কপোতাক্ষ নদ খনন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ


471 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কপোতাক্ষ নদ খনন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ
আগস্ট ১৬, ২০১৫ খুলনা বিভাগ তালা
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার :
কপোতাক্ষ নদ খনন প্রকল্প নিয়ে সীমানহীন অনিয়ম,দুর্নীতির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্ধকোটি মানুষের জীবন মরণের সাথে জড়িত নাম কপোতাক্ষ নদ। সেই নদ খননের নামে চলছে নানা দুর্নীতি ও অনিয়ম। কিন্তু কপোতাক্ষ রক্ষার প্রশ্নে কোন দুর্নীতি অনিয়ম ও ষড়যন্ত্র জনগন সহ্য করবে না। কপোতাক্ষ নিয়ে কোন ধরনের তঞ্চকতার আশ্রয় নিলে ফের বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। রোববার বেলা ১১টায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলনের আহবায়ক অনীল বিশ্বাস। বক্তব্য রাখেন, কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলনের প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলনের সাতক্ষীরার সমন্বয়ক ও তালা-কলারোয়া আসনের  সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ।
প্রশ্ন্রোত্তর পর্বে কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলনের উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, কপোতাক্ষ নদ সচল করতে ২৬২ কোটি টাকার চার বছর মেয়াদি প্রকল্পের ২০১১ সালে অনুমোদন দেওয়া হয়। চলতি বছর এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে। কিন্তু আজও খনন কাজ শেষ হয়নি। এই প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ২০১২-১৩ ও ২০১৪-১৫ অর্থবছরে পাখিমারা বিলে জোয়ারাধার চালু করার কথা। এ জন্য জমির ক্ষতিপূরণ ও বাঁধ নির্মাণ বাবদ ব্যয় ধরা হয় ১৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। ১ হাজার ৫৬১ দশমিক ৯৬ একর একর জমির ওপর জোয়ারাধার বাস্তবায়ন করা হয়। টিআরএম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাধা হিসেবে দাঁড়িয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড, ঠিকাদার ও জনপ্রতিনিধিদের অনিয়ম,দুর্নীতি ও চিহ্নিত কিছু ঘের মালিকদের ষড়যন্ত্র। কাজ বাধাগ্রস্ত করতে অসৎ ঘের মালিকদের যোগসাজসে জনৈক এক ভ্যানওয়ালাকে বাদি সাজিয়ে হাইকোর্টে রীট করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি পিআইসি’র দূর্ণীতিও দৃশ্যমান। তিনি আরো বলেন, যশোরের ক্ষমতাসীন দলের শাহিন চাকলাদার ও তার ভাই রেন্টু চাকলাদার তাদের নামীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে কপোতাক্ষ নদ খনন প্রকল্প নিয়ে প্রভাব খাটিয়ে খননের নামে লুটপাট চালাচ্ছে। শুধু কপোতাক্ষ নদ নয়, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে  পানি উন্নয়ন বোর্ড যতো বড় বড় টেন্ডার দেয় তার সিংহ ভাগ কাজ তারাই এভাবে লুটপাট করে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে ওই দুই ভাই এবং বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে যশোরের নূর হোসেন ও দুলু পাউবোর কাজ টেন্পার নিয়ে লুটপাট করে থাকে ।
সরকার চৌগাছার তাহিরপুর থেকে শিবসা পর্যন্ত কপোতাক্ষখননের জন্য ২৬২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। এই প্রল্পের মধ্যে রয়েছে সাতক্ষীরার পাখিমারা বিলে একটি টিআরএম, কপোতাক্ষের সাথে অন্যান্য নদীর কিছু সংযোগখাল খনন, নদীর পাড় বরাবর বেড়িবাঁধ, সাতক্ষীরায় শালিখা নদী খনন। এই প্রকল্পের কিছু ভাল দিক থাকলেও প্রকল্পটি সামগ্রিক নয়, এটা আংশিক। এর মধ্যে শালিখা নদী খনন এলাকায় কিছুটা সুফল বয়ে এনেছে। কিছু অপ্রয়োজনীয় বন্যানিয়ন্ত্রণ গেট ও বেড়িবাঁধ, খাল খননের নামে খালের বগল চাছা এবং বাস্তবে নয় কিন্তু খাতাকলমে বাঁধ করার ঘটনা রয়েছে। এর মধ্যে দুর্নীতির বহর কম নয়। প্রথম থেকে আমরা দাবি করে আসছি, শুধু সাময়িক সংস্কার নয়, দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের জনপদ, জনজীবন ও সুন্দরবন সহ পরিবেশ রক্ষায় একটি সার্বিক পরিকল্পনা গ্রহন করতে হবে। এর জন্য উজানে মাথাভাঙ্গা-পদ্মার সাথে ভৈরব-কপোতাক্ষের সংযোগ দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত নদীকাঠামো সচল করা প্রয়োজন।
কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলনের সাতক্ষীরার সমন্বয়ক সংসদ সদস্য মুস্তফা লুৎফুল্লাহ বলেন, কপোতাক্ষের পুনর্জীবন দিতে সালতা, বেতনা, শিবসাসহ সব নদীর জীবন ফেরাতে হবে। কপোতাক্ষের উৎপত্তিস্থল ও সাগরমুখ দু’পাশেই সংস্কার করতে হবে। কপোতাক্ষ না বাঁচলে এ জনপদে স্থায়ী জলাবদ্ধতায় রুপান্তরিত হবে। টিআরএম বাস্তবায়নের কাজ চলছে অসময়ে। বিপন্ন মানুষের খাদ্য ও আশ্রয়ের সম্পূর্ণ দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। স্থায়ী সমাধানের জন্য মাথাভাঙ্গা-পদ্মার সাথে সংযোগ দিয়ে কপোতাক্ষ-ভৈরব সংস্কারের প্রকল্পটি বাস্তবায়ণের কাজটি কালবিলম্ব না করে এখনই শুরু করতে হবে যার পরিপূরক হবে চলমান কপোতাক্ষ সংস্কারের ২৬২ কোটি টাকার প্রকল্প। পাখিমারা বিলের টিআরএম-এর ত্রুটিসমূহ সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এ পর্যন্ত কপোতাক্ষ সংস্কার প্রকল্পের ব্যর্থতার কারণগুলির পর্যালোচনা করতে হবে। সংঘটিত দুর্নীতির তদন্ত করতে হবে এবং এ ব্যাপারে জড়িত যে কোনস্তরের ব্যক্তিকে বিচারের সম্মুখীন করতে হবে।
কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলনের আহবায়ক অনীল বিশ্বাস কপোতাক্ষ নদ বাঁচানোর দাবিতে আগামী ১৯ অগাস্ট বুধবার পাখিমারা বিলে টিআরএম সংশ্লিষ্ট এলাকায় মত বিনিময় ও পরিদর্শন, ২২ অগাস্ট শনিবার সাগরদাঁড়ি, ২৩ অগাস্ট রবিবার মণিরামপুর ঝাঁপা, ২৪ অগাস্ট সোমবার  ঝিকরগাছা, বাঁকড়া সমাবেশ। এবং ২৬অগাস্ট বুধবার যশোর জেলা প্রশাসকের অফিস ঘেরাও করা হবে, ০২ সেপ্টম্বরে ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বেলা ১১টায় মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলনের কলারোয়ার নেতা উপাধ্যক্ষ ময়নুল হাসান, কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলনের তালার সমন্বয়ক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম,  তালা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার মাস্টার আলাউদ্দিন জোয়াদ্দার, ইনসাফ আলী খা, মফিজুল হক জাহাঙ্গীর, নির্মল সরকার, অজিত মন্ডল, সন্তোষ কুমার পাল, আমিনা বিলকিস ময়না, অধ্যক্ষ শিবপদ গাইন, ছাদিকুর রহমান, মিজানুর রহমান, ইনসাফ আলী খান, নিমাই দেবনাথ, বাপী মজুমদার, আব্দুল করিম, সুব্রত সরকার শুভ, অম্বিক মন্ডল, অনীক আজিজ, জগদীশ সরকার, দেবাশীষ সরকার, নিশিকান্ত গাইন, দেবব্রত দাশ, তরুণ সরকার, বাপ্পী সরকার প্রমুখ।