কপোতাক্ষের দু’তীর যেনো ধন ধান্যে পুষ্পে ভরা


161 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কপোতাক্ষের দু’তীর যেনো ধন ধান্যে পুষ্পে ভরা
ডিসেম্বর ৪, ২০২২ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ডেস্ক রিপোর্ট ::

এক সময় যে কপোতাক্ষ পাড়ে দেখা দিয়েছিল জলাবদ্ধতা। ভবদহের মতো ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছিল কপোতাক্ষ। পানিতে নিমজ্জিত ছিল গোটা কপোতাক্ষ অববাহিকা। সেই কপোতাক্ষ পাড়ে এখন সবুজে ফসলের সমারোহ। কপোতাক্ষ পাড়জুড়ে ফলছে সোনালী ফসল। স্থানীয়রা জানান, কপোতাক্ষ নদ খননের পর থেকে এর সুফল পাচ্ছে এলাকার হাজারো কৃষক। ধন-ধান্যে পুষ্পে ভরে উঠেছে কপোতাক্ষ নদের দুই তীর।
কৃষকরা বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে কপোতাক্ষ নদের পাশের এক টুকরা জমি এখন আর পড়ে থাকে না। যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই ধান, পাট, সরিষা বাতাসে দোলা দিয়ে যায়। ফুলে ফলে ভরা সবুজের ক্ষেত। ঘের পুকুর মাছে ভরা। ঝাল, বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ওলকপি, ঝিংগা, উচ্চে, পটল, লাউ, কুমড়া, টমেটো, আলু পিয়াজ, রসুন, গাজর, মুলা, শাক, সবজিতে মাঠ ভরা।
সরকারের আর্থিক সহযোগিতায় কপোতক্ষ নদ খনন প্রকল্পের আওতায় কপোতাক্ষ নদটি খনন করার পর থেকে গ্রামের কৃষকরা চাষ আবাদ করে সুখে শান্তিতে বসবাস করছেন। এখন কপোতাক্ষ নদে জোয়ার-ভাটার দেখা মিলেছে। দিন রাত পানি উঠানামা করছে। ২০০০ সালের বন্যার পর থেকে যেসব এলাকা ৮ থেকে ১০ ফুট পানিতে তলিয়ে থাকতো ঐসব এলাকায় এখন ফসলের বাম্পার ফলন হচ্ছে। রাস্তাঘাট, হাটবাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দিরের উন্নয়ন করা হয়েছে। প্রতিটি গ্রামে পাকা বাড়িঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। গৃহপালিত পশু-পাখি, হাঁস-মুরগী, গরু-ছাগলের খামার গড়ে উঠেছে। ঘের পুকুরে মাছ চাষ করে মাছ চাষীরা লাভবান হচ্ছে। উর্বর জমিতে কুল ও মালটার চাষ করা হয়। এ সব বাগান থেকে বছরে লক্ষ লক্ষ টাকার কুল ঢাকার শহরে রপ্তানী করা হচ্ছে।
কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী উন্নত জাতের বীজ সংগ্রহ করার পরে বীজতলা তৈরী করা হয়। শুকনা মৌসুমে সেচ পাম্পের সাহায্যে ধান, পাট, সরিষা, টমেটা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, আলু, পটল, পিয়াজ, রসুন, ওল, কচুশাক, সবজির চাষ করা হচ্ছে। এই সব কৃষিপূর্ণ বাজারে বিক্রয় করে কৃষকরা নগদ টাকায় পকেট ভরছে। চাষ আবাদ ভালো হওয়ার কারণে কৃষি জমির মূল্য দুই থেকে তিনগুন বেড়ে গেছে।
মাছ চাষে সেচ পাম্পের সাহায্যে পানি উত্তোলন করা সম্ভব হচ্ছে। বিদ্যুৎ ও মোটর সংযোগ দিয়ে পানির চাহিদা পূরণের সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। বাড়ি ঘরের টিউঅয়েল থেকে মোটর সংযোগ দিয়ে ক্ষুদ্র নার্সারীর মালিকরা চারার ফুল ও ফলের বাগান গড়ে তুলেছে। বাড়ির চারপাশের আম গাছে পানি ও ঔষধ ছিটিয়ে পোকা মাকড় দমন করা হয়। প্রতি বছর আম গাছে আমের বাম্পার ফলন হচ্ছে। কৃষকরা আম বিক্রয় করে হাজার টাকা সংসার খরচের যোগান দিচ্ছেন। কলারোয়া উপজেলার দেয়াড়া, কাশিয়াডাঙ্গা, পাকুড়িয়া গ্রাম ঘুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, কপোতাক্ষ নদের দুই পাশে শতশত বিঘা জমিতে এ বছর সরিষার চাষ করা হয়েছে।
দেয়াড়া ইউনিয়ানের ৯নং ওয়াড মেম্বর শেখ হারুণ বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়নের ছোঁয়ায় কৃষিতে ব্যাপক উন্নতি হচ্ছে। প্রান্তিক চাষীরা ভর্তুকির টাকা বীনামূল্যে সার ও বীজ পাচ্ছে। খোলা বাজারে সার, কৃষি ব্যাংক থেকে সহজ শর্তে ঋণ বিতরণ করার কারণে কৃষক অর্থ সংকটে পড়ছে না। ২০০০ সালের বন্যার সময় গোখাদ্য সংকটের কারণে কপোতাক্ষ পাড়ের গ্রামের মানুষ গরু ছাগল পানির দামে বিক্রয় করেছে। মানুষের মৃত্যুর পরে কলাগাছের ভেলায় লাশ নিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে দাফন করতে হয়েছে। মানুষের মৃত্যুর পরে তার পারিবারিক কবর স্থানে লাশ দাফন করা সম্ভব হয়নি। ঘের পুকুরের বেড়িবাধ ভেঙে শতশত মণ মাছ কপোতাক্ষের পানিতে মিশে যায়। জমিজায়গা বিক্রয় করে ধারদেনা পরিশোধ করতে হয়। ‘কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলন’ কমিটির ডাকে সাড়া দিয়ে পানি সরাও, মানুষ বাঁচাও, ত্রাণ চাই না, বাঁচতে চাই-স্লোগান ছিল মুখে মুখে। বর্তমান সরকারের শাসন আমলে কপোতাক্ষ নদ খনন করার পর থেকে অল্প ব্যয়ে কম চাষে, সরিষা চাষীদের কপাল খুলেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ রোগবালাই নেই।
পাকুড়িয়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক জানান, ১বিঘা জমিতে ধান চাষে খরচ ১৬হাজার টাকা। ধান বিক্রয় ২০ হাজার টাকা, বিচলী বিক্রয় ৬ হাজার টাকা। ১বিঘা সরিষা চাষে খরচ ৬হাজার টাকা। সরিষা বিক্রয় হয় ২২ হাজার টাকা। পাট চাষ খরচে ১৪ হাজার। পাট বিক্রয় হয়েছে ৩৫ হাজার টাকা।
২০২২ সালের মার্চ মাসে ইরি বোরো ধান চাষ করা হয়। মে মাসের শেষে ঐ ধান কর্তন করা হয়। জুন মাসে ধানের জমিতে পাট চাষ করা হয়। চলতি বছরের আগস্ট মাসে পাট কাটার পরে, ধান ও সরিষার চাষ করা হয়। কপোতাক্ষ নদ খননের পর থেকে কৃষকের আবাদী জমিতে এক বছরে ৩টি ফসল হচ্ছে। বছরে একই জমিতে ধান, পাট, সরিষা এই ৩টি করে ফসল হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। এলাকার কৃষকরা জানিয়েছে, ৩টি ফসলে বিঘা প্রতি ব্যয় হয় ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা। ঐ ফসল বিক্রয় হয় ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টাকা। কাশিয়াডাঙ্গা গ্রামের কৃষক নুরুজ্জামান দৈনিক পত্রদূত প্রতিনিধিকে জানান, কপোতাক্ষ নদের পাশে শতশত বিঘা জমিতে ৩টি করে ফসল হচ্ছে। চাষ আবাদ করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।