কপিলমুনি হাসপাতালে শয্যা ও জনবল বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি


370 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কপিলমুনি হাসপাতালে শয্যা ও জনবল বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি
অক্টোবর ২০, ২০১৮ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

পলাশ কর্মকার ::

কপিলমুনির ঐতিহাসিক ও বর্ধিষ্ণু জনপদের শত বছরের পুরনো কপিলমুনি হাসপাতালটিকে শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি ও আধুনিক চিকিৎসা সেবা প্রাপ্তি এখন সময়ের দাবি। হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়ন ও শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধির দাবিটা এলাকার মানুষের শুধু প্রানের দাবিই নয় সঠিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণ এখন অতীব জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, পাইকগাছা, কয়রা ও তালা থানার লাখ লাখ মানুষ সে সময় ছিল সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত। তাই বৃহৎ এই কয়’টি থানার অসংখ্য মানুষের সুচিকিৎসার কথা ভেবে কপিলমুনির প্রয়াত দানবীর রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধু ১৯২৫ সালের ৭এপ্রিল ৩একর জমিতে প্রতিষ্ঠা করেন ২০ শয্যা ভরত চন্দ্র হাসপাতাল। মার্বেল পাথর খচিত সুরম্য অট্টালিকা, ডিসপেনসারী কক্ষ, কলেরা ওয়ার্ড, কর্মচারী কোয়াটার, ডাক্তারদের আবাসিক ভবন, লাশ রাখার ঘর, শৌচাগার, অপারেশন থিয়েটার, ডেলিভারী কক্ষ সহ লোহার তৈরী ঘোরানো পেচানো সিড়ি, বৃহৎ একটি পুকুর, সীমানা প্রাচীরসহ কোলকাতা থেকে আনা আধুনিক যন্ত্রপাতি। যার অনেক কিছুই এখন নষ্ট হয়ে গেছে, আধুনিক সেই সব যন্ত্রপাতি হাসপাতালটিতে এখন আর চোখে পড়েনা। মহা-দানবীর রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধু কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ২০শয্যার হাসপাতালটি ১৯৭১ সালে সরকারী করণের সময় প্রতিষ্ঠাতার দেওয়া নাম পরিবর্তন করে নামকরণ করা হয় কপিলমুনি ১০ শয্যা সরকারী হাসপাতাল।
তৎকালীন জেলা পরিষদ, হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতার প্রদেয় অর্থের লভ্যাংশ দ্বারা পরিচালিত হত। হযরত পীর জাফর আউলিয়া, মহাভারতীয় যুগে মুনি কপিল, বৌদ্ধ যুগের বাগনাথমহন্ত স্মৃতি বিজড়িত এবং কপোতাক্ষ তীরবর্তী দক্ষিণ খুলনার সর্ববৃহৎ বাণিজ্য নগরী। দানবীর রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধু যার আধুনিক রূপকার। জগৎ বিখ্যাত বিজ্ঞানী আচার্য স্যার পি সি রায় এর অনুপ্রেরণায় বিনোদ বিহারী সাধু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি শিক্ষা, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার জন্য বাণিজ্যিক কেন্দ্র, টেকনিক্যাল স্কুল, উপসানালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে হাসপাতাল নির্মাণে তৎকালীন সময়ে নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যবস্থাসহ এক্স-রে মেশিন স্থাপন করেন। তৎকালীন খুলনা সদর হাসপাতালেও উন্নত চিকিৎসার জন্য ছিলনা কোন এক্স-রে মেশিন। উর্দ্ধতন কর্মকর্তার বিশেষ অনুরোধে কপিলমুনি হাসপাতালের এক্স-রে মেশিনটি সদর হাসপাতালে নিজ খরচে ভবন নির্মান সহ প্রতিস্থাপন করেন রায় সাহেব, যাহা আজও দৃশ্যমান।
নাছিরপুর গ্রামে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা শেখ নেছার আলী জানান, এই ঐতিহাসিক ও বর্ধিষ্ণু জনপদের বিশাল জনগোষ্ঠির চিকিৎসা সেবা প্রদানে প্রয়োজনীয় জনবল এবং অবকাঠামোগত অবস্থা কপিলমুনি হাসপাতালের নেই।
প্রতাপকাটী গ্রামের আলহাজ্ব এরফান আলী মোড়ল জানান, হাসপাতাল শয্যা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি। কপিলমুনি কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ আফসার আলী জানান, বৃহত্তর খুলনার ইতিহাসে ও ঐতিহ্যের অন্যতম দাবীদার প্রবীন জনপদ কপিলমুনি। এখানে জন্ম দেশ বরেণ্য ব্যক্তিবর্গের। ঐতিহাসিক স্থান ও বাস্তব প্রেক্ষাপট বিবেচনায় হাসপাতালে শয্যা বৃদ্ধি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।’
স্থানীয় সাংসদ এড. শেখ মোঃ নূরুল হক স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের সচিব বরাবর কপিলমুনি হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা উন্নীত করণে ডিও দিয়েছেন। বাজাসস/১০৪/খুলনা-৬/২০১৮-১০৯১ নং স্মারকে উল্লেখ করেন, ঐতিহাসিক বর্ধিষ্ণু জনপদ কপিলমুনি হাসপাতালের অবকাঠামোর উন্নয়ন ও শয্যা সংখ্যা কমপক্ষে ২০ শয্যায় উন্নিতকরণ এলাকার মানুষের প্রাণের দাবী এবং সময়ের দাবীও বটে।
বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে এ প্রতিবেদককে হাসপাতালের দায়িত্ব প্রাপ্ত মেডিকেল অফিসার ডাঃ আঃ রব বলেন, ‘এখানে একতলা বিশিষ্ট বহি:বিভাগ, দ্বিতল বিশিষ্ট আন্তঃ বিভাগ, পুকুর ২ টি, বেড সংখ্যা ১০টি, অক্সিজেন সিলিন্ডার -৬টি, অক্সিজেন ফ্লোমিটার ২টি, পরিত্যাক্ত আবাসিক ভবন, ডাক্তার (পদ ২টি) শূন্য ১টি, নার্স (পদ ৪টি) শূন্য ১টি, ফার্মাসিষ্ট, অফিস সহকারী ২জন এবং রয়েছে ২জন পরিদর্শন কর্মী। আয়া, বাবুর্চি, নাইটগার্ড, ওয়ার্ডবয় ও ফ্লোর ক্লিনার নাই। হাসপাতালে এ্যাম্বুলেন্স, অপারেশন থিয়েটার, লেবার রুম ও লেবার ওয়ার্ড নেই।’
##