কপোতাক্ষ নদের পানির চাঁপে তালার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ধ্বস : অনেক এলাকায় স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে সংস্কার করা হচ্ছে ভেড়িবাঁধ


617 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কপোতাক্ষ নদের পানির চাঁপে তালার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ধ্বস : অনেক এলাকায় স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে সংস্কার করা হচ্ছে ভেড়িবাঁধ
জুলাই ২০, ২০১৫ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

বি. এম. জুলফিকার রায়হান, তালা :
কপোতাক্ষ নদ দিয়ে চলতি বর্ষা মৌসুমের পানি নিস্কাশন না হওয়ায় নদী পানিতে ভরাট হয়ে গেছে। বর্ষার পানি আর উজান থেকে আসা পানিতে নদীর পানির ধারন ক্ষমতা প্রায় শেষ। নদীর এই পানি নিস্কাশন হতে না পারায় নদ সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ধ্বসে যাচ্ছে। এতে করে এলাকায় বন্যার আশংকা দেখা দেওয়ায় স্থানীয় জনতা স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে বাঁধগুলো সংস্কার কার্য্যক্রম শুরু করেছে। ইতিমধ্যে তালা সদরের গোপারপুর স্লুইজগেট সংলগ্ন খালের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, ইসলামকাটী-বাউখোলা ঘোষপাড়া খালের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, কানাইদিয়া-কৃষ্ণকাটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এবং শালিখায় টিআরএম এর পেরিফেরিয়াল বাঁধে দেখা দিয়েছে ভাঙ্গন। বাঁধগুলো ধ্বসে গেলে তালা উপজেলার প্রায় অর্ধশত গ্রাম প্লাবিত  হয়ে এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হবার আশংকা দেখা দিয়েছে। অনেক এলাকায়  স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে বাঁধের সংস্কার কাজ শুরু করেছে স্থানীয় জনতা।
তালা উপজেলার ইসলামকাটী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রঞ্জন রায় জানান, কপোতা¶ নদের প্রবল পানি চাঁপে রোববার রাতে ইসলামকাটী-বাউখোলা ঘোষ পাড়া খালের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ধ্বসে যায়। সংবাদ পেয়ে সোমবার সকালে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু আলম, আসাদ মৃধা ও মো. এজাহার আলীর নেতৃত্বে প্রায় সাড়ে ৫শ নারী-পুরুষ নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে বাঁধটি সংস্কার শুরু করা হয়েছে। প্রায় ৮০/৯০ ফুট লম্বা এবং ৩০ ফুট গভীর খালের বাঁধ সংস্কার করা একদিনে সম্ভব না। বাঁধটি সংস্কার করতে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক নিয়ে আরও অন্তত দুই দিন কাজ করতে হবে জানিয়ে তিনি সরকারের নিকট সহযোগীতা কামনা করেছেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু আলম, আসাদ মৃধা ও এজাহার আলী জানান, এই বাঁধটি স্থায়ীভাবে পুরোপুরি সংস্কার করতে না পারলে যে কোনও সময় আবারও বাঁধটি ধ্বসে যেয়ে ইসলামকাটী ইউনিয়নের ১৬টি গ্রাম সহ কুমিরা এবং তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের কিছু এলাকা প­াবিত হয়ে শত শত কোটি টাকার সম্পদের ক্ষতিসাধন হবে। এঘটনার সংবাদ পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ তালা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহাবুবুর রহমান, ইসলামকাটী ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি অধ্যাপক সুভাষ সেন সহ বিভিন্ন দায়িত্বশীল ব্যক্তি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এদিকে তালা সদরের গোপালপুর ¯­ুইসগেটের সামনে কপোতাক্ষ নদের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রোববার রাতে পানির চাঁপে ধ্বসে যায়। ঘটনাটি জানতে পেরে তালা সদর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাংবাদিক এস.এম. নজর“ল ইসলামের নেতৃত্বে শতাধিক শ্রমিক নিয়ে এদিন রাত থেকেই বাঁধ সংস্কার কাজ শুর“ করা হয়। যে কারনে নদের পানি খাল দিয়ে প্রবেশ করতে না পারায় তালা সদর, ইসলামকাটী, তেঁতুলিয়া ও কুমিরা ইউনিয়নে প্রায় ১৫টি গ্রাম বন্যার কবল থেকে রক্ষা পেল। অপরদিকে জালালপুর ইউনিয়নের কানাইদিয়া-কৃষ্ণকাটি গ্রামের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নদের পানিতে ইতোমধ্যে ধ্বসে যায়। স্থানীয় জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. মফিদুল হক লিটুর নেতৃত্বে ৫ শতাধিক শ্রমিক দিয়ে উক্ত বাঁধ সংস্কার করা হয়। কিন্তু সোমবার সকাল থেকে উক্ত বাঁধ উপচে’ পানি প্রবেশ শুরু করে। যে কারনে প্রবল পানির চাঁপে যে কোনও মুহুর্তে উক্ত বাঁধটি ধ্বসে যেয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টির আশংকা করেছেন- চেয়ারম্যান এম. মফিদুল হক লিটু। এছাড়া, কপোতাক্ষ নদ খনন প্রকল্পের টিআরএম ভুক্ত পাখিমারা বিলের পেরিফেরিয়াল বাঁধ ব্যপাক দূর্নীতির এবং অনিয়মের মাধ্যমে নির্মান করা হয়েছে বলে আগে থেকেই অভিযোগ রয়েছে। যে কারনে কপোতাক্ষ নদের পানির চাঁপে উক্ত টিআরএম বাঁধে ফাটল সৃষ্টি হওয়ায় এলাকায় বন্যার আশংকা দেখা দিয়েছে। এসব বিষয়ে তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহাবুবুর রহমান ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে জানান, তালা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার সহ তিনি বাঁধের ধ্বসে যাওয়া স্থানগুলো পরিদর্শন করেছেন। এবিষয়ে তিনি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড এর মাধ্যমে বাঁধের ধ্বসে যাওয়া স্থানগুলো স্থায়ী ভাবে সংস্কার করার ব্যবস্থা নিবেন। এছাড়া, স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে কাজ করা শ্রমিকদের জিআর সুবিধা দেবার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলেও তিনি জানিয়েছেন।