কলম্বোয় সিরিজ বাঁচানোর চ্যালেঞ্জ


120 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কলম্বোয় সিরিজ বাঁচানোর চ্যালেঞ্জ
জুলাই ২৮, ২০১৯ খেলা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

কোনো অজুহাত দাঁড় করাননি তামিম ইকবাল। হারের ব্যবধান যেখানে ৯১ রান, সেখানে কোনো যুক্তি আসলে খাটেও না। তবে লাসিথ মালিঙ্গার বিদায়ী ম্যাচে শ্রীলংকার কাছে বিশাল হারের পর এ নিয়ে বালুতে মুখ গোঁজারও সুযোগ নেই। তিন ম্যাচের সিরিজ বলে ঘুরে দাঁড়ানোর তাড়না দ্বিতীয় ম্যাচেই। আর সেটি আজই। কলম্বোর প্রেমাদাসায় স্বাগতিকদের বিপক্ষে সফরকারী বাংলাদেশের দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচ শুরু হবে বিকেল ৩টায়।

মালিঙ্গাময় প্রথম ওয়ানডেতে তামিমরা হেরেছিলেন ব্যাটিং-বোলিং ফিল্ডিং তিন বিভাগের দুরবস্থায়। আরও একবার বোলাররা দরকারি মুহূর্তে ছন্দে থাকতে পারেননি, প্রতিপক্ষ তুলেছে ৩১৪ রান; বাজে ফিল্ডিং আর ক্যাচ মিসে বেরিয়ে গেছে বেশ কিছু রান, অধিনায়কের হিসাবেই যা ২০-এর মতো। আর রান তাড়ায় নেমে ৩৯ রানের মধ্যে চার উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ২২৩ রানে অলআউট- যদিও তখনও ৫০ বল বাকি!

এমন ত্রিমুখী বেহাল পারফরম্যান্সের পর উন্নতি আবশ্যক সব ক্ষেত্রেই। অন্তত ২০১৪ সালের পর শ্রীলংকার কাছে প্রথম দ্বিপক্ষীয় সিরিজ হার এড়ানোর জন্য তো অবশ্যই। দুই বছর আগেও লংকানদের মাটিতে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল বাংলাদেশ। বৃষ্টিতে এক ম্যাচ পণ্ড হয়ে যাওয়ায় দু’দলই বেজার মুখে সিরিজ শেষ করেছিল ১-১-এ।

তার আগে ২০১৪-তে ঢাকায় হওয়া তিন ম্যাচ সিরিজে সবক’টি ম্যাচ জিতেছিল শ্রীলংকা। এর পর দুই দলের বিগত পাঁচ বছরের পারফরম্যান্স ধরলে বাংলাদেশই এখন এগিয়ে বেশি। এমনকি চোটের কারণে মাশরাফি বিন মুর্তজা, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন আর ছুটিজনিত কারণে সাকিব আল হাসান, লিটন কুমার দাস না থাকার পরও। কিন্তু শুক্রবার তামিমের নেতৃত্বে নামা দলটি স্বাগতিকদের সঙ্গে লড়াইই করতে পারেনি, স্রেফ আত্মসমর্পণ করেছে। বাজে ক্রিকেটের অন্যতম উদাহরণ ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক নিজেই। বড় রান তাড়ায় প্রথম ওভারেই বোল্ড হয়ে গেছেন; মালিঙ্গার ইয়র্কার ডেলিভারিটি ছিল দারুণ, কিন্তু বড় সত্যি হচ্ছে, বিশ্বকাপ মিলিয়ে নিজের সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচেই তিনি একইভাবে আউট হয়েছেন। যে কারণে কোনো অজুহাত না দেখিয়ে সামনের চিন্তাই বেশি করছেন সংকটে দায়িত্ব পাওয়া এই সিনিয়র ক্রিকেটার, ‘এখনও দুটি ম্যাচ বাকি আছে। দল হিসেবে ঘুরে দাঁড়াতে হবে।’

দল হিসেবে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ থাকা আজকের ম্যাচে একাদশে বদলের সম্ভাবনা কম। খেলতে পারে প্রথম ম্যাচের একাদশটিই। শ্রীলংকান দলে পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। প্রথম ম্যাচ খেলে একদিনের ক্রিকেট থেকে বিদায় নিয়েছেন মালিঙ্গা, তার বদলে স্কোয়াডে নেওয়া হয়েছে দাসুন শানাকাকে। তবে শূন্যস্থান পূরণে আজকের একাদশে দেখা যেতে পারে ইসুরু উদানাকে।

প্রথম ম্যাচ জিতে সিরিজে এগিয়ে যাওয়ায় দিমুথ করুনারত্নের দলের সামনে এখন দারুণ এক সুযোগ হাতছানি দিচ্ছে। শ্রীলংকার খেলা সর্বশেষ ১৪টি দ্বিপক্ষীয় সিরিজের মধ্যে জয় আছে মাত্র দুটিতে– আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। আইসিসি র‌্যাংকিংয়ের প্রথম দশ দলের মধ্যে থাকা প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজ জয় তাদের ২০১৫ সালে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে (৩-০)। বাংলাদেশকে আজ বা ৩১ জুলাইয়ের শেষ ম্যাচে হারাতে পারলে চার বছর পর শীর্ষ দলের বিপক্ষে সিরিজ জয় হবে লংকার। বিপরীতে পাঁচ বছর শ্রীলংকার কাছে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ না হারার কৃতিত্ব ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ এখন তামিমদের সামনে। সিরিজে টিকে থাকতে জয় ছাড়া আজ বিকল্প নেই।