কপিলমুনি হাসপাতাল সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ


816 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কপিলমুনি হাসপাতাল সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ
জুলাই ৩১, ২০১৬ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি :
বাইরে বাঁশের সিড়ি লাগানো, নিচ তলায় চিকিৎসা নিচ্ছেন কয়েক জন রোগী, ডাক্তার নেই, কর্তব্যরত নার্স রয়েছেন তাঁর  কাজে। উপর তলায় ৪ জন নির্মাণ শ্রমিক মনের আনন্দে ইচ্ছে মত কাজ করে চলেছেন। যেখানকার কথা তুলে ধরতে চাচ্ছি সেটা রায় সাহেবের হাতে গড়া কপিলমুনি সরকারি হাসপাতাল। ভবনটি সেই প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই দ্বিতল, বয়ঃভারে এক প্রকার নুয়ে পড়া ভবনের উপর তলার ছাদটি নষ্ট হয়ে গেছে, আর তাইতো সরকার ১৮লাখ টাকা বরাদ্ধ দিয়েছে সংস্কারের  জন্য। কিন্তু সরকারের কর্তারা হয়তো বা খোঁজই রাখেন না সেখানে আসলে কত টাকার কাজ হচ্ছে। এমনই অবস্থা কপিলমুনি ১০শয্যা বিশিষ্ট সরকারী হাসপাতালের সংস্কার কাজের।
সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা নানান অভিযোগ তুলে ধরেন। তারা বলতে থাকেন ‘হাসপাতালে ১৮ লাখ টাকার সংস্কারে কাজে চলছে ঠিকাদারের পুকুর চুরি। মনে হচ্ছে বিষয়টি দেখার কেউ নেই। ছাদ সংস্কারের নামে চলছে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতি। প্রতিবাদ করলেও কোন কথা শুনছে না ঠিকাদারের নিয়োজিত ব্যক্তি বা শ্রমিকরা’।
সূত্রমতে, খুলনার ঐতিহ্যবাহী বানিজ্যিক শহর কপিলমুনির স্থপতি স্বর্গীয় রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধু কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ভরত চন্দ্র হাসপাতাল, যা সরকারি খাতায় নাম কপিলমুনি সরকারি হাসপাতাল। জরাজীর্ণ এই হাসপাতালটির দ্বিতল ভবনের ছাদ সংস্কারে ১৮ লাখ টাকার টেন্ডার হয়। প্রায় ২ মাস পূর্বে সংস্কার শুরু করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেঘনা গ্রুপ, যশোর। আর সেই থেকেই চলে আসছে লাগামহীন দূর্নীতি সহ পুকুর চুরি। নিন্মমানের মালামাল সামগ্রী সহ ব্যাপক অনিয়মের মধ্যদিয়ে ছাদ ঢালাই এর কাজ  ইতোমধ্যে শেষ  করেছে সংশি¬ষ্ট ঠিকাদার। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিবাদ করলেও কোন কথা শুনছেন না ঠিকাদারের নিয়োজিত ব্যক্তিরা। ফলে দুই লক্ষাধীক মানুষের চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত কপিলমুনি হাসপাতালটি আবারও হুমকির মুখে পড়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদারির স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম বা নির্মাণ কাজে ব্যাপক দূর্ণীতির কারণে যে কোন সময় নির্মানধীন ছাদ ধ্বসে প্রানহানীর ঘটনা ঘটতে পারে। হাসপাতালের সামনের কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, ঠিকাদারের লোকজন ৮ টা খোয়া সহ সমপরিমান বালি মিশিয়ে ১ বস্তা সিমেন্ট দিয়ে যেনতেন ভাবে ছাদ ঢালাই দিয়েছে। তাদের প্রতিবাদে কোন গুরুত্ব দেয়নি ঠিকাদার। অনেকেই বলেছেন ঠিকাদারের দূর্নীতি বা কাজে অনিয়ম তাদের চোখের সামনে ঘটলেও তারা প্রতিবাদ করতে সাহস পাননি।
এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান যশোরের ‘মেঘনা গ্রুপ’ এর ম্যানেজার (কপিলমুনি হাসপাতাল সংস্কার কাজে নিয়জিত) সোহাগ বলেন, ‘সিমেন্ট কম ও নি¤œমানের খোয়া দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়’।  তিনি সকল অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে সাংবাদিকদের আরো বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ীই কাজ হচ্ছে’।