করোনা প্রতিরোধে সাতক্ষীরায় অভিযান অব্যাহত


482 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
করোনা প্রতিরোধে সাতক্ষীরায় অভিযান অব্যাহত
মার্চ ২৯, ২০২০ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

প্রেস নোট :

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, এস এম মোস্তফা কামালের নির্দেশে গতরাতে সাতক্ষীরা জেলার প্রতিটি উপজেলায় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতামূলক অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রতিটি উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং সহকারী কমিশনারদের নেতৃত্ব বাজার মনিটরিং করা হয়, করোনা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ এবং মাইকিং করা হয় এবং শতভাগ হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করাসহ নিত্যিপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দোকান ছাড়া অন্যসব দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সাতক্ষীরা জেলার মান্যবর প্রশাসক, এস এম মোস্তফা কামাল আজ সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের করোনো আইসোলেশন ইউনিট পরিদর্শন করেন। রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিট পরিদর্শনে যান।
এসময় তিনি চিকিৎসকদের সাথে মতবিনিময় করেন এবং করোনো চিকিৎসার প্রস্তুতি, চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মীদের সার্বিক খোঁজখবর নেন। এ সময় জেলা প্রশাসক হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মীদের সুরক্ষার জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক ও গাউন প্রদান করেন।

শহরের বিভিন্ন স্থানে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জীবাণুনাশক স্প্রে করা হয় এবং মান্যরব জেলা প্রশাসক, এস এম মোস্তফা কামাল মহোদয়, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), মোঃ বদিউজ্জামান এবং স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক, জনাব মোঃ হুসাইন শওকত বিভিন্ন স্থানে দুস্থ মানুষের মাঝে ১০ কেজি চাল, ৫ কেজি আলু, ১ কেজি ডাল, ১ লিটার তেল ও ১ কেজি লবণ বিতরণ করেন।

জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটগণ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। সবাইকে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার জন্যে অনুরোধ করা হচ্ছে। আপনি ঘরে থাকলে ভালো থাকবে আপনার পরিবার, ভালো থাকবে জাতি, ভালো থাকবে দেশ।

নিরাপদ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য ও ঔষধের দোকান ব্যতীত অন্যান্য দোকান বন্ধ রাখা নিশ্চিত করতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটবৃন্দ সদা গতিশীল রয়েছে। আপনারা ঘরে থাকুন, পরিবারকে সময় দিন, নিরাপদ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন। করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে আমাদের জয়ী হতেই হবে।

এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নূরুল আমিন লোক সমাগম নিরুৎসাহিত করতে দেবহাটা উপজেলার বিভিন্ন বাজারে অভিযান পরিচানা করে ।কয়েকটি ইউনিয়নে হোম কোয়ারান্টিনে থাকা ব্যক্তিদের বাড়ি গিয়ে পর্যবেক্ষণ করে।

এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মুর্শিদা খাতুন এবং উম্মে মুসলিমার নেতৃত্বে একটি টিম খুলনা রোড হতে পাটকেলঘাটা বাজার পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান গুলোতে লোক সমাগম পরিহার করে বিক্রয় করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়। চায়ের দোকানে অপ্রয়োজনীয় জমায়েত বন্ধ করার নির্দেশ প্রদান করা হয় এবং মুদি দোকানে একত্রে জমায়েত বন্ধ করতে বলা হয়।প্রয়োজন ব্যতীত বাহিরে বের না হতেও অনুরোধ করা হয় মাইকের মাধ্যমে।

সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে প্রতিটি ইউনিয়নে দুস্থ মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করে। গতরাতে মাইকিং এর মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করেন। সরকারি আদেশ অমান্য করায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ২০০০০ টাকা জরিমান করেন।

আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশনায় বড়দল ইউনিয়নের প্রত্যেকটি বাজার ব্লিচিং পাউডার দ্বারা স্প্রে করা হয় এবং এবং প্রতিটি ইউনিয়নে ভাইরাস প্রতিরোধে স্প্রের ধারা অব্যাহত আছে। মাস্ক বিহীন মানুষের মাঝে মাস্ক বিতরণ করা হয়। প্রতিটি দোকানের সামনে সাদা গোল বিত্ত চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে যাতে নিরাপদ দূরত্বে থেকে দ্রব্য ক্রয় করতে পারে। প্রতিটি ইউনিয়নে ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বর এবং গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে দুস্থ মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী পৌছে দেওয়া হচ্ছে।

তালা উপজেলায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দোকানগুলোর সামনে সাদা দাগ দেওয়া হয়েছে। সামাজিক দূরুত্ব বজায় রেখে দুস্থ মানুষের মাঝে খাবারসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট দাগের মধ্যে দাঁড়িয়ে মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয় করছেন। প্রয়োজন ছাড়া যাতে কেউ ঘরের বাহিরে বের হয়ে ঘোরাঘুরি না করেন সে জন্য তাদের সতর্ক করাসহ সচেতনতা মাইকিং অব্যাহত আছে। একইসাথে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দোকান ও ঔষধের দোকান ছাড়া বাকী অন্যান্য দোকানদের তাদের দোকান বন্ধ করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নের জীবাণু নাশক স্প্রে করা হয়। গ্রামের বাড়িতে, বাড়িতে গিয়ে ও বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে জীবাণু নাশক স্প্রে করা হচ্ছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজ খলিষখালী, দোলুয়া নগরঘাটা, সেনের গাতি, মৌলভীবাজার, পোড়াবাজার ফুলবাড়ি বাজার, সরুলিয়া বাজার পাটকেলঘাটা বাজার সহ বেশকিছু বাজারে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ব্যাপারে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় বিভিন্ন দোকানে সামাজিক দূরত্ব বোধক চিহ্ন এঁকে দেওয়া হয় ।ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে মাঠে বসে আড্ডা দেওয়া একজনকে 500 টাকা জরিমানা করে এবং অন্য একটি মাঠ থেকে গল্পরত অবস্থায় দুইজনকে আটক করা হয় পরবর্তীতে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।

কলারোয়া উপজেলার কলারোয়া বাজারে জীবানুনাশক ব্লিচিং পাউডার মিশ্রিত জীবানুনাষক পানি ছিটানো হচ্ছে। হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা হয়েছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি), আক্তার হোসেন এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার, আর এম সেলিম শাহনেওয়াজ বাজার মনিটরিং করেন । উপজেলা বাজারে দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতি নিয়ন্ত্রন, হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত কল্পে এবং করোনা বিস্তার প্রতিরোধে প্রশাসন সক্রিয় থেকে মাঠে রয়েছে । জন সাধারণের ঘরে থাকার নিদেশ দেন ও পরিবারকে সময় দিতে বলেন, নিরাপদ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন। নিজে বাঁচুন সুস্থ থাকুন, অন্য বাঁচান সুস্থ রাখুন। এছাড়া টহলরত অবস্থায় সেনাবাহিনী আছেন। কলারোয়া গরু হাটসহ কলারোয়া বাজার, দমদম, সোনাবাড়িয়া, বুঝতলা, ও গয়ড়া বাজারে ঔষধ ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকান, মুদি দোকান ব্যতিত অন্যান্য দোকান বন্ধে পরিচালিত অভিযান পরিচালনা করে।

কালিগঞ্জ উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার, এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) উপজেলায় টহল কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। সামাজিক দূরতবে রেখে মানুষের বাড়ীতে বাড়ীতে গিয়ে ত্রাণ বিরতণ করা হয়। জীবাণুনাষক দিয়ে পুরো উপজেলা ধুয়ে ফেলা হচ্ছে। মানুষ নিরাপদ দূরত্বে থেকে প্রয়োজনীয় জিনিস কিনছে। হোম কোয়ারেন্টিন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

শ্যামনগর উপজেলায় বাজারগুলোতে প্রতিটি দোকানের সামনে সাদা দাম দিয়ে দেওয়া হয়েছে যেন মানুষ নিরাপদ দূরত্ব বজার রেখে প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পারে। শতভাগ হোম কোয়ানেন্টিন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার, এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) উপজেলায় টহল কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) শ্যামনগর উপজেলার নওয়াবেঁকী বাজার, কলবাড়ী বাজার, ও মুন্সিগঞ্জ বাজারসহ বিভিন্ন মোড়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য মাইকিং এর মাধ্যমে অনুরোধ করে।

দেবহাটা উপজেলায় বিদেশ ফেরত সকেলেই হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন। নিত্বপ্রয়োজনীয় দোকান ছাড়া অন্যান্য দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ওষধ এবং প্রয়োজনীয় দোকানের সামনে সাদা বৃত্ত অঙ্কণ করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে দুস্থ মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী পৌছে দেওয়া হচ্ছে। শতভাগ হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।