কপোতাক্ষ নদ খনন প্রকল্প বাস্তবায়নে কাউকে না জানিয়ে হঠাৎ করে তালার পাখিমারা বিলে টিআরএম চালু ॥ ১০টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশংকা ॥ জনমনে তীব্র ‌ক্ষোভ


473 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কপোতাক্ষ নদ খনন প্রকল্প বাস্তবায়নে কাউকে না জানিয়ে হঠাৎ করে তালার পাখিমারা বিলে টিআরএম চালু ॥ ১০টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশংকা ॥ জনমনে তীব্র ‌ক্ষোভ
জুলাই ১১, ২০১৫ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

 

বি. এম. জুলফিকার রায়হান, তালা :
পানি উন্নয়ন বোর্ড কাউকে কিছু না জানিয়ে হঠাৎ কপোতাক্ষ নদ খনন প্রকল্প বাস্তবায়নেন জন্য তালার পাখিমারা বিলে টিআরএম চালু করে দিয়েছে। শনিবার বিকালে তালা উপজেলার বালিয়া গ্রামে কপোতাক্ষ নদের সাথে টিআরএম বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত পাখিমারা বিলের সাথে সংযোগ খালের বাঁধ কেটে দেয়ায় হয়েছে। আর একাজে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী র‌্যাব, বিজিবি ও পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতা নিয়েছে পানি উন্নয় বোর্ড। কাউকে কিছু না জানিয়ে হঠাৎ পাখিমারা বিলের সংযোগ খালের বাঁধ কেটে দেয়ায় টিআরএম এলাকার আশপাশের কমপক্ষে ১০টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। কারন টিআরএম প্রকল্প বাস্তবায়নে পাউবো পাখিমারা বিলের চারিধারে যে ভেড়িবাঁধ নির্মান করেছে তা আদৌ টিকবে কি-না তা নিয়ে আগে থেকেই কাজের মান নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে।
স্থানীয়রা বলছে, টিআরএম বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্প নকশা বাস্তবায়ন না করা, পেরিফেরিয়াল বাঁধ নির্মানে সীমাহীন দূর্নীতি ও অনিয়ম’র ফলে বিল সংলগ্ন ৮ থেকে ১০টি গ্রাম নদীর পানিতে ভেঁসে যাবার আশংকা দেখা দিয়েছে। বাঁধ কেটে দেয়ার খবর জানার পর এলাকার মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।
এলাকাবাসী জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোর’র অধিনে প্রায় ২৬২ কোটি টাকা ব্যায়ে কপোতাক্ষ নদ খনন প্রকল্প সীমাহীন দূর্নীতি আর অনিয়মের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। নদ খনন প্রকল্প অনুযায়ী কপোতাক্ষ নদ সংলগ্ন বালিয়া এলাকার পাখিমারা বিলে টিআরএম বাস্তবায়ন করা হবে। কিন্তু টিআরএম করার পূর্বে প্রকল্প অনুযায়ী বিলের চারিপাশে পেরিফেরিয়াল বাঁধ নির্মান, বিলের জমি মালিকদের ক্ষতিপূরন প্রদান, বিল সংলগ্ন গ্রামগুলির বর্ষার পানি নিস্কাসনের জন্য পেরিফেরিয়াল বাঁধে কালভার্ট নির্মান করে কালভার্টের মুখে পাটা দেয়ার কথা প্রকল্পের নকশায় উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু, কর্তপক্ষ প্রকল্প নকশার কোনটা যথাযথভাবে না করে সীমাহীন দূর্নীতি আর লুটপাটে অভিযোগ ওঠে। যে কারনে ইতোমধ্যে পেরিফেরিয়াল বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে।
গ্রামবাসীর বক্তব্য, তাঁরা অতিদ্রুত যথাযথ ভাবে টিআরএম বাস্তবায়নের মাধ্যমে কপোতাক্ষ নদ’র সুষ্ঠ খনন চান। কিন্তু সে গুলো না করে হঠাৎ এভাবে টিআরএম বাস্তবায়ন করলে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হবার আশংকা রয়েছে।এবিষয়ে জালালপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি এম. রবিউল ইসলাম মুক্তি জানান, পাখিমারা বিলে কবে নাগাদ টিআরএম চালু করা হবে- তা কর্তৃপক্ষ এলাকার কাউকে অবহিত করেনি। যে কারনে পাখিমারা বিলে দীর্ঘদিন ধরে চলমান মৎস্য ঘেরে মানুষ কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে মাছ চাষ করে আসছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনও ঘোষনা ছাড়ায় প্রশাসনের পাহারায় টিআরএম চালু করায় শত শত মৎস্য ঘের ব্যবসায়ী সর্বশান্ত  হয়ে গেল। এঘটনার সংবাদ পেয়ে বালিয়া, শুভংকরকাটি, তেঘরিয়া, দোহার, আটুলিয়া, মাদরা সহ পাখিমারা বিল সংলগ্ন ৮ থেকে ১০টি গ্রাম ভেঁসে যাবার আশংকায় হাজার হাজার মানুষ সংযোগ খালধারে অবস্থান নেয়। এসময় র‌্যাব এবং পুলিশের ভয়ে জনগন অপরিকল্পিত বাঁধ কাটায় বাঁধা প্রদান থেকে পিছুহটে। পরে  পুলিশের পাহারার মাধ্যমে বাঁধটি কেটে দেয়া হয়েছে। এঘটনার সংবাদ পেয়ে তালা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ নুরুল ইসলাম, আওয়ামীলীগ নেতা ও  খলিলনগর ইউনিয় পরিষদ চেয়ারম্যান প্রণব ঘোষ বাবলুসহ আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে জনগন ক্ষোভ প্রকাশ করে, তারা এ ভাবে টিআরএম বাস্তবায়ন বন্ধ করার  দাবী জানান। এদিকে, হটাৎ করে টিআরএম চালু করার প্রতিবাদে শনিবার বিকালে শ্রীমন্তকাঠি নতুন বাজারে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই সভা থেকে  প্রকল্প’র নকশা অনুযায়ী টিআরএম প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় এমপি অ্যাড: মুস্তফা লুৎফুল্লাহ ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে জানান, হঠাৎ করে এভাবে সংযোগ খালের বাঁধ কেটে দেয়ার বিষয়টি আমাকে পাউবো কর্তৃপক্ষ জানায়নি। অথচ আমি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির উপদেষ্টা। এভাবে বাঁধ কেটে দেয়ার ফলে এলাকার একাধিক গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশংকা রয়েছে। কারণ টিআরএম -এর চারিপাশে যে ভেড়িবাঁধ নির্মান করা হয়েছে তা খুবই দুর্বল। যে কোন সময় পেরিফেরিয়াল বাঁধ ধ্বসে গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশংকা রয়েছে। তিনি বলেন, পেরিফেরিয়াল বাঁধের মধ্যে বেশ কিছু খাস জমি রয়েছে এসব জমি স্থানীয় একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে খাচ্ছে।এদিকে পেরিফেরিয়াল বাঁধের ভিতর যাদের জমি তাদের অনেকেই এখনও ক্ষতিপুরনের টাকা পায়নি। সব মিলিয়ে কিছু সমস্যা রয়েছে উল্লেক করে তিনি বলেন, এই মুহুত্বে টিআরএম চালু করা হলে পেরিফেরিয়াল বাঁধ যাতে ধ্বসে না যায় সে বিষয়টি পাউবোকে নিশ্চিত করতে হবে। না হলে এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে।