কবে কাটবে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের সংকট ?


843 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কবে কাটবে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের সংকট ?
সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৭ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

শাহিদুর রহমান/রাহাত রাজা ::
জনবল সংকটের কারনে ব্যহত হচ্ছে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম। অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও এখানে নেই একটি পূর্নাঙ্গ সরকারি মেডিকেল কলেজের সব ধরনের সুযোগ সুবিধা। ফলে ব্যহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি চিকিৎসা সেবা। শিক্ষক স্বল্পতার কারনে ব্যহত হচ্ছে শিক্ষা কার্য়ক্রম। ফলে ক্রমশঃ হতাশ হয়ে পড়ছেন সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়, ৫২ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে নিয়ে শহরের একটি ভাড়া বাড়িতে ২০১১/২০১২ শিক্ষাবর্ষে যাত্রা শুরু করেছিল সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ। শুরুতেই শিক্ষক জনবল সংকট আর অবকাঠামোগত নানা সমস্যা নিয়ে কাজ শুরু করলেও কলেজটির ছিল না নিজস্ব কোনো ভবন। দক্ষিনাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘকালের স্বপ্ন পূরন চেষ্টা শুরুতেই সমস্যার জটাজালে জড়িয়ে পড়ে কলেজটি। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে কলেজটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও এখনও শিক্ষার্থীরা ভুগছেন সেই আগের সব সমস্যা নিয়েই।
একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়,একটি পূর্নাঙ্গ সরকারি মেডিকেল কলেজের জন্য প্রয়োজন যেখানে তিন শতাধিক শিক্ষকসহ প্রস্তাবিত ৫৬০ জন জনবল, সেখানে শিক্ষকের পদ সৃষ্টি হয়েছে মাত্র ৭৭ টি । এর মধ্যে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ৫০ জন। এ ছাড়া সৃষ্ট ২২ টি কর্মচারি পদের বিপরীতে ১২ জন এবং আউট সোর্সিংয়ে ৪৬ জনসহ রয়েছেন মাত্র ১৪৫ জন।
কলেজ অধ্যক্ষ ডা. কাজী হাবিবুর রহমান জানান, এরই মধ্যে প্রথম ব্যাচের ২৯ জন পাস করে ডাক্তার হয়েছেন। প্রথম ব্যাচের ২১ জন শিক্ষার্থী সাপ্লিমেন্টারি পরিক্ষা দিচ্ছেন। মেডিকেল কলেজের ১৯টি বিভাগের প্রতিটিতে একজন অধ্যাপক, একজন সহযোগী অধ্যাপক, দুইজন সহকারি অধ্যাপক প্রয়োজন হলেও তা এখানে নেই। এমনকি সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষক না থাকায় ভিন্ন বিষয়ের শিক্ষক দিয়ে ক্লাস চালানো হচ্ছে। ফিজিওলজি, কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগে কোনো শিক্ষক নেই এবং অন্যান্য বিভাগে এক দুইজন করে থাকলেও তা এতোটাই অপ্রতুল যে তাতে কোনো কাজ হচ্ছে না। এতে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া বিঘ্নিত হচ্ছে।
অধ্যক্ষ আরও ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে জানান, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেডিওলজি ও ইমেজিং এ কোনো ডাক্তার নেই। নেই কোনো নেফরোলজিস্টও। ফলে মেশিন থাকা স্বর্তেও এক্স রে ও কিডনী ডায়ালিসিসও সম্ভব হচ্ছে না। ব্লাড ট্রান্সফিউশান ও সাইকোলজিক্যালেও কোনো ডাক্তার নেই। ইন্টারনাল মেডিসিন ও কার্ডিওলজিতে একজন করে ডাক্তার আছেন বলে জানান তিনি।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এখন জেনারেল সার্জারি, পেডিয়াটিক, ইউরোলজি, ইএনটি ,গাইনি, অর্থোপেডিকস ও ল্যাপারোসকপি অপারেশন হচ্ছে জানিয়ে অধ্যক্ষ আরো বলেন, এই হাসপাতালে সরকার প্রদত্ত চিকিৎসা ও শিক্ষা সরঞ্জাম খুবই উন্নতমানের। এখানকার অপারেশন থিয়েটারও অত্যাধুনিক। একটি অতি সমৃদ্ধ পাঠাগারও রয়েছে কলেজে।
সাতক্ষীরা মেডিকেলের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মোঃ রোকনুজ্জামান ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে জানান, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পূর্নাঙ্গভাবে চালু না হওয়ায় তাদের ওয়ার্ড ক্লাস করতে পাঁচ কিলোমিটার দুরে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে যেতে হয়। প্রাকটিক্যাল ও ইন্টার্ন ক্লাসের জন্যও যেতে হয় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে। এজন্য যাতায়াতেও ঝক্কি পোহাতে হয় তাদের। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডাক্তার ও অন্যান্য জনবল যথেষ্ট না থাকায় সেখানে রোগী আসে কম।
শিক্ষার্থী রামপ্রসাদ দাস জানান, এমনিতেই শিক্ষক কম। তার ওপর শিক্ষকরাও নিয়মিত আসেন না। তারা সপ্তাহে এক অথবা দুইদিন এসে দায়িত্ব শেষ করেন। এসব কারণ ছাড়াও প্রাকটিক্যাল ক্লাস বিঘিœত হওয়ায় তাদের অনেক ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। পেশাগত জীবনে যেয়ে তাদেরকে এসব নিয়ে ভুগতে হবে বলে জানান তিনি।
মেডিকেল শিক্ষার্থীরা আরো ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে জানান, তাদের ক্লিনিক্যাল ক্লাসগুলি ঠিক মতো হচ্ছে না। হাসপাতালে রোগী না আসায় প্রাকটিক্যাল ক্লাসও বিঘ্নিত হচ্ছে। আবাসন সমস্যার কথা উল্লেখ করে তারা বলেন, এখনও হোস্টেল পুরাপুরিভাবে নির্মিত হয়নি। সেখানে বিদ্যুৎ ও পানি সংকট রয়েছে। কলেজের সীমানা প্রাচীর না থাকায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। একটি পুলিশ বক্স স্থাপনের দাবিও করেন তারা।
হাসপাতালের প্রকল্প পরিচালক ডা. দেলোয়ার হোসেন ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে জানান, হাসপাতালের ছয়টি ওয়ার্ডে এখন পর্যন্ত দৈনিক গড়ে একশ’ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। তাছাড়া আউটডোর চালু করা হয়েছে। তবে যথেষ্ট সংখ্যক ডাক্তার না থাকায় হাসপাতালে রোগী আসে কম।
তিনি বলেন, সাতক্ষীরা শহর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দুরে বাঁকাল এলাকায় তিরিশ একর জমির ওপর অবস্থিত কলেজটির উন্নয়ন কাজ ১৫ টি প্যাকেজের ওপর চলমান রয়েছে। ২৫০ শয্যার হাসপাতালের জন্য ২৬২টি পদ অনুমোদিত হলেও এ বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা এখনও প্রক্রিয়াধীন। ৫০০ শয্যার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জন্য জনবল দরকার এক হাজার দুই’শ। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন শীর্ষক প্রকল্প’ এর মেয়াদ রয়েছে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত।
প্রকল্প পরিচালক ডা. দেলোয়ার হোসেন আরো ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে জানান, মোট ৩০৪ কোটি টাকার এই প্রকল্পের মধ্যে প্রথম পর্যায়ের দেড়’শ কোটি টাকার কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ চলছে। শিক্ষার্থীদের কেবল মাত্র গাইনি ও জরুরি বিভাগের শিক্ষা নিতে সদর হাসপাতালে যেতে হয়। বর্তমানে কলেজটিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৬০ জন। কলেজটির মাটি ভরাট কাজ চলছে। একই সাথে হোসেস্টল দু’টি নির্মাণ শেষ হবার পথে।