করোনা যুদ্ধ : পাল্টাতে শুরু করেছে সাতক্ষীরার গ্রামাঞ্চলের দৃশ্যপট


1688 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
করোনা যুদ্ধ : পাল্টাতে শুরু করেছে সাতক্ষীরার গ্রামাঞ্চলের দৃশ্যপট
এপ্রিল ৭, ২০২০ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

॥ এম কামরুজ্জামান ॥

পাল্টাতে শুরু করেছে সাতক্ষীরার গ্রামাঞ্চলের দৃশ্যপট। মরণব্যাধি করোনার ভয়াল ছোবল থেকে বাঁচতে গ্রামের মানুষেরা এগিয়ে আসতে শুরু করেছে। তারা সহযোগিতা করছে। মুসল্লিরা মসজিদ ছেড়ে এখন বাড়িতেই নামাজ আদায় করছে বলে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে খবর পাওয়া যাচ্ছে।


সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে গ্রামের মানুষেরা স্থানীয় হাট-বাজার ছেড়ে এখন বাড়িতেই অবস্থান করছে। দু’দিন আগেও গ্রামের হাট-বাজারের যে দৃশ্য ছিলো তা পাল্টাতে শুরু করেছে। সন্ধ্যার আগেই দোকান-পাট প্রায় সবই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কোথাও কোন মানুষের দেখা মিলছে না। চায়ের দোকান গুলোতে আগের মতো আর জমজমাট নেই। এটা নিশ্চই আমাদের জন্য আশা জাগানোর খবর।


সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য এড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ রাতে ভয়েজ অব সাতক্ষীরাকে বলেন ‘আমি আজ সন্ধ্যার পর তালা উপজেলার নগরঘাটা, ধানদিয়া, সরুলিয়া, পাটকেলঘাটা বাজার হয়ে মাগুরা ও দোলুয়া পর্যন্ত ঘুরেছি গ্রামের দৃশ্যপট দেখার জন্য। কোথাও কোন দোকান-পাট খোলা নেই। দুই-একটি বাজারে কয়েকটি ওষুধের দোকান খোলা পেয়েছি। সেখানেও মানুষের তেমন কোন ভীড় দেখা যায়নি। গ্রাম এলাকার হাট-বাজার এখন মানুষ শুন্য বলা যায়। খোঁজ নিয়ে দেখেছি মুসল্লিরাও ধর্মমন্ত্রনালয়ের আদেশ মানতে শুরু করেছেন। অধিকাংশ এলাকায় মসজিদে আগের মতো মানুষ নামাজ আদায় করতে যাচ্ছে না। তারা বাড়িতেই নামাজ আদায় করছে। এ থেকে বুঝা যায় করোনা নিয়ে গ্রামের মানুষ আগের চেয়ে অনেক সচেতন হয়েছে । আমরা যদি প্রতিটি গ্রামের যুবসমাজ, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতা, শিক্ষক-ছাত্রসহ সচেতন মানুষকে মানষিকভাবে মাঠে নামাতে পারি তাহলে গ্রামের প্রতিটি মানুষ ঘরে অবস্থান নেবে’। তিনি এ ব্যাপারে সকলের সহযোগিতা চেয়ে বলেন ‘ঘরে থাকা ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই করোনার ভয়াল ছোবল থেকে রক্ষা পাওয়ার। বিধায় আসুন আমরা আমাদের নিজের দায়িত্ববোধ থেকে নিজেরা সচেতন হই, অন্যদেরকেও সচেতন করি’।

এদিকে, আজ দিনভর সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানাগেছে প্রতিটি এলাকার মানুষ আগের চেয়ে অনেক সচেতন হয়েছে।


শ্যামনগরের কয়েকটি এলাকায় যুবসমাজ মানুষকে সচেতন করতে নিরাপদ দূরাত্ব বজায় রেখে মাঠে কাজ শুরু করছে। তারা গ্রামের প্রবেশ পথে গাছের গুড়ি দিয়ে আটকিয়ে দিয়েছে, যাতে বাইরের কোন মানুষ ওই গ্রামে প্রবেশ করতে না পারে। প্রতিটি গ্রামে এভাবে যদি যুবসমাজ মাঠে নামে তাহলে গ্রামের মানুষজন সচেতন হবে, সবাই বাড়িতে থাকতে বাধ্য হবে। করোনার মতো ভয়াবহ দুর্যোগ মোকাবেলা করা সম্ভব হবে।


করোনাযুদ্ধে টিকে থাকতে সাতক্ষীরার প্রতিটি উপজেলায় কঠোর ভূমিকা রাখছে প্রশাসন। তারা রাত-দিন পরিশ্রম করে যাচ্ছে। মানুষকে ঘরে রাখতে তাদের প্রচেষ্টার কোন কমতি নেই। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল, পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমানের দিক নির্দেশনায় প্রতিটি উপজেলায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, সেনাবাহিনী, র‌্যাব, আনসার, গ্রাম পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু প্রশাসনের একার পক্ষে সবাইকে সচেতন করা অসম্ভব। শহর থেকে শুরু করে গ্রাম পর্যন্ত সচেতনতার দূর্গ গড়ে তুলতে হলে স্থানীয় জনপ্রতিধি, যুবসমাজ, শিক্ষক, ছাত্র, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীকে ভূমিকা রাখতে হবে। তাহলেই সম্ভব করোনার ভয়াল ছোবল থেকে রক্ষা পাওয়া।