” করোনায় প্রত্যাবর্তন “


244 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
” করোনায় প্রত্যাবর্তন “
নভেম্বর ২৪, ২০২০ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

॥ হিজবুল্লাহ শরীফ ॥

[১]
মৃদু শীতের সকালে পাশের নতুন ভাড়াটিয়াদের মোরগের সুরেলা কন্ঠে ঘুমটা ভেঙে গেল, পেলাম নতুন এক ভোর ফজরের আজান হলো ঘুমের অলসতার কারণে অন্য দিনের মতো আজও নামাজ পড়তে যাওয়া হলো না। অটোসাটো করে আবারো ঘুমিয়ে পড়লাম। হঠাৎ ফোনে মেসেজের শব্দ। ঘুমঘরে ফোনটি হাতে নিয়ে দেখি বিকাশে পাঁচশো টাকা সেন্ড মানি করছে। খুব আনন্দ লাগছে আজ মাসের ১০ তারিখ এই অসময়ে কে টাকা দিল প্রথমে ভাবলাম হয়তো ভাইয়া না হয় ছোট মামা যাইহোক ভাইয়া মামা টাকা দিলে তো ফোন করে বলতো, ভাবলাম ভুল করে কেউ দিছে মনে হয় যেমনটি আমার একবার হয়েছিল। ঘুম আর আসলো না সকালে খাওয়া শেষ করে বাংলাদেশের প্রথম বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম এর বঙ্গভবনের শেষ দিনগুলো বইটি পড়ছিলাম। বইটির ভাষা বেশ কঠিন গুরুগম্ভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ। ২০১৯ সালের বইমেলা হতে ছোট মামা আমার জন্য কিনেছিল। সকাল ১০টার দিকে বন্ধু মাহফুজের সাথে গল্প করছিলাম হঠাৎ আমার ফোনে জাস্টিন বিবারের লেট মি লাভ ইউ রিংটোন বেজে উঠল হাতে নিয়ে দেখি, আমার মেকাপ সুন্দরী বন্ধু ফোন করেছে ফোনটা রিসিভ করলাম না। পরপর দুইবার ফোন করলো কিন্তু ফোন রিসিভ করলাম না পাস হতে আফজাল বলল ফোনটা রিসিভ করো দেখো কি বলে হয়তো খুবই জরুরী কিছু হতে পারে, আরে ওর জরুরি হলো দোস্ত ২০০ টাকা দিবে মেকাপ কিনে খাব। এই ছাড়া কিছু চাওয়ার নাই এর আগে আমার কাছ হতে বেশ কয়েকবার টাকা নিয়েছে কিন্তু দেই নাই। এর মধ্যে বেশ কয়েকবার ফোন দিল অবশেষে রিসিভ করলাম__
[২]
‘আমিঃ দোস্ত কেমন আছিস? ‘

‘আসসালামু আলাইকুম,আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি তুই কেমন আছিস?’

‘ওয়া আলাইকুমস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু ওয়া মাগফেরাতু, হ্যাঁ ভালো আছি। দোস্ত তুই কি তুই হাজী হয়ে গিয়েছিস নাকি না অন্য কিছুর ধান্দা করছিস।’

‘আরে না তোর ফোনে কি ৫০০ টাকা গিয়েছে’

‘হুম! কেন তুই দিয়েছিস নাকি’

‘তুই তো আমার কাছে টাকা পাস অনেক তাই অল্প করে শোধ করার চেষ্টা করছি’

‘বাহ্!বাহ্! তা কার কাছ হতে পুটিয়ে টাকাটা পাঠানো হলো। এ নাম্বারতো তোর না,আর এত সকলে তুই তো উঠিস না।’

‘আরে আমার নতুন নম্বর। আগের যে কয়টি নম্বর ছিল সব নষ্ট করে ফেলছি। আর আমি এখন সকাল সকাল উঠি।’

‘তা তোর টুপি পরানো ছেলে গুলোর কি আবস্হা?’

‘আরে সব বাদ। ধর্মের পথে ফিরে আইছি।’

‘হা হা…তুই পা… হাত দিয়ে কছম খালি ও আমি বিশ্বাস করবো না বুঝলি।’

‘বিশ্বাস করা লাগবে না। তুই মাথায় চুল রাখছিস ক‍্যান,কবি হবি নাকি? আর নামাজ কালাম তো করিস না!! কী হবে তোর!’

‘তোর ওতো জ্ঞান দিতে হবে না বুঝলি। নিজের চরকায় তেল দে ।’
‘রাগ করছিস বুঝি? তুই যখন আমাকে বলতিস নামাজ পড়,নিষ্পাপ ছেলেদের জীবন নষ্ট করিস না। তখন দোস্ত আমারো খারাপ লাগত। এটাই স্বাভাবিক। যাই হোক দোস্ত আমি তোর কথা অনুযায়ী চলি। “তোর ভাষা মতে ফেয়ার এন্ড লাভলী খাইনা” কারণ করানোর সময় ফেসিয়াল করে মুখ কারোর দেখানো যায়না যেহেতু মাক্স পড়তে হয়, তাছাড়া পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আগে ওযু করতে হয় সুতরাং ফেসিয়ালের প্রয়োজন আসে না। দ্বিতীয়তঃ নিষ্পাপাপ ছেলে গুলোর কাছ হতে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছি তারাও তাদের ভুল বুঝতে পারছে তবে তাদের টাকা, গিফট,রেস্টুরেন্ট বিল ফেরত দিব বলেছি কিন্তু সবাই বলছে দেয়া লাগবেনা। তৃতীয়তঃ উপন্যাস ছেড়ে তোর দেয়া আরিফ আজাদের বই গুলো শেষ করছি বেশ ভালো লাগছে!! হয়তো জীবনে প্রত্যাবর্তন আসছে এই বইগুলো পড়ে। যাইহোক আমি ভালো হওয়ার চেষ্টা করছি। দোয়া করিস আমার জন্য। কি হলো কথা বল।’

‘হুম,দোয়া করি।’

‘করোনা না আসলে বুঝতে পারতাম না,ধর্মানুযায়ী চলা কি যে এক শান্তি! তবুও দোয়া করি মহান রবের কাছে খুব তাড়াতাড়ি পৃথিবী হতে করোনা নামক এই ভয়াল মহামারী নিঃশেষ হয়ে যাক। ফিরে পাক পূর্বের থেকে সুন্দর এক অনৈরাজ্য পূর্ণ পৃথিবী। যেখানে থাকবে না কোন মারামারি, হানাহানি,অন্যায়-দুর্নীতি, খাদ্যের অভাব, সকল মানুষ থাকবে সুখী ও সমৃদ্ধ।’

‘হুম,তাই জানি হয়। তা শুনি তোর কিভাবে এ পরিবর্তন হলো।’

‘করোনার কারণে ক্যাম্পাস যখন ছুটি হল বাড়িতে চলে এলাম। টিভি খুললেই দেখি চারিদিকে মানুষের হাহাকার খুবই খারাপ লাগত বিশেষ করে গরিব-দুঃখী মানুষের কথা ভেবে প্রথমে ভাবলাম অসহায় মানুষের জন্য কিছু করা যায় কিনা এই ভেবে পাড়ার সকল বন্ধু, বড় ভাই, সকলের সহযোগিতায় এলাকায় দুস্থ- অসহায় ও মধ্যবিত্ত মানুষের সাহায্য করতে লাগলাম। বেশ ভাল লাগা শুরু হল- আস্তে আস্তে বদ অভ্যাস পরিত্যাগ করে ভালো কাজ করার চেষ্টা করতে লাগলাম। নামাজ পড়া শুরু করলাম অবশ্যই প্রথমে করোনার ভয়ে ভয়ে নামাজ পড়তাম মাঝে মাঝে দুই এক ওক্ত বাদ যাতো তখনও অনেকের সাথে কথা বলতাম তবে আগের মতো ওতো হতোনা। আস্তে আস্তে সব কিছু বাদ দিয়ে দিলাম আর করোনার ভয়ে নয় এখন বুঝি এটি আমার প্রয়োজন সুতরাং সব মিস হয় বাট নামাজ মিস হয়না।’

‘[মনে মনে ] ওর কথা শুনে বেশ শক পেলাম। এ যেন এক শীতের কুয়াশাপূর্ন সকালে এক ফলকা রোদের ছোঁয়া।’

‘কি হলো কিছুতো বল। অন্য সময় তোর জন‍্য কথা বলার সুযোগ পায়না,আজ কবি নীরব কেন!’

‘আসলে তোর কথা শুনে বেশ ভাল লাগল। তবে দোস্ত ফেসিয়াল করা টাকা গুলি কি করিস এখন।’

‘তোর না…. দ্রুত গোসল করে নামাজে যা ঠিক আছে। ভাল থাক,আসসালামু আলাইকুম।’

‘ওকে, ওয়ালাইকুম সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।’
[৩]
আসরের নমাজ পড়ে মসজিদ হতে বাইরে বেরিয়ে আমার প্রিয় এক বড় ভাইয়ের সাথে দেখা হলো। ভাইয়া তার এক বন্ধুকে আমার বিষয় একটু বেশি বেশি বলল, সু কীর্তন শুনতে বেশ ভালই লাগলো, নিজের বিষয় ভালো শুনতে কার না ভালো লাগে ঠিক তেমনটিই হলো আমারও। দ্রুত রাতে ঘুমিয়ে পড়লাম। ভোর সাড়ে চারটার দিকে মোনায়েম বিল্লার মেহেরবান রিংটোন বেজে উঠল,বেশ জরে ঘুম ভেঙ্গে গেল-কয়েক বছরের পুরাতন অভ্যাসকে পিছু ফেলে।

‘ঘুম ভাংগা কন্ঠে আসসালামু আলাইকুম।’

‘ওয়ালাইকুম আসসালাম কি ঘুম হতে উঠলি?’

‘নাাাআ ঘুম আসছে’

‘নামাজ পড়ে আবার ঘুমাস, এখন আর ঘুমাতে হবে না কেমন।’

অন্ধকারকে দূরে ঠেলে দিয়ে -এক নতুন আলোয়় নিজেকে পরিবর্তনের ঠিকানায়,,,,,,,,

#করোনায়_প্রত্যাবর্তন।
✒ হিজবুল্লাহ শরীফ