কমিটি বাতিল না হলে অনশন,ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতদের আল্টিমেটাম


168 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কমিটি বাতিল না হলে অনশন,ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতদের আল্টিমেটাম
মে ১৪, ২০১৯ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ছাত্রলীগের ঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি বাতিল করা না হলে অনশনের আল্টিমেটাম দিয়েছেন পদবঞ্চিতরা।

মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ আল্টিমেটাম দেন।

ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশেই মধুর ক্যান্টিনে নেত্রীদের উপর হামলা হয়েছে বলেও তারা এসময় অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ছাত্রলীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক সাইফ বাবু বলেন, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ কমিটিতে পদ দেওয়া হয়েছে ৩০১ জনকে। আমরা লক্ষ করেছি, বিগত সময়ে যারা সক্রিয়ভাবে ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তাদের একটি বৃহৎ অংশকে বাদ দিয়ে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। তাদের মূল্যায়ন না করে ছাত্রলীগের নিষ্ক্রিয়, বহিস্কৃতসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্তদের পদায়ন করা হয়েছে।

সাইফ বাবু বলেন, কমিটি প্রকাশ হওয়ার পরপরই ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতরা বিক্ষোভ মিছিল করে। সেই মিছিলে হামলা করে বেশ কয়েকজনকে আহত করা হয়েছে। হামলার প্রতিবাদে মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজনের সময়ও ফের হামলা করা হয়। আর এই হামলা চালিয়েছে কমিটিতে জায়গা করে নেওয়া আমাদেরই ভাই-বন্ধুরা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, অধিকাংশ ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মীকে বাদ দিয়ে যে কমিটি করা হয়েছে তা ভেঙে দেওয়ার আবেদন জানাচ্ছি।

এছাড়া তদন্ত করে একটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও অর্থবহ কমিটির পাশাপাশি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান তিনি।

নব্য কমিটিতে উপ-সাংস্কৃতিক পদপ্রাপ্ত বিএম লিপি আক্তার বলেন, আমি রোকেয়া হলের সভাপতি ও ডাকসুর কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা অবস্থায় আমাকে ছাত্রলীগের উপ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদ দেওয়া হয়েছে। কোন ক্রাইটেরিয়ার ভিত্তিতে আমাকে ছাত্রলীগের উপ-সম্পাদক পদ দেওয়া হয়েছে তা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদককে জিজ্ঞেস করেছি। ডাকসুর গুরুত্বপূর্ণ পদে আছি বলে আমাকে এই পদ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি অভিযোগ করেন, ‘কমিটিতে যারা স্থান পেয়েছে তারা শোভন-রাব্বানী কমিটিতে ৮-১০ মাস রাজনীতি করেছে। আগের দুই কমিটির ত্যাগী কাউকে রাখা হয়নি।’

তদন্ত কমিটি নিয়ে জোর আপত্তি জানিয়ে লিপি বলেন, ‘যারা মধুর ক্যান্টিনে মারধর করেছে তাদেরই তদন্ত কমিটির সদস্য করা হয়েছে। এই তদন্ত কমিটি আমরা মানি না। ছাত্রলীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সরাসরি নির্দেশেই হামলা চালানো হয়েছে।’

এসময় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কমিটি বাতিল করা না হলে অনশনের আল্টিমেটাম দেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদস্য তানভীর হাসান সৈকত, ফরিদা পারভীন, কবি জসিম উদ্দিন হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহেদ খান, প্রমুখ।

এর আগে পদবঞ্চিত ছাত্রলীগের শতাধিক নেতাকর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ের হাকিম চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে শেষ। এ সময় কমিটি ‘মানি না’বলে স্লোগান দিতে থাকেন তারা।