“করোনাকালে নারী নেতৃত্ব গড়বে নতুন সমতার বিশ্ব”


156 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
“করোনাকালে নারী নেতৃত্ব গড়বে নতুন সমতার বিশ্ব”
মার্চ ৮, ২০২১ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

॥ মমতাজ খাতুন ॥

আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। ১৮৫৭ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সেলাই কারখানায় নারী শ্রমিকরা ভোটাধিকারসহ তাদের মর্যাদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশকিছু সুনির্দিষ্ট দাবিতে আন্দোলন করলে তারা পুলিশি নির্যাতনের শিকার হন। এ দিনটিকে নারী দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব করেছিলেন জার্মান নারী নেত্রী ক্লারা জেটকিন ১৯১০ সালে। ১৯১১ সালে প্রথম বেসরকারিভাবে বিভিন্ন দেশে দিনটিকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করা হয়। এর দীর্ঘ ৭৩ বছর পর ১৯৮৪ সালে জাতিসংঘ ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে ঘোষণা করার পর থেকে দিনটিকে জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলো সরকারিভাবে নারী দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। বাংলাদেশও জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র হওয়ায় ৮ মার্চ নারী দিবস পালন করে থাকে এবং দিনটিতে নারী সমাজের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও তাদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় “নারীর ক্ষমতায়ন, মানবতার উন্নয়ন”।

নারী আন্দোলনের দীর্ঘ পথপরিক্রমায় নারী সমাজের যথেষ্ট অগ্রগতি সাধিত হলেও জেন্ডার সমতার বিষয়টি এখনও পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি। এ চিত্র শুধু বাংলাদেশেই নয়, পৃথিবীর সর্বত্র দৃশ্যমান। অথচ দেশ কিংবা সমাজের উন্নয়ন নির্ভর করে জনগোষ্ঠীর সামগ্রিক অবদান ও অংশগ্রহণের ওপর। অর্থাৎ সমাজে পুরুষের সমান অংশ নারীর অংশগ্রহণ ছাড়া কাঙ্খিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা ও সামাজিক কর্মকান্ডে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে সত্য, কিন্তু তা কাঙ্খিত মাত্রার অনেক নিচে অবস্থান করছে। শুধু তাই নয়, নারী নির্যাতন ও বঞ্চনাও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা সম্ভব হয়নি। দেশের নারী সমাজ এখনও নানা ধরনের পারিবারিক, সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় নির্যাতন ও বঞ্চনার শিকার। ধর্ষণ ও যৌন হয়রানি বেড়েই চলেছে এবং এর শিকার হয়ে আত্মহননও করেছেন অনেকে। যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় প্রতিবাদকারীকেও হত্যা করা হয়েছে কিছু ক্ষেত্রে। বস্ত্রশিল্পে নারী শ্রমিকের বঞ্চনা আলোচিত ঘটনা। এ শিল্পের প্রসার ঘটেছে মূলত নারী শ্রমিকের কল্যাণেই, অথচ তারা মানবেতর জীবনযাপন করে থাকেন। যৌতুক প্রথা, বাল্যবিবাহ, ধর্মীয় কুসংস্কার, পারিবারিক জীবনে পুরুষতান্ত্রিক মনোভাবের আধিপত্য, প্রথা, মান্ধাতা আমলের মনোকাঠামো ইত্যাদি নারী অগ্রগতির পথে বড় বাধা। এসব অতিক্রম করার নিরন্তর প্রচেষ্টা চলছে দেশে। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নেয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ। কিন্তু আবহমানকালের প্রথাগত সামাজিক চিত্রটিকে একেবারে মুছে ফেলা সম্ভব হচ্ছে না।

জাতীয় জীবনে নারীর যথাযথ মর্যাদা ও স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার বেশকিছু আন্তর্জাতিক নীতি ও সনদে স্বাক্ষর করেছে। জাতিসংঘ সিডও সনদ, বেইজিং প্ল্যাাটফরম ফর অ্যাকশনের অন্যতম। ১৯৯৫ সালে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত চতুর্থ বিশ্ব নারী সম্মেলনের ঘোষণা অনুযায়ী ১৯৯৭ সালে ১৪ দফা জাতীয় নারী নীতি ঘোষণা করা হয়েছিল। পরবর্তী কয়েক বছর এ নীতি বাস্তবায়নের তেমন কোনো উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয়নি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ১৯৯৭ সালের নারী উন্নয়ন নীতি সংশোধিতরূপে পুনর্বহালের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করলেও এখন পর্যন্ত এর কোনো অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। আমরা আশা করব, এ নীতিকে অবিলম্বে সময়োপযোগী করে তা যথাযথভাবে বাস্তবায়নে উদ্যোগী হবে সরকার। নারীর সমমর্যাদা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে শক্তিও রয়েছে সমাজে। এ অপশক্তি নারীকে পর্দার অন্তরালে রেখে তাকে পণ্য হিসেবে দেখতেই অভ্যস্ত। ধর্মপ্রাণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার সুযোগও রয়েছে তাদের। এ অপশক্তিকে মোকাবেলা করতে হবে দক্ষতার সঙ্গে।

দেশের প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, জাতীয় সংসদের স্পিকার তিনজনই নারী। নারী সমাজের উন্নয়নের জন্য এর চেয়ে বড় ইতিবাচক শর্ত আর কী হতে পারে? বাংলাদেশের সংবিধানসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নীতিমালায় নারীর রাজনৈতিক-সামাজিক ক্ষমতায়ন ও অংশগ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এতকিছুর পরও কেন পিছিয়ে থাকবে নারীরা? অনেক দেশে জেন্ডার সমতার ক্ষেত্রে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। বাংলাদেশেও এটা সম্ভব। প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও দৃঢ় প্রত্যয়। জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও আধুনিক শিক্ষার প্রসার হতে পারে কর্মসূচি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

বর্তমান সরকার নারী বান্ধব সরকার। কারণ বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু সমুহের সাথে বাংলাদেশের অবস্থার সমন্বয়ের মাধ্যমে নারী মুক্তির লক্ষ্যে বিদ্যমান সকল কার্যক্রমকে এগিয়ে নিচ্ছে। বাংলাদেশে সকল মন্ত্রাণালয়ের কার্যক্রমের আওতায় নারীকে উন্নয়নের মূলধারায় আনয়নের জন্য মন্ত্রনালয়গুলোর ম্যান্ডেট স্থির হয়েছে এবং জেন্ডার রেসপন্সিভ বাজেট প্রনয়নের উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় রয়েছে সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটি। উন্নয়ন নীতিমালা পরিকল্পনা ও কার্যক্রমে জেন্ডার ইস্যু যুক্ত করার জন্য সকল মন্ত্রণালয়ে রয়েছে যুগ্ম সচিব পর্যায়ের ফোকাল পয়েন্ট। ফোকাল পয়েন্ট ম্যাকানিজম শক্তিশালী করতে ১৪টি লাইন মন্ত্রণালয়ের জন্য জাতীয় নারী উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ম্যাট্রিক্স রয়েছে। জেলা/ উপজেলা সমন্বয় কমিটি ও প্রকল্প সমুহের কার্যক্রম পরীবিক্ষনের জন্য মনিটরিং ম্যাকানিজম ফরম্যাট রয়েছে। নারী উন্নয়নের ক্ষেত্রে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে নেতৃত্বদানকারী ভূমিকা পালন এবং ২০০৫ সালে বেইজিং এ ৪র্থ বিশ্বনারী সম্মেলনে গৃহিত বেইজিং প্লাটফর্ম ফর এ্যাকশান (পি এফ এ) এর আলোকে মন্ত্রণালয়ের এলোকেশন অব বিজনেস সংশোধিত হয়েছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী/ প্রতি মন্ত্রীর সভাপতিত্বে ২১ সদস্য বিশিষ্ট বাংলাদেশ মহিলা কল্যাণ পরিষদ (বামকপ) নামীয় একটি কমিটি রয়েছে। আরও রয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ৫৪ সদস্য বিশিষ্ট জাতীয় মহিলা ও শিশু উন্নয়ন পরিষদ (এন সি ডাব্লিউ সি ডি) যার মাধ্যমে নারীদের যাবতীয় সমস্যা সমাধানে এবং নারী উন্নয়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সম্পৃক্ত হয়ে যাবতীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করে থাকেন।

সরকারী উদ্যোগের পাশাপাশি দেশের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো বিশেষভাবে বিশেষভাবে নারী প্রধান সংস্থাসমূহ নারীর সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে কাজ করে আসছে।করোনাকালেও এর ব্যতিক্রম নয়। এতদসত্বেও বাংলাদেশের নারীর বাস্তবতা বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের থেকে ভিন্ন। আমরা সবাই জানি, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। কিন্তু অপ্রিয় হলেও সত্য যে, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক-কোন ক্ষেত্রেই নারীর অংশগ্রহণ যথেষ্ট নয়। আমরা যদি শিক্ষার দিকে লক্ষ্য করি তাহলে দেখতে পাই, প্রাথমিক পর্যায়ে ছেলে ও মেয়ে শিশুর ভর্তির হার প্রায় সমান কিন্তু মাধ্যমিক থেকে উচ্চতর পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ ক্রমশ কমতে থাকে। একইভাবে কর্মক্ষেত্রেও পুরুষ ও নারীর অংশগ্রহণ সমান নয়। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ আগের যেকোন সময়ের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে একথা ঠিক কিন্তু পুরুষের তুলনায় অনেক পিছিয়ে। একইভাবে পরিবার থেকে শুরু করে প্রায় সকল ক্ষেত্রেই সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর অংশগ্রহণ এখনও পিছিয়ে আছে। সম্পত্তির মালিকানার ক্ষেত্রেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। ইভটিজিং, খুন, ধর্ষন, এডিস সন্ত্রাস ইত্যাদি অপরাধের শিকার হয়েও নারীর পক্ষে ন্যায় বিচার পাওয়া কঠিন। সামাজিকভাবে পশ্চাৎপদ ধারণা ও কুসংস্কার নারীর সমমর্যাদা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এখনও দেয়াল হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। ক্ষুধা, দারিদ্র, দুর্যোগ, বিশেষ করে চলমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় জলবায়ু পরিবর্তন জনিত ঝুঁকিও নারীকে সবচেয়ে বেশী বিপন্ন অবস্থায় রেখেছে । এমনকি দুর্যোগকালীন ও দুর্যোগ পরবর্তী নারী নানা ধরনের পরিস্তিতির স্বীকার হয়। উল্লেখিত অবস্থা সমূহের পরিবর্তন হওয়া খুবই জরুরী।

“করোনাকালে নারী নেতৃত্ব ,গড়বে নতুন সমতার বিশ্ব”

বিশ্বব্যাপী করোনার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান ধরে রেখে সফলতা অর্জন করেছেন মানবিক নারী নেত্রীরা যার একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো-নারী নেতৃত্ব। মহামারির সংকটে দক্ষ নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত রেখেছে ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক, তাইওয়ান, জার্মানি, নিউজিল্যান্ড, আইসল্যান্ড এবং বাংলাদেশের মতো দেশগুলো। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য কিংবা রাশিয়ার মতো সামরিক ক্ষমতাধর দেশগুলো যেখানে মহামারি ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে সেখানে দক্ষ নেতৃত্বের মাধ্যমে সফলতার সাথে অর্জন আনছে নারী সরকার প্রধানরা। হয়তো অনেকেই বলবেন ‘ছোট দেশ’, ‘জনসংখ্যা কম’ কিংবা ‘দ্বীপরাষ্ট্র’ বলেই সেসব দেশে সহজে মহামারি মোকাবিলা করা সম্ভব। সেক্ষেত্রে জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের পার্থক্যটা দেখা যেতে পারে। জার্মানি করোনা মোকাবিলায় যেভাবে কাজ করেছে একই আয়তন ও জনসংখ্যার যুক্তরাজ্য দ্বীপরাষ্ট হয়েও তা করতে পারেনি। নারী নেতৃত্বে থাকা দেশগুলোর কৌশল বিশ্লেষন করলে দেখা যায় কয়েকটি সাধারণ বৈশিষ্ট্যের কারণেই তারা করোনা ঠেকাতে সফল হয়েছেন তার মধ্যে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহন, বাস্তবায়ন ও গুরুত্ব বিবেচনা যেমন তাইওয়ান করোনা মোকাবিলায় প্রাথমিকভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম যেখানে জানুয়ারি ২০২০ মাসের শুরুতেই করোনার বিস্তার ঠেকাতে লকডাউন ঘোষণার বদলে আক্রান্তদের চিহ্নিত করে আলাদা করাসহ মোট ১২৪ ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট সাই ইং ওয়েন এজন্য সিএনএন এক প্রতিবেদনে তাইওয়ানের এ উদ্যোগকে ‘করোনা মোকাবিলায় বিশ্বে শ্রেষ্ঠ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে । পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রায় এক কোটি ফেস মাস্ক সরবরাহ করেছে দেশটি। করোনা মোকাবিলায় দক্ষ নেতৃত্বের কারণে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা অ্যার্ডেন। প্রধানমন্ত্রী ক্যাটরিন ইয়াকোবস্টডিটির নেতৃত্বে দেশের সকল নাগরিকের বিনামূল্যে করোনাভাইরাস পরীক্ষা করেছে আইসল্যান্ড।
আতঙ্কে থাকা শিশুদের অনুপ্রেরণা ও সচেতন করে তুলতে ঘরবন্দি শিশুদের মানসিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে বিশ্বে প্রথম শিশুদের জন্য বিশেষ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী এর্না সোলবার্গ। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত সংবাদ সম্মেলনে কেবল শিশুরাই ফোন করতে পারত এবং দেশের সকল শিশুদের সব ধরনের প্রশ্নের উত্তর দেন সরাসরি প্রধানমন্ত্রী এর্না সোলবার্গ।
পাশাপাশি জনবহুল দেশ বাংলাদেশ এর কথা সবার আগে। করোনা মোকাবেলায় শক্ত নেতৃত্বে রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ । কোভিড-১৯ মহামারীতে গত এক বছরে বিশ্ব ব্যবস্থা যখন টালমাটাল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কারনেই আজ বাংলাদেশ বিশেষ ভূমিকা রাখছে, রোল মডেল বাংলাদেশ । শুরুতেই আতঙ্ক ছিল হয় কোটিখানেক মানুষ হয় মারা যাবে । কিন্ত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কারনেই কোভিড-১৯ বাংলাদেশে মহামারীতে রুপান্তরিত হতে পারেনাই।( সনাক্ত -৫৪৯৭২৪, সুস্থ্য-৫০১৯৬৬, মৃত্যু-৮৪৫১) (তথ্য সংগ্রহঃ ০৫ মার্চ ২০২১) ।
পাশাপাশি প্রত্যেক ঘরে ঘরে নারী তাঁর মনন, মেধা, শ্রম ও ভালবাসা দিয়ে পরিবারকে করোনামুক্ত রাখতে যে বলয় সৃষ্টি করেছে তার উদাহরন পৃথিবীতে বিরল বলেই আজ বাংলাদেশে জনসংখ্যার তুলনায় আক্রান্ত খুবই কম।
নারীর অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত ও বেগবান করার জন্য আমাদের দেশে সরকারী উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারী সংস্থাগুলো বিশেষভাবে নারী নেতৃত্বাধীন সংস্থাগুলোদীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। শুধু জিও, এনজিও নয় নারী পুরুষের সমঅংশীদার নিশ্চিত করার জন্য দেশের প্রতিটি মানুষকেই আরো সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে। সমাজকে গড়ে তোলার জন্য সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠি নারীকে যেমন সম্পৃক্ত করতে হবে এবং তাঁদের অবদানকে পারিবারিক,সামাজিক ও রাষ্টিয়ভাবেও গুরুত্ব দিতে হবে ও মূল্যায়ন করতে হবে। আর তবেই অর্জিত হবে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতিপাদ্য “করোনাকালে নারী নেতৃত্ব,গড়বে নতুন সমতার বিশ্ব” এর সফল বাস্তবায়ন। আসুন সকলেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে নারীর উন্নয়ন ও নেতৃত্বকে মুল্যায়ন করি, পারিবারিক,সামাজিক ও রাষ্টিয়ভাবে তাঁদের অবদানকে আরও গুরুত্ব সহকারেদেখি এবং অন্যকেও মূল্যায়ন করতে সহযোগীতা করি ।

লেখক : মমতাজ খাতুন , নির্বাহী পরিচালক, আশ্রয় ফাউন্ডেশন

#