কলারেয়ায় নিহত ব্যাংক প্রহরী জাহাঙ্গীরের আট মাসের অন্তসত্বা স্ত্রী সুমাইয়া দিশেহারা


529 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কলারেয়ায় নিহত ব্যাংক প্রহরী জাহাঙ্গীরের আট মাসের অন্তসত্বা স্ত্রী সুমাইয়া দিশেহারা
জুলাই ১৬, ২০১৫ কলারোয়া ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

কে এম আনিছুর রহমান, প্রতিনিধি :  সাতক্ষীরার কলালোয়া উপজেলার  হেলাতল ইউনিয়নের ঝাপাঘাট গ্রামের কাইয়ুম শেখের বড় ছেলে জাহাঙ্গীর আলম আনসার-ভিডিবির সদস্য হিসাবে কলারোয়া সোনালী ব্যাংক শাখায় নৈশ প্রহরীর চাকরি করতেন। গত মঙ্গলবার গভীর রাতে সোনালী ব্যাংকে ডাকাতির চেষ্টায় বাধা দেওয়ায় নৈশ প্রহরী আসাদুজ্জামান আসাদের মতো জাহাঙ্গীরকে জবাই করে হত্যা করা হয়। নিহত জাহাঙ্গীরের স্ত্রী সুমাইয়া খাতুনের পেটে আট মাসের সন্তান। দুই মাস পরেই সেই সন্তানের জন্ম হবে। কিন্তু জন্মের আগেই বাব হারালো সে। অল্প বয়সে স্বামী হারানোর যন্ত্রনায় সুমাইয়া এখন দিশেহারা ।
বৃহস্পতিবার সকালে নৈশ প্রহরী নিহত জাহাঙ্গীর হোসেনের গ্রামের বাড়ি ঝাঁপাঘাট গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের আহাজারি। তার বাবা কাইয়ুম শেখ বুক চাপড়িয়ে আহাজারি করছেন।  তাদের আহাজারিতে এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। কে দেব কাকে শান্তনা। পরিবারের সবাই শোকে মুহ্মান।
মাটির কাঁচা ঘরের বারান্দায় ডুকরে ডুকরে কাদছেন নিহত জাহাঙ্গীরের স্ত্রী সুমাইয়া খাতুন। এত অল্প বয়সে স্বামী হারিয়ে বিধবা হবে এ কথা ভাবতেই জ্ঞান হারাচ্ছেন বার বার। এদিকে আট মাসের সন্তান পেটে। জন্মের আগেই বাবাকে হারালো। তার স্বামীর অকাল মৃত্যুতে সব কিছু যেন এলোমেলো সুমাইয়ার জীবনে। জ্ঞান ফিরলে সুমাইয়া কাদতে কাদতে বলেন,গত মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে চার টার দিকে তার স্বামীর সাথে মোবাইলে শেষ কথা হয়। স্বামী জাহাঙ্গীর তাকে জানায়, ঈদ উপলক্ষে এক জোড়া নতুন জুতা পাঠালাম। পছন্দ না হলে জানাবে। পাল্টিয়ে নতুন আর এক জোড়া এনে দেব। ওই সময় তার স্বামী মোবাইল ফোনে আরো বলেন, বিয়ের পর থেকে সব কয়বার তোমার বাবার বাড়ি ঈদ করেছি। এ বছর তোমার বাপের বাড়ি ঈদ করবো না। আমরা বাড়ির সবাই মিলে বাড়িতে এক সাথে ঈদ করবো।  এ কথা বলতে বলতে সুমাইয়া আবারও জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন ।
নিগহত জাহাঙ্গীরের পিতা কাইয়ুম শেখ জানান, তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। জাহাঙ্গীর তার সবার বড়।একমাত্র মেয়ে মুরশিদাকে তিনি বিয়ে দিয়েছেন। ছোট ছেলে ইয়াছিন আলী বড় ভাইয়ের ইচ্ছায় সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে হিসাব বিজ্ঞানে অনার্স পড়ে। জায়গা জমি বলতে আছে এক বিঘা ফসলি জমি। তা দিয়ে তাদের সংসার চলে না। ছোট ভাইয়ের লেখাপড়াসহ সংসাদের সব দায়িত্ব ছিল জাহাঙ্গীরে উপর। উপার্জনক্ষম এক মাত্র ছেলেকে হারিয়ে তিন পাগলপ্রায়।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন জানান,, জাহাঙ্গীর তার ইউনিয়নের ছেলে। তারা গরীব মানুষ। গ্রামের কারোও সাথে তাদের শুত্রতা নেই। ছোট বেলা থেকেই সে খুব  সৎ ও বিনয়ী। অল্প বয়সে সন্ত্রাসীদের হাতে তার নিহত হওয়ার ঘটনায় তিনিও  ব্যথিত। তিনি প্রকৃত হত্যাকারীদের  গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি করেন।