কপোতাক্ষ নদ ও চিংড়ি প্রজেক্ট থেকে জোর পূর্বক বালু উত্তোলন : উপচে পড়া পানিতে বিস্তৃর্ণ এলাকা প্লাবিত


403 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কপোতাক্ষ নদ ও চিংড়ি প্রজেক্ট থেকে জোর পূর্বক বালু উত্তোলন : উপচে পড়া পানিতে বিস্তৃর্ণ এলাকা প্লাবিত
অক্টোবর ৪, ২০১৫ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস,এম, আলাউদ্দিন সোহাগ, পাইকগাছা :
কপোতাক্ষ নদীর পাইকগাছা-তালা সীমান্তবর্তী ঘোষনগর ও কাশিমনগর এলাকা থেকে একটি প্রভাবশালী মহলের প্রতিদিন অবাধে মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন এখনো বন্ধ হয়নি। মাস দু’য়েক পূর্বে কপোতাক্ষের উপছে পড়া পানিতে সৃষ্ট কৃত্রিম বন্যার খবর ফলাও করে পত্রিকায় প্রকাশের পর তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে এসে বালু উত্তোলন বন্ধ ও মেশিনের পাইপ বিচ্ছিন্ন করে যান। এর মাত্র ৪/৫ দিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় দ্বিগুণ গতিতে শুরু হয়েছে বালু উত্তোলন। তালার জেয়ালা এলাকার জনৈক ইদ্রিস আলী নামের এক ব্যক্তি ঠিকাদারি নিয়ে প্রতি ফুট বালু ৪.২৫ টাকা দরে বিক্রি করে স্থানীয় বিস্তীর্ণ নি¤œ এলাকা ভরাট করছে। এজন্য তারা কপোতাক্ষের বুকে দু’টি পৃথক নৌকায় দু’টি বড় সাইজের স্যালো মেশিন বসিয়ে পাইপ যোগে প্রতিদিন ৪/৫ হাজার ঘনফুট বালু তুলে নিচ্ছে। ইতোমধ্যে কপোতাক্ষের উপচে পড়া পানি বালু উত্তোলনের ফলে দূর্বল হয়ে যাওয়া বেঁড়ী বাঁধ সহ্য করতে না পেরে সেখানকার বিস্তৃর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে বহু মাছের ঘের, পুকুর, ফসলের ক্ষেত ও পানের বরজ। এছাড়া বালু উত্তোলনের পাইপ পাইকগাছা-খুলনা প্রধান সড়কের নিচ দিয়ে বোরিং করে অনুপ্রবেশ করানোর ফলে সম্প্রতি রাস্তার ঐঅংশ ভেঙ্গে দেবে যায়। কয়েক ঘন্টা যানবাহন  চলাচল বন্ধ হয়ে যায় সড়কে। খবর পেয়ে সড়কের শামিম আহম্মেদ নামে এক কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে আসলেও পরে এক অজ্ঞাতকারণে শুধুমাত্র পুটিং সেরেই বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখা হয়।
জানাগেছে, খুলনার দৌলতপুর এলাকার জনৈক শেখর কুমার সাহা খুলনার পাইকগাছা ও সাতক্ষীরার তালা উপজেলার একেবারেই সীমান্তের ঘোষনগর এলাকার প্রধান সড়কের পাশে সেখানকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছ থেকে প্রায় ৮ বিঘা ডোবা জমি ক্রয় করেছেন সেখানে একটি জুট মিল স্থাপনে। ইতোমধ্যে সেখানে মেসার্স এস এন্ড এস জুট ট্রেডিং কোং দৌলতপুর, খুলনা নামের একটি সাইনবোর্ডও উঠানো হয়েছে। গত প্রায় এক বছর পূর্বে থেকে ঐ ডোবা এলাকা বালু দিয়ে ভরাট করতে তিনি স্থানীয় কতিপয় মহলকে ম্যানেজ করে ইদ্রিসকে দিয়ে ঐ পরিমান বালু উত্তোলন করাচ্ছেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক ইদ্রিস জানান, প্রতি বর্গফুট বালু ৪.২৫ টাকা হারে উত্তোলনে তিনি চুক্তিবদ্ধ হয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রথমত গত ৩১ ডিসেম্বর’১৪ থেকে তিনি কপোতাক্ষ নদীর বুকে দু’টি বড় স্যালোমেশিন ও নৌকা স্থাপন করে থেকে কার্যক্রম শুরু করে বর্তমানে ব্যক্তি মালিকানাধীন একটি চিংড়ি প্রজেক্টে মেশিন ঢুকিয়ে একপ্রকার জোরপূর্বক বালু উত্তোলন করছেন। প্রায় ৮ বিঘার ঐ ডোবা ভরাট করতে তাদের এভাবে প্রায় ২/৩ লক্ষ ঘনফুট বালু লাগতে পারে বলেও জানান তিনি। তবে এভাবে বালু তুলতে কোন সরকারি পারমিট বা অনুমতি আছে কি না জানতে চাইলে তারা জানান, এটি তাদের বিষয় না। জমির মালিক শেখর কুমার সাহা জানেন। এব্যাপারে শেখর সাহা জানান, তিনি সব কুল ম্যানেজ করেই বালু তুলছেন। বিশেষ করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ওসব অনুমতি আছে। এদিকে ২৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান কপোতক্ষ খনন প্যাকেজ প্রকল্পের শেষ বছরে বর্তমানে ঠিক ঐ এলাকায় কাজ চলছে। মেশিন দিয়ে অপরিকল্পিত ভাবে বালু উত্তোলনে খনন প্রক্রিয়ার উপর বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ঐ এলাকায় মাটি প্রায় ১ থেকে দেড় শ’ ফুট দেবে যাওয়ায় তারা কোন ভাবেই সেখানে নতুন করে বেঁড়ী বাঁধ নির্মাণ করতে পারবেন না। ফলে ঐ এলাকায় জলবদ্ধতা স্থায়ী রুপনিতে পারে বলে আশংকা করছেন এলাকবাসী।
সর্বশেষ এলাকাবাসী বিষয়টি নিয়ে তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের জরুরী হস্থক্ষেপ কামনা করেছেন।