কপোতাক্ষ নদ অববাহিকায় জলাবদ্ধতার কারণে ১০ লাখ মানুষের জীবন বিপন্ন


495 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কপোতাক্ষ নদ অববাহিকায় জলাবদ্ধতার কারণে ১০ লাখ মানুষের জীবন বিপন্ন
জুলাই ২৯, ২০১৫ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

মীর জিল্লুর রহমান, তালা সদর থেকে :
বাংলাদেশের দক্ষিন-পশ্চিম অঞ্চালের কপোতাক্ষ নদের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার সমস্যা জাতীয় পর্য়ায়ে আলোচিত হলে বর্তমান গণপ্রজাতান্ত্রিক বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার দেওয়া ৪ বছর মেয়াদী কপোতাক্ষ নদের জলাবদ্ধতা দূরীকরন প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। যার মেয়াদ চলতি বছরের জুন মাসে শেষ হওয়ার  পরে আরও এক বছরের মেয়াদ বেড়েছে। কিন্তু প্রকল্পের মূল কাজ তালা উপজেলার পাখিমারা বিলে টি.আর.এম চালূ করা অর্থ্যাৎ  (জোয়ার ভাটা) হয়নি। ফলে কপোতাক্ষ নদের অববাহিকয় বসবাসরত প্রায় ১০ লাখ মানুষের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে।
তালার পাখিরামা বিলে আর টি.আর.এম চালু না করে কপোতাক্ষ নদী খনন করার কারনে গংগারামপুর হইতে জেঠুয়া ও বালিয়া পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার পলি দ্বারা উচুঁ হওয়ায় কপোতাক্ষ খননেরকৃত জায়গা থেকে পানি সরবারহ না থাকায় ঝিকরগাছা, কলারোয়, কেশবপুর, সাগরদাড়ি, পাটকেলঘাটা এলাকার অতি বর্ষার পানি কপোতাক্ষ খননকৃত স্থানের সকল এলাকার জন জীবন বিপন্ন হয়ে উঠেছে। ইতিপূর্বে টানা এক সপ্তাহ বর্ষনের কারনে তালা উপজেলা উপ-শহরসহ তালা সদর, জালালপুর, ইসলামকাটি, তেতুঁলিয়া, মাগুরা, খেশরা, সরুলিয়া, ধানদিয়া, খলিলনগর ইউনিয়নের ৩০ থেকে ৪০ টি গ্রাম ইতিপূর্বে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। জালালপুর ইউনিয়নে কানাইদিয়া গ্রামের বেশ কিছু পরিবার, কানাইদিয়া খেয়াঘাটের উত্তর পাশে উচুঁ ভেড়িতে আরশাব হোসেন, শেখ আব্দুল সালাম হোসেন, সোহেল হোসেন সহ অনেক পরিবার নিজের বসত বাড়ি ছেড়ে আশ্রয় গ্রহন করেছেন বলে এলাকাবাসির সূত্রে জানা যায়। এদিকে বিভিন্ন স্থানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা দান ব্যাহত হচ্ছে। কৃষিপন্য সরবরাহ করতে পারছে না কৃষকরা। শ্রমজীবি মানুষরা কর্মবিহীন হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন হাট বাজারে জলাবদ্ধতার কারনে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। গবাদি পশুর খাদ্য অভাব দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন রাস্তার ওপরে জলাবদ্ধ হওয়ায় কাঁচা পাকা অনেক রাস্তা ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। জলাবদ্ধ হওয়ার কারনে বিভিন্ন পোকা মাকড় ও সাপের উপক্রম বেড়েছে। বিভিন্ন এলাকার মৎস্য ঘের পুকুর ভেসে যেয়ে মৎস্য ও কৃষি খাতে ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয়েছে। পরিবেশ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে। তাছাড়া পানি বাহিত রোগ ও পানিদূষীত হয়ে বিভিন্ন চর্মরোগের আশংকা দেখা দিয়েছে। জলাবদ্ধতা এলাকায় স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে এবং সুপীয় পানির অভাব দেখা দিয়েছে। এদিকে, কপোতাক্ষ খননেরকৃত মাটি নদীর পাড়ে রাখার কারনে পাশ্ববর্তী এলাকাসহ বিলের পানিও নদীতে প্রবেশ করতে পারছে না। যদিও খননকৃত মাটি  শ্রমিক দ্বারা নদীর তীর থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে উভয় পাশে বাঁধ নির্মান করার কথা ছিল। বাঁধ নির্মান না করার কারনে অপরিকল্পিত ভাবে নদীর দুই পাশে মাটি রাখার কারনে বর্ষার পানিতে মাটি ভেঙ্গে আবারো নদী গর্ভে পড়ে নদী ভরাট হওয়া শুরু হয়েছে। এখনি গংগারামপুর হইতে জেঠুয়া ও বালিয়া পর্যন্ত একটি চ্যানেল তৈরি করে পানি নিষ্কাষনের ব্যবস্থা না করলে সরকারের বরাদ্দকৃত কপোতাক্ষ খনন প্রকল্পটি বাঁধা গ্রস্থ হবে বলে এলাকার সচেতন মানুষ মনে করেন এবং সরকারের বাস্তবমূখী পদক্ষেপ ব্যাহত হলে এর দায়ভার কে নেবে ?
কপোতাক্ষ নদ অববাহিকায় জলাবদ্ধতা হওয়ায় সাতক্ষীরা (১) তালা-কলারোয়া আসনের সংসদ সদস্য  এ্যাডভোকেট মুস্তফা লৎফুল্লাহসহ উপজেলা চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার, উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা  মাহাবুবুর রহমান, তালা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাংবাদিক এস.এম নজরুল ইসলাম, খলিলনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রনাব ঘোষ বাবলু, জালালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম.মফিদুল ইসলাম লিটু, খেশরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস.এম লিয়াকত হোসেন, তেতুঁলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিয়াজান আলী মোড়ল, ধানদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, ইসলামকাটি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রঞ্জন রায়সহ স্ব-স্ব ইউনিয়নে জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেন এবং তারা সর্বক্ষন এলাকার খোঁজ-খবর রাখছেন বলে চেয়ারম্যান বৃন্দরা জানিয়েছেন। এসব জনপ্রতিনিধিরা সরেজমিন জলবদ্ধতা এলাকা পরিদর্শন করে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে ভয়াবহ পরিস্থিতির বর্ননা দিচ্ছেন। কিন্তি সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে কার্যত: কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না।
এদিকে, তালা উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অফিস সূত্রে জানা যায়, ২৬শ পরিবারের ২৭ হাজার ৫০০শ মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ। এলাকার ২২টি স্কুল, ২৫টি মসজিদ, মন্দির ২৮ কিলোমিটার পানির নিচে। কৃষি খেতে আউশ ধান ৯০ হেক্টর, আমন বীজ তলা ১১০ হেক্টর, সবজি ৭০ হেক্টর নষ্ট হয়েছে। তবে বেসরকারি হিসেবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান কয়েক গুন বেশি।
কপোতাক্ষ নদের অববাহিকার বসবাসরত প্রায় ১০ লাখ মানুষ জলাবদ্ধতার কারনে নাকাল হয়ে পড়েছে। কপোতাক্ষ নদের দু’ধারে যে ভেড়িবাঁধ রয়েছে তার অসংখ্য স্থান ধ্বসে পড়ার উপক্রম হয়েছে। চরম ঝুঁকীপূর্ণ এসব ভেড়িবাঁধ জরুরী ভিত্তি মেরামত বা সংস্কার  করা না হলে এসব এলাকা মানুষ্য বসবাসের অনুপযোগি হয়ে পড়বে। বিধায় সরকারকে বিষয়টি তথ্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা দরকার বলে মনে করেন সচেতন মহল।