কলারোযায় মালয়েশিয়া প্রবাসীর স্ত্রীকে পৈশাচিক নির্যাতনের ঘটনায় গ্রাম পুলিশ গ্রেফতার


599 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কলারোযায় মালয়েশিয়া প্রবাসীর স্ত্রীকে পৈশাচিক নির্যাতনের ঘটনায়  গ্রাম পুলিশ গ্রেফতার
সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৫ কলারোয়া ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

কে এম আনিছুর রহমান, কলারোয়া প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় মালয়েশিয়া প্রবাসীর স্ত্রী , তার বোনসহ তিনজনকে কোমরে রশি দিয়ে পৈশাচিক নির্যাতনের ও কানধরে ওঠবশ করার ঘটনা নিয়ে তোলপাড়া শুরু হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ  ইব্রাহীম হোসেন নামের এক গ্রাম পুলিশকে আটক করা হয়েছে। আটক ইব্রাহীম কলারোয়া উপজেলার পাঁচপোতা গ্রামের ইমান আলীর ছেলে। রোববার ভোরে তাকে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কলারোয়া থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই এ কে এম মোয়াজ্জেম হোসেন ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে জানান, রোববার ভোর ৪ টার দিকে তিনি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন দুই গৃহবধুসহ তিন জনের নির্যাতনকারী  গ্রাম পুলিশ ইব্রাহীম হোসেন বাড়িতে অবস্থান করছে। পরে তার নেতৃত্বে সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যরা ইব্রাহীমকে তার বাড়ি থেকে আটক করে।
রোববার দুপুরে তাকে সাতক্ষীরা আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে বলে থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম জানান।

প্রসঙ্গত. গত ২৯ আগষ্ট দুপুর বেলা উপজেলার পাঁচপোতা গ্রামের মালেয়েশিয়া প্রবাসী হাফিজুর রহমানের স্ত্রী সুমাইয়া খাতুন তাঁর খালাতো বোন রুমা ও বোনের স্বামী পরিচয়দানকারী জাহিদুর রহমানের সঙ্গে গল্প করছিলেন। এমন সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাদের ঘরে প্রবেশ করে। নিজেদেরকে সমাজপ্রতি দাবি করে প্রবাসীর স্ত্রীর খালাতো বোন ও বোনের স্বামী পরিচয়দানকারী জাহিদুল ইসলামকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। এক পর্যায়ে ওই দম্পতির বিয়ের কাগজপত্র দেখতে চায় তারা। ওই অজুহাত দিয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ তোলে তথাকথিত ওই ‘সমাজপ্রতিরা। তারা কেবল অভিযোগ এনেই ক্ষান্ত হয়নি, তিনজনকে প্রকাশ্যে গ্রামের লোকজনের সামনে দড়ি দিয়ে বেঁধে পিটিয়েছে এবং কান ধরে উঠবস করিয়েছে। তাদের উপর বর্বরোচিত নির্যাতন চালানো হয়। লোক লজ্জার ভয়ে প্রথমে কেউ মুখ খুলেনি। কিন্তু সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি প্রচার হওয়ার পর প্রবাসীর স্ত্রী সুমাইয়া খাতুন বাদি হয়ে সম্প্রতি কলারোয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় কুদ্দুস, বেল্লাল, মোস্তফা মোড়ল, গ্রাম পুলিশ ইব্রাহীমসহ কয়েক জনকে আসামী করা হয়।

দায়েরকৃত ওই মামলায় কুদ্দুস নামের এক আসামিকে পুলিশ নারী নির্যাতন মামলায় আদালতে চালান দেয়। কিন্তু কুদ্দুস কলারোয়ার শীর্ষ এক জনপ্রতিনিধির ক্যাডার বাহিনীর সদস্য হওয়ায় ওই জনপ্রতিনিধির সহযোগিতায় তিন দিন পরেই সে জামিনে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসে। পুলিশ দ্বিতীয় দফায় রোববার ভোর রাতে গ্রাম পুলিশ ইব্রাহীমকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে।

মামলার বাদী অভিযোগ করে বরেন, আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর বাড়িতে এসে কুদ্দুস ও তার বাহিনীর সদস্যরা সুরাইয়াকে নানা ভাবে হুমকী দিচ্ছে। তারা মামলা তুলে নেয়ার জন্য বিভিন্ন ভাবে চাঁপ সৃষ্টি করছে।