‘কর্মক্ষেত্রে অপরিহার্য ছিলেন সাংবাদিক আবদুস সাত্তার’


346 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
‘কর্মক্ষেত্রে অপরিহার্য ছিলেন সাংবাদিক আবদুস সাত্তার’
সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার :
বুধবার কবর জিয়ারত,শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন এবং স্মরণ সভার মধ্য দিয়ে পালিত হলো সাতক্ষীরার  প্রয়াত প্রবীন সাংবাদিক শেখ আবদুস সাত্তারের চতুর্থ মৃত্যু বার্ষিকী ।

সকালে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব থেকে  প্রেসক্লাব সভাপতি অধ্যাপক আবু আহমেদের নেতৃত্বে  সাংবাদিক সহকর্মীরা তালার নগরঘাটার মিঠাবাড়িতে  যেয়ে তার কবর জিয়ারত করেন ।এ সময় তারা পুস্পস্তবক অর্পন করে  শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করেন। তারা সেখানে কয়েক মিনিট ধরে মোনাজাত করেন এবং তার আত্মার শান্তি কামনা করেন ।এতে তার সহকর্মীরা ছাড়াও অংশ নেন আত্মীয় স্বজন , পরিবারের সদস্যগন এবং শুভাকাংখীরা। এসময় তার ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান ও মুসফিকুর রহমানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় স্মরণ সভা।

প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক আবদুল বারীর সঞ্চালনায় ও সভাপতি অধ্যাপক আবু আহমেদের সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় বক্তারা বলেন ‘ শেখ আবদুস সাত্তার ছিলেন একজন প্রথিতযশা সাংবাদিক। একজন সৎ সংগঠক হিসাবে তিনি তার কর্মক্ষেত্রের সকল স্তরে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। নির্লোভ , সাদাসিদা ও সহজ সরল মনের মানুষ হিসাবে তিনি সবার সাথে বন্ধুত্বপুর্ন সম্পর্ক স্থাপন করেন। নিজেকে বড় মনে না করেই তিনি সবার সাথে সমান ব্যবহার করতেন। অত্যন্ত পরিশ্রমী, সফল সমবায়ী, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসাবে শেখ আবদুস সাত্তার তার কর্মস্থলে বারবার  নিজেকে অপরিহার্য প্রমান করেছেন’।

স্মরণ সভায় তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন সাংবাদিক সহকর্মীরা।

তারা আরও বলেন প্রয়াত সাংবাদিক নেতা শেখ আবদুস সাত্তারের মধ্যে কোনো অহমিকা দেখা যায়নি।তিনি ছিলেন হাসিখুশী এবং উদার মানসিকতার মানুষ। অনেক সাংবাদিককে তিনি হাতে কলমে শিক্ষন দিয়েছেন।  আর দৈনিক পূর্বাঞ্চলের জন্মলগ্ন থেকে জীবনের শেষ দিনটি পর্যন্ত তিনি দৈনিক পূর্বাঞ্চলের সাতক্ষীরার ব্যুরো চীফ হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।সাংবাদিক বক্তারা আরও বলেন শেখ আবদুস সাত্তার স্বাধীনতাপূর্বকালের একজন গ্রাজুয়েট হয়েও চাকরির দিকে ঝুঁকে পড়েন নি।তিনি নগরঘাটা কবি নজরুল বিদ্যাপীঠ প্রতিষ্ঠা করে প্রতিষ্ঠানটিকে দাঁড় করানোর জন্য সাত বছর যাবত অবৈতনিক শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করে সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রমান দিয়েছেন। এমন মানুষ সমাজে অনুকরনীয় উল্লেখ করে সাংবাদিক বক্তারা আরও বলেন ‘তিনি গ্রামীন মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে গ্রাম সংগঠন তৈরি করেন এবং গ্রাম সমবায় সমিতি করে প্রশাসনের নজরে আসেন ।এরপর থেকে তিনি সফল সমবায়ী এবং সফল বিআরডিবি পরিচালক হিসাবে মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে কাজ করেছেন ।  এজন্য তিনি মরেও জনমনে চিরঞ্জীব হয়ে থাকবেন’ বলেও উল্লেখ করেন সহকর্মীরা ।

কবর জিয়ারত এবং স্মরণ সভায় অংশগ্রহনকারীদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক সভাপতি সুভাষ চৌধুরী ,সাবেক সাধারন সম্পাদক মিজানুর রহমান,মো.রুহুল কুদ্দুস,মমতাজ আহমেদ বাপী ও মোজাফফর রহমান , শরিফুল্লাহ কায়সার সুমন, কালিদাস রায়, শেখ মাসুদ হোসেন , মো. আসাদুজ্জামান , কাজী শওকত হোসেন ময়না , মো. ঈদুজ্জামান ইদ্রিস ,আবদুল জলিল, মো. ইব্রাহীম হোসেন ,আশরাফুল ইসলাম খোকন ,মো. রেজাউল ইসলাম,আহসানুর রহমান রাজীব,শেখ তানজির আহমেদ শাহীন গোলদার,রবিঊল ইসলাম  প্রমুখ।