কলকাতা থেকে ভোমরা-পদ্মা সেতু হয়ে ৬ ঘণ্টায় ঢাকায়


228 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কলকাতা থেকে ভোমরা-পদ্মা সেতু হয়ে ৬ ঘণ্টায় ঢাকায়
জুন ২৪, ২০২২ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ডেস্ক রিপোর্ট ::

২৫ জুন দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে স্থলপথে সংযুক্ত হচ্ছে রাজধানী। একইসঙ্গে সারা দেশের সঙ্গে তৈরি হচ্ছে সামাজিক-অর্থনৈতিক সেতুবন্ধন। পদ্মা সেতু চালুর মধ্য দিয়ে বদলে যাবে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরের চিত্র। স্থলপথে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাড়বে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য। ভারতের কলকাতার সঙ্গে কমবে দূরত্ব, বাঁচবে সময়।

পাশাপাশি ভোমরা স্থলবন্দরে তৈরি হবে বহু মানুষের কর্মসংস্থান। অবকাঠামোর উন্নয়ন হবে দ্বিগুণ। আমদানি করা পণ্য দ্রুত ঢাকায় পৌঁছবে, তাই পরিবহন খরচ কমে যাবে। বাজারে পণ্যের দাম কমবে। এ জন্য আশায় বুক বেঁধেছেন ব্যবসায়ী, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক এবং আমদানি-রপ্তানিকারকরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা স. ম আলাউদ্দীনের প্রচেষ্টায় দেশের তৃতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায় ভোমরা স্থলবন্দর। বর্তমানে এই বন্দরে আমদানি-রপ্তানি কাজে জড়িত আছেন পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ী। প্রতিদিন বন্দর থেকে রাজস্ব আদায় হয় তিন থেকে সাড়ে তিন কোটি টাকা। বছর শেষে রাজস্ব আদায় দাঁড়ায় এক হাজার ১০০ কোটি টাকা।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতের কলকাতা থেকে ভোমরা স্থলবন্দরের দূরত্ব ৭০ কিলোমিটার। বাসন্তী হাইওয়ে হয়ে এক-দেড় ঘণ্টার মধ্যে কলকাতা থেকে ভোমরায় পৌঁছে পণ্যবাহী ট্রাক। দূরত্ব কম হওয়ায় এই বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে সময় লাগে কম।

অপরদিকে, ভোমরা বন্দর হয়ে কলকাতা থেকে ঢাকার দূরত্ব ৩৭৫ কিলোমিটার। পদ্মা সেতু চালুর পর কলকাতা থেকে ভোমরা স্থলবন্দর হয়ে ঢাকার দূরত্ব হবে ৩৩০ কিলোমিটার। খুলনা-গোপালগঞ্জ হয়ে পদ্মা সেতু দিয়ে যাওয়ায় দূরত্ব কমবে ৪৫ কিলোমিটার। ফেরিঘাটের দুর্ভোগ আর থাকবে না। সময় বাঁচবে পাঁচ-ছয় ঘণ্টা। ফলে এ অঞ্চলের মানুষ ও পণ্যবাহী যানবাহন পদ্মা সেতু দিয়ে সহজে ঢাকায় পৌঁছাবে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সাতক্ষীরার নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ঢাকার সঙ্গে ভোমরার দূরত্ব ৩০৫ কিলোমিটার। খুলনা মহাসড়ক হয়ে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট দিয়ে ঢাকায় যেতে সময় লাগে ১০-১২ ঘণ্টা। মাঝে মধ্যে এর চেয়ে বেশি সময় লাগে। এখন দূরত্ব কমায় ছয় ঘণ্টায় কলকাতা থেকে ঢাকায় পৌঁছাবে পণ্যবাহী ট্রাক। সাতক্ষীরার সবজি, ফল ও মাছ দ্রুত সময়ে ঢাকায় পৌঁছাবে। ফলে অর্থনীতির চাকা পরিবর্তনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে পদ্মা সেতু।’
জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক আনিসুর রহিম বলেন, ‘সাতক্ষীরা অন্যান্য জেলার তুলনায় অনেক ক্ষেত্রে উন্নয়নবঞ্চিত। কৃষিতে সমৃদ্ধশালী হয়েও কেনাবেচা ও যাতায়াতের সুবিধা না থাকায় অনেক কৃষিপণ্য পচে যেতো। পদ্মা সেতু চালু হলে সব ধরনের সুবিধা পাবেন কৃষকরা। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে।’
ভোমরা স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম খান বলেন, ‘শুধুমাত্র ভোগান্তির কারণে ভোমরা বন্দর ব্যবসায়ীদের কাছে তেমন একটা গুরুত্ব পেতো না। পদ্মা সেতু চালুর মধ্য দিয়ে স্থলবন্দরে ব্যবসা-বাণিজ্যের কাজে গতি আসবে। ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর হবে। বন্দরের কিছু উন্নয়ন কাজ বাকি রয়েছে। এখানে কাস্টমস হাউস প্রয়োজন। সেটি হলে সব পণ্য আমদানি-রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে রাজস্ব আদায় দ্বিগুণ হবে।’
ভোমরা স্থলবন্দরের উপপরিচালক মনিরুল ইসলাম ‘বর্তমানে বন্দরে প্রতিদিন পণ্যবাহী ট্রাক থেকে রাজস্ব আদায় হচ্ছে তিন থেকে সাড়ে তিন কোটি টাকা। কলকাতা ও হলদিয়া বন্দরের সঙ্গে ভোমরা বন্দরের দূরত্ব কম হওয়ায় পদ্মা সেতু চালুর পর আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। সম্প্রসারিত হবে বাণিজ্য। ভারত-বাংলাদেশে যোগাযোগের নতুন দিগন্ত উন্মোচন হবে। অন্যান্য দেশেরও বাংলাদেশে বাণিজ্যে আগ্রহ বাড়বে।’

#