করোনা উপসর্গে মারা গেলেন ‘সময়ের আলো’র আরেক সাংবাদিক


310 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
করোনা উপসর্গে মারা গেলেন ‘সময়ের আলো’র আরেক সাংবাদিক
মে ৬, ২০২০ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

এবার করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মারা গেলেন ‘দৈনিক সময়ের আলো’ পত্রিকার জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদক মাহমুদুল হাকিম অপু। মঙ্গলবার রাতের কোনো এক সময় ঘুমের মধ্যে মারা যান তিনি।

এর আগে গত ২৮ এপ্রিল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ‘দৈনিক সময়ের আলো’র চিফ রিপোর্টার ও নগর সম্পাদক হুমায়ুন কবীর খোকন।

অপু মূলত ক্রীড়া সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার বয়স হয়েছিল ৫২ বছর।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বুধবার ভোররাতে অপুকে সেহেরি খাওয়ার জন্য ডাকতে গিয়ে মৃত অবস্থায় পান তারা। গত সপ্তাহে সহকর্মী হুমায়ুন কবীর খোকন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পর তিনি বাসায় থেকেই অফিসের কাজ করছিলেন।

অপুর মৃত্যু করোনার কারণে হয়েছে কি-না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।

সাংবাদিক খোকনের মৃত্যুর পর সময়ের আলো কার্যালয় লকডাউন ঘোষণা করে সবাইকে বাসা থেকে কাজ করতে বলে কর্তৃপক্ষ।

অপুর এক বন্ধু বলেন, ‘অপুর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, ১০-১২ দিন ধরেই আইসোলেশনে ছিল সে। কয়েকদিন আগে ঠাণ্ডা লেগেছিল এবং হালকা কাশি ছিল। জ্বর কমে যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত ছিল না। কিন্তু রাতে ঘুমের মধ্যে মারা যায় সে।’

হুমায়ুন কবীর খোকনের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী এবং সন্তানও কভিড-১৯ এ আক্রান্ত হন। এ অবস্থায় সময়ের আলোতে কর্মরতদের মধ্যে করোনা আতঙ্ক বেড়ে যায়।

অপুর বাড়ি নরসিংদীর রায়পুরায়। তিনি স্ত্রী ও দুই ছেলে রেখে গেছেন। এর আগে তিনি ভোরের কাগজ, আমার দেশ, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, সকালের খবরে কাজ করেন।

এদিকে সাংবাদিক অপুর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বুধবার এক বিবৃতিতে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু বলেন, ‘এ মৃত্যুর দায় সময়ের আলো কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না। সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর খোকনের মৃত্যুর পরও কর্তৃপক্ষ কর্মীদের শুধু বাসায় থেকে কাজ করার দায়সারা ঘোষণা দিয়ে দায়িত্ব শেষ করেছে। তাদের কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি।’

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রয়োজনীয় সুরক্ষার ব্যবস্থা ছাড়াই সাংবাদিকদের কাজ করতে হচ্ছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা।