‘কর্মজীবী নারীরা স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণে অংশিদার হবে’


571 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
‘কর্মজীবী নারীরা স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণে অংশিদার হবে’
ডিসেম্বর ৩১, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন :
সরকারের স্বপ্ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আমিনুল আরিফিন বলেছেন, যে নারীরা স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলেছে নিজেদের ভিক্ষাবৃত্তি থেকে দুরে সরিয়ে নিজেদের কর্মজীবী পরিচয়ে পরিচিত করেছে তারা একদিন স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মানে অংশিদার হবে। বাংলাদেশকে সফল দেশে রুপান্তর করতে কর্মজীবী নারীরা নেতৃত্ব দেবে। কর্মজীবী নারীরা বাংলাদেশকে সবদিক দিয়ে সফল করতে এরা যেমন ভূমিকা রাখবে ঠিক তেমনি নিজেদের পরিবারকে শিক্ষা কাজে ও সচেতনতায় সফল করতে স্বপ্নের কর্মজীবী নারীরা ভূমিকা রাখবে।
‘উৎপাদনশীল ও সম্ভাবনাময় কর্মের সুযোগ গ্রহণে নারীর সামর্থ্য উন্নয়ন’ শ্লোগানকে সামনে রেখে দরিদ্র নারীদের আর্থিক উন্নয়নের সরকারের নিজস্ব স্বপ্ন প্রকল্প’র আওতায় সাতক্ষীরায় অনুষ্ঠিত হয় বার্ষিক নারী কর্মী সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসন ও ইউএনডিপি’র আয়োজনে নারী সমাবেশে সহ¯্রাধিক কর্মজীবী নারীর অংশগ্রহণ ছিল। শনিবার সকাল সাড়ে দশটায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক এস এম মঈনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো: মহিউদ্দিন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বপ্ন প্রকল্পের জাতীয় প্রকল্প পরিচালক আমিনুল আরিফিন। সম্মেলনের সমাবেশ ও আলোচনা পর্বের আগে সাতক্ষীরা কালেক্টরেট চত্বর থেকে বের হয় বর্ণাঢ্য র‌্যালী।
সমাবেশে প্রধান অতিথি আরিফিন আরও বলেন, প্রকল্পের মুল উদ্দেশ্য সমন্বিত/সামস্টিক অর্থনৈতিকপ্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগগুলো গ্রামীণ দরিদ্র মহিলা ও অসহায় জনগোষ্ঠির কাছে পৌঁছে দেয়া এবং তাদেরকে আকস্মিক বিপদাপন্নতা  থেকে সুরক্ষা দেওয়া। প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হচ্ছে উৎপাদনশীল কর্মকান্ড সৃষ্টিরমাধ্যমে অধিকতর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করা। হতদরিদ্র অবস্থা থেকে উত্তরণের একটি অগ্রণী “গ্রাজুয়েশনমডেল” সৃষ্টির মাধ্যমে বাংলাদেশের উপকূলীয়, মঙ্গা কবলিত ও  দারিদ্র্য পিড়ীত এলাকাগুলোর দুঃস্থ ও অসহায় মহিলাদের হতদরিদ্র অবস্থা থেকে বের করে আনা। ‘স্বপ্ন’ কে স্থায়ীত্বশীল প্রকল্প হিসাবে তৈরী করা এবং গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচনে অবদান রাখা ও মহিলাদের উন্নয়নের মুলধারায় নিয়ে আসা। একটি সমন্বিত কৌশল গ্রহণ করা যা সরকারের দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলপত্র বাস্তবায়নে অবদান রাখবে ও বর্ণিত হবে এবং সহ¯্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশের অঙ্গীকার প্রতিফলিত হবে।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো: মহিউদ্দিন বলেন, সাতক্ষীরা উন্নয়নশীল জেলা হলেও এখানকার নারীরা অনেক পিছিয়ে রয়েছে। স্বপ্ন প্রকল্প নারীদের স্বপ্ন দেখেয়েছে। এই প্রকল্প নারীদের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি জেলার উন্নয়ন ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে। এই প্রকল্পের নারী উন্নয়নে সাতক্ষীরা ৬৪ জেলার মধ্যে মডেল হবে।
সম্মেলনে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, স্বপ্ন প্রকল্পের জেলা ব্যবস্থাপক ও ইউএনডিপি কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন সুশীলনের নির্বাহী পরিচালক মোস্তফা নুরুজ্জামান, জাতীয় প্রশিক্ষণ বিশেষজ্ঞ কাজল চট্টোপাধ্যায়, উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ বেলায়েত হোসেন প্রমুখ।
স্বপ্ন প্রকল্পের উপকারভোগী কালিগঞ্জের নুরুন নাহার বলেন, স্বামীর মৃতুত্যে জীবন যখন থমতে দাড়ালা তখন স্বপ্ন দেখালো স্বপ্ন প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে নিজে ঘুরে দাড়াতে পেরেছি। আমার মেয়েকে রাজধানী উন্নয়ন কৃর্তপক্ষ (রাজউক) মডেল স্কুলে ভর্তি করেছি এই কর্মসুচির মাধ্যমে সফল হয়েছি। চাল ছিলো না চুলো ছিলো আজকে আমি স্বাবলম্বী হয়েছি।