলেন একজন প্রতিষ্ঠাতা অন্যজন শিরোননামে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তা আমার দৃষ্টি গোচর হয়েছে।

উক্ত সংবাদ প্রকাশে আমি মর্মাহত হয়েছি। আমার পিতা মরহুম পরশ উল্লাহ মোড়ল ১৯৫৮ সালে কপিলমুনি জাফর আউলিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। এসময় কপিলমুনি বাজারে তাঁর বসতবাড়ী ও কয়েক খানা দোকান ছিল।

তিনি আরো বলেন, আমার পিতা ও চাচারা তৎকালীণ গাতীদার ছিলেন। তিনি কর্মজীবি ও বহু প্রতিভার অধিকারী এক জন মানুষ, তিনি রাড়–লী কো-অপারেটিভ ব্যাংকের ক্যাশিয়ার ছিলেন, পাশাপাশি তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী ছিলেন।  তাঁর উপর্জিত সিংহ ভাগ অর্থ সমাজ সেবা ও মানুষের কল্যাণে দান করতেন।

পাশাপাশি কপিলমুনি ইউপির নির্বাচিত মেম্বর হিসাবে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। এসকল কর্মকান্ডের ধারাবাহিকতায় তিনি কপিলমুনি জাফর আউলিয়া ফাজিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। অথচ প্রকাশিত দু’টি দৈনিকে সে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তা সঠিক নয়।

তৎকালীণ আমার পিতা ২হাজার ৮শ পঞ্চাশ টাকা মাদ্রাসার কল্যাণে রেখে যান। লিখিত বক্তব্যে ডাঃ অজিয়ার আরো দাবী করেন মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত(১৯৭১) পরউল্লাহ মোড়ল প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। পরিশেষে তিনি উক্ত মাদ্রাসা সম্পর্কে সঠিক খবর প্রকাশ করার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহব্বান জানান।
##
আজ ৯ ডিসেম্বর কপিলমুনি মুক্ত দিবস
কপিলমুনি  প্রতিনিধি :
আজ ঐতিহাসিক ৯ডিসেম্বর কপিলমুনি মুক্ত দিবস। কপিলমুনিবাসীর জন্য এক গৌরবময় আনন্দের দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে কপিলমুনির মুক্তিকামী দামাল ছেলেরা পাকহানাদের পরাজিত করে এলাকাটি শত্রুমুক্ত করে।

তথ্যানুসন্ধানে যায়, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর, রাত ১২ টা, চারিদিক নিস্তব্দতা, মৃত্যু ভয়ে আতংকিত মানুষ ঘর ছেড়ে বনজঙ্গলে ও নিরাপদ স্থানে আশ্রায় নেয়। কোলাহলমুক্ত ভূতুড়ে পরিবেশ গোটা কপিলমুনিতে। শুরু হয় রাজাকার ঘাটিতে মুক্তিযোদ্ধাদের শাড়াশি আক্রমণ। কপিলমুনির পাশ্ববর্তী প্রতাপকাটি কাঠের পুলের উপর স. ম. বাবর আলীর মুক্তিবাহিনীকে রাজাকাররা চ্যালেঞ্জ করতেই মুক্তিবাহিনীর মেশিন গর্জে ওঠে।

সেখানে ৮জন রাজাকার গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু বরণ করে। এরপর মুক্তিবাহিনী কপিলমুনির নাথপাড়ায় ডিউটিরত অসংখ্য পাকবাহিনীর সদস্যদের  গুলি করে মারে। কানাইদিয়া নদীর ওপার থেকে আরসিএলের আওয়াজ গোটা এলাকা প্রকম্পিত করে তোলে। চতুর্দিক থেকে শাড়াশি আক্রমণ শুরু করে মুক্তি বাহিনী। দীর্ঘ  সময় যুদ্ধের পর আনোয়ার মাথায় গুলি বিদ্ধ হয়ে শহীদ হন ও তোরাব আলীর পেটে গুলি লেগে আহত হন। রাজাকারদের  দূর্ভেদ্য ঘাঁটি আধুনিক কপিলমুনির রুপকার স্বর্গীয় রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধুর সুরম্য অট্টালিকা তুল্য বাড়ীটি পাকবাহিনী আর তাদের দোসররা দখল করে নেয়।

এই বাড়ীর একটি কক্ষে এলাকার সুন্দরী যুবতীদের ধর্ষন করতো তারা, একটি কক্ষে গৃহপালিত পশু ধরে এনে রেখে রান্না করা হতো, অন্য একটি কক্ষে তারা রাত্রী যাপন করতো। ঐ ভবন থেকেই তারা অত্রালাকায় যুদ্ধ ও শোষণ করার নীল নকশা আঁকতো। এদিকে একে একে মুক্তি বাহিনীর কাছে পাকবাহিনী ও তাদের দোসররা পরাজিত হতে লাগলো। ৬,৭ও ৮ ডিসেম্বর বিরতীহীন ভাবে যুদ্ধ চলে, অবশেষে ৯ ডিসেম্বর সকাল ১০ টায় ১৫৬জন রাজাকার মুক্তি বাহিনীর কাছে আত্মসমার্পন করে। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে হাজার হাজার নারী পুরুষ কপিলমুনিতে জড়ো হয়। এরপর কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দীরের মাঠে গনমানুষের রায়ে ১৫৬ জন রাজাকারকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে মারা হয়।
##
কপিলমুনিতে বিজয় দিবসের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত
কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি :
কপিলমুনিতে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের প্রস্তুতি সভা মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় কপিলমুনি মেহেরুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকা রহিমা আখতার শম্পার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত সভায় বক্তব্য রাখেন কপিলমুনি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ হাবিবুল্যা বাহার, সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ অজিয়ার রহমান, সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ কবির আহম্মেদ, বীরমুক্তিযোদ্ধা সরদার  ফারুখ আহম্মেদ, পিটিএ কমিটির সভাপতি এইচ এম সোহরাব হোসেন, কপিলমুনি সিটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক পলাশ কর্মকার, ক্রিড়া সম্পাদক স ম নজরুল ইসলাম, গুণীজন স্মৃতি সংসদের সভাপতি আঃ সবুর আল অমীন, হরিঢালী ইউপির সদস্য এইচ এম  আবুল কাশেম, সাংবাদিক মহানন্দ অধিকারী মিন্টু, ইয়াছিন মোড়ল প্রমুখ।