কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়েই সাতক্ষীরা সরকারী নার্সিং ইন্সটিটিউটের ৫ লক্ষাধিক টাকার গাছ কর্তন


529 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়েই সাতক্ষীরা সরকারী নার্সিং ইন্সটিটিউটের ৫ লক্ষাধিক টাকার গাছ কর্তন
ফেব্রুয়ারি ১, ২০১৬ জাতীয় ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

গোলাম সরোয়ার : পরিবেশের ভারসাম্য করার জন্য সরকার যখন বৃক্ষরপন করছে ঠিক তখনই সবুজ বেষ্টনী ঘেরা সাতক্ষীরার নার্সিং ইন্সটিটিউটের বিভিন্ন প্রকার মুল্যবান বৃক্ষ কেটে উজাড় করা হচ্ছে। কোনো রকম কর্তৃপক্ষকে তোয়াক্কা না করে আম,নারকেল, জাম ও মেহগুনীসহ কয়েক লাখ টাকা মুল্যের গাছ কেটে ফেললেন সাতক্ষীরা নার্সিং ইন্সটিটিউটের ইনস্ট্রাটর ইনচার্জ মঞ্জু রানী মন্ডল। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে সরকারী কাজ কর্তন করায় সাতক্ষীরা গনপুর্ত অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সাতক্ষীরা নার্সিং ইন্সটিটিউটের ইনস্ট্রাটর ইনচার্জ মঞ্জু রানী মন্ডলের বিরুদ্ধে লিখিত ভাবে সংশ্লিষ্ট বিভাগে জানানো হয়েছে।

সাতক্ষীরা গনপুর্ত অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম জানান, সাতক্ষীরা সরকারী নার্সিং ইন্সটিটিউটের প্রাচীলের ভিতরে দীর্ঘদিনের লাগানো আম, নারকেল, মেহগুনী ও কদমসহ অন্যান্য ১৫ টি মুল্যবান গাছ কর্তৃপক্ষের কোনো রকম অনুমতি ছাড়াই কেটে ফেলেছেন নার্সিং ইন্সটিটিউটের ইনস্ট্রাটর ইনচার্জ মঞ্জু রানী মন্ডল। প্রকৃত পক্ষে কোনো সরকারী দপ্তরের কাছ কর্তন করতে তার আগে গাছের মুল্য নির্ধারন করে যথাযথ একটি নিলাম কমিটি গঠন করতে হবে। কিন্ত সাতক্ষীরা নার্সিং ইন্সটিটিউটের ইনস্ট্রাটর ইনচার্জ মঞ্জু রানী মন্ডল এসব কোনো তোয়াক্কা না করে তার নিজের ইচ্ছে মত সরকারী সম্পদ কেটে তছনছ করেছে।

 

picture-2
তিনি আরো জানান, এব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সাতক্ষীরা গনপুর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ফ্রান্সিস আশীস ডি কস্তার স্বাক্ষরিত একটি পত্র গত ৫ জানুয়ারী তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী গনপুর্ত সার্কেল খুলনা, উপ-সচিব স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রনালয়, সহকারী প্রধান,স্থপতি, সার্কেল-৪ , ডিভিশন ১১, স্থাপত্য অধিদপ্তর ঢাকা, জেলা প্রশাসক সাতক্ষীরা এবং সিভিল সার্জন সাতক্ষীরাকে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে।

গতকাল রোববার দুপুরে সরেজমিনে যেয়ে দেখে গেছে, সাতক্ষীরা নার্সিং ইন্সটিটিউটের মধ্যে ২০ বছরেরও অধিক বয়সের আম, মেহগুনী গাছের সদ্য কেটে ফেলা কয়েকটি বড় বড় গুড়ি অর্ধ মাটিতে ঢেকে রাখা হয়েছে। বাকি কয়েক লাখ টাকার মুল্যবান গাছ সেখান থেকে গোপনে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের দুইজন কর্মচারী জানান, কেটে ফেলা যে সব গাছ গোপনে সরিয়ে নেয়া হয়েছে তার দাম কয়েক লাখ টাকা। যে কটা সরিয়ে নেয়া সম্ভব হয়নি কেবল সেগুলো ঢেকে রাখা হয়েছে মাটি দিয়ে।

এব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে  সাতক্ষীরা নার্সিং ইন্সটিটিউটের ইনস্ট্রাটর ইনচার্জ মঞ্জু রানী মন্ডল বলেন, সাতক্ষীরা নার্সিং ইন্সটিটিউটটির ইনচার্জ আমি। এখানকার ভালো মন্দ দেখাশুনো আমার। অতএব সাতক্ষীরা নার্সিং ইন্সটিটিউটের গাছ কাটার জন্য আলাদা করে অনুমতি লাগবে কেন। আমি কারো অনুমতি না নিয়েই কেটেছি। এখন আর কিছইু বলতে পারবো না।

এব্যাপারে সাতক্ষীরা নবাগত জেলা প্রশাসক আবুল কামেস মোহাম্মাদ মহিউদ্দীনের সাথে যেগাযোগ করা হলে, তিনি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করবে বলে জানান।

এব্যাপারে সাতক্ষীরার সদ্য বিদায়ী সিভিল সার্জন আবু সালেহ্ আহমেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সাতক্ষীরা নার্সিং ইন্সটিটিউটের ভিতরের কাটার বিষয়টি শুনেছি। তবে নার্সিং ইন্সটিটিউটের ইনস্ট্রাটর ইনচার্জ মঞ্জু রানী আমার নিকট থেকে কোনো রকম অনুমতি নেয়নি।