কলকাতা থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে ফণী


169 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কলকাতা থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে ফণী
মে ৩, ২০১৯ দুুর্যোগ প্রবাস ভাবনা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাব শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে দিঘা, মন্দারমণিসহ উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে শুরু হয়েছে প্রবল বৃষ্টি। দিঘা-মন্দারমণিতে উত্তাল সমুদ্র। ১০ থেকে ১৫ ফুট উঁচু ঢেউ আছড়ে পড়ছে উপকূলে। সমুদ্রের ধার বরাবর বাঁধ উপচে পানি ঢুকছে সৈকত শহরে।

কলকাতার আলিপুর আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, রাত ৮টা নাগাদ ওড়িশার জাজপুরের কাছে রয়েছে ফণী। অর্থাৎ কলকাতা থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে এবং দিঘা থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদফতর আরও জানিয়েছে, কলকাতায় যখন ফণী প্রবেশ করবে, তখন ঝড়ের গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার। তবে রোববারের পর থেকে আর ফণীর প্রভাব থাকবে না এবং দুর্যোগ পুরোপুরি কেটে যাবে।

আনন্দবাজার পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে জানানো হয়, আবহাওয়া দফতর বলছে, ওড়িশা ছেড়ে ফনীর পশ্চিমবঙ্গে আছড়ে পড়তে শনিবার ভোররাত হবে। ঝড়ের শক্তিও অনেকটাই কমবে।

আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছিল, সন্ধ্যার পর থেকেই ওড়িশা লাগোয়া এ রাজ্যের জেলাগুলিতে ঝড় শুরু হবে। সেই ঝড়ের গতিবেগ হবে ঘণ্টায় ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার। ধীরে ধীরে সেই ঝড়ের গতিবেগ বাড়তে থাকবে। মাঝরাত নাগাদ সেই ঝড়ই ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটারের কাছাকাছি গতিবেগ নেবে। উপকূলবর্তী এলাকায় তা ১১৫-তে পৌঁছাবে বলে পূর্বাভাস।

এর মধ্যেই এ দিন সকাল সোয়া ১০টা নাগাদ মাত্র ১৫ সেকেন্ডের একটি দমকা হাওয়া ফণীকে ঘিরে মেদিনীপুরবাসীর আতঙ্ক কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল। একটা ঝড় বয়ে যায় মেদিনীপুর শহরের মির্জাবাজার এলাকার উপর দিয়ে। সেই ঝড়ের শক্তি এতটাই বেশি ছিল যে আশেপাশের প্রায় ২৫টি বাড়ির চাল উড়ে গেছে। কোনওটা আবার বাঁশের কাঠামো নিয়ে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।

শনিবার ভোর রাতে পশ্চিমবঙ্গীয় উপকূলে ফণীর আছড়ে পড়ার কথা থাকলেও, শুক্রবার সকাল থেকেই কলকাতা শহরের রাস্তাঘাটে সেই আতঙ্কের প্রতিফলন দেখা গিয়েছে। হাওড়া এবং শিয়ালদহ- দুই শাখায় লোকাল ট্রেনগুলোয় ভিড় তুলনামূলক কম ছিল। যারা কাজে বেরিয়েছেন, তাদের অনেকেই তাড়াতাড়ি বাড়ির অভিমুখে রওনা দিয়েছেন। অন্য দিনের তুলনায় অনেক দোকানপাটও বন্ধ। রাস্তাঘাটে মানুষের সংখ্যাও অন্য দিনের তুলনায় কম।

আবহাওয়া অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, ইতিমধ্যেই মেদিনীপুরের দিঘা, মন্দারমণি, তাজপুরে ৬০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝড়বৃষ্টি হতে শুরু হয়েছে। দুই মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও করছেন আবহবিদেরা।

এ ছাড়াও উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, কলকাতা, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, দুই বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়াও প্রভাব পড়বে ফণীর। ঝড়ের প্রভাবে উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলাতে এ প্রভাবে বৃষ্টিপাত হবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।