কলারোয়ার জি কে এম কে পাইলট হাইস্কুলের ধারাবাহিক অর্জন


995 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কলারোয়ার জি কে এম কে পাইলট হাইস্কুলের ধারাবাহিক অর্জন
মে ২৫, ২০১৬ কলারোয়া ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

কে এম আনিছুর রহমান, কলারোয়া থেকে ॥
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের পাশে দৃষ্টিনন্দন মনোরম পরিবেশে পৌরসভার প্রাণ কেন্দ্রে একমাত্র ঐতিহ্যবাহি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কলারোয়া জিকেএমকে পাইলট মডেল হাইস্কুলটি অবস্থিত। ১৯৩০ সালে গোপিনাথপুর,কলারোয়া, মুরারীকাটি ও তৎকালীন করুনাময়ী মহকুমা প্রশাসকের নামানুসারে ৪ একর ৮৬ শতক কবলাকৃত জমির ওপর স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত। এরই মধ্যে স্কুলটির নিজস্ব স্টেডিয়াম উপযোগী একটি দৃষ্টিনন্দন ফুটবল মাঠ আছে। যেখানে কলারোয়া উপজেলার সকল জাতীয় কর্মসূচী পালন করা হয়। স্কুলটির বয়স ৮৬ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও তার ঐতিহ্য ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশ শিক্ষা ফেডারেশনের চেয়ারম্যান প্রয়াত আলহাজ্ব শেখ আমানুল্লাহ একটানা এই প্রতিষ্ঠানটিতে ৩৬ বছর প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এমনকি তিনি অবসর নেওয়ার পর একটানা ১৬ বছর স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। স্কুলটি থেকে অদ্যাবধি অধিকাংশ পাবলিক (এসএসসি এবং জেএসসি) পরীক্ষায় সাতক্ষীরার জেলার সকল বে-সরকারী এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয় গুলির মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করার গৌরব অর্জন করে আসছে। এ বছর যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে স্কুলটি থেকে এসএসসি পরীক্ষায় ২০৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ গ্রহন করে ১৯৭ জন ছাত্র-ছাত্রী পরীক্ষায় উর্ত্তীন্ন হয়। পাশের হার শতকরা ৯৫ ভাগ। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৩ জন। এ ছাড়া এ বছর জেএসসি পরীক্ষায় ১৯৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ গ্রহন করে ১৯৭ জনই পাশ করে। যার পাশের হার শতভাগ। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৯ জন,তার মধ্যে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪১ জন। তাছাড়া এ বছর কলারোয়া উপজেলায় জেএসসি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে ২১ জন কিন্তু এই স্কুলটি থেকে ১৬ জনসহ মোট ২৮ জন বৃত্তি পেয়েছে। এর আগে ২০১৫ সালে ঐতিহ্যবাহি এই স্কুলটি থেকে এসএসসি পরীক্ষায় ১৭০ জন পরীক্ষার্থী অংশ গ্রহন করে ১৬৯ জন ছাত্র-ছাত্রী পরীক্ষায় উর্ত্তীন্ন হয়। পাশের হার শতকরা ৯৯.৪ ভাগ। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৯ জন। ২০১৪ সালে স্কুলটি থেকে এসএসসি পরীক্ষায় ১৮৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ গ্রহন করে ১৮৯ জন ছাত্র-ছাত্রী পরীক্ষায় উর্ত্তীন্ন হয়। পাশের হার শতভাগ। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩২ জন। ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি যশোর শিক্ষা বোর্ডের টপ টেনে সাতক্ষীরা জেলার প্রথম স্থান অধিকার করে। এমনকি ২০১২ সালে জেএসসি পরীক্ষায় জেলার প্রথম স্থান অধিকার করে। এ দিকে এই প্রতিষ্ঠানটি ক্রীড়া সহপাঠ্যক্রমে ২০১৫ সালে জাতীয় গ্রীস্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় সাতক্ষীরা জেলা  ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়। একই বছরে স্কাউট্সে অত্র বিদ্যালয় থেকে ৩ জন মেধাবী ছাত্র রাষ্ট্রপতি পদক পায়। এ ছাড়া বিদ্যালয়টিতে পর্যপ্ত দৃষ্টিনন্দন ভবনসহ ভোকেশনাল বিভাগ(কারিগরি) ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টাডি সেন্টার রয়েছে। বর্তমান বিদ্যালয়টি প্রধান শিক্ষকসহ ৪৩ জন অভিজ্ঞ শিক্ষক মন্ডলী ও কর্মচারী দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।  বর্তমান বিদ্যালয়টিতে ৬ষ্ট শ্রেণী থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত প্রায় ১২০০ ছাত্র-ছাত্রী অধ্যায়ণরত রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমান সরকারের শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব যা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ১২ জুন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করবেন। উক্ত একাধিক অর্জনের পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যালয়টি জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০১৬ উৎযাপনে সাতক্ষীরা জেলার শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান,শেষ্ট প্রধান শিক্ষক ও শ্রেষ্ঠ স্কাউট্স নির্বাচিত হয়। উল্লেখ্য, বর্তমান প্রধান শিক্ষক আব্দুর রব ২০১২ সালে ৩১ মার্চ অত্র বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করে সুনামের সহিত অদ্যাবধি দায়িত্ব পালন করছেন। এই চৌকস প্রধান শিক্ষক ২০০০ সালেও কলারোয়া উপজেলার খোরদো সালেহা হক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক থাকাকালীনও জেলার শ্রেষ্ট প্রধান শিক্ষক (বালিকা) নির্বাচিত হন। বর্তমানে স্কুলটির পরিচালনা পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বর্তমান উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লাল্টু।
প্রতিষ্ঠানটির ভাল ফলাফলের ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক আব্দুর রবের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, তার স্কুলে নির্ধারিত সময় নিয়মিত ক্লাস করানো হয় । স্কুল টাইম বাদে প্রত্যেক ক্লাসে গ্রুপ তৈরী করে বিশেষ ক্লাস করানো হয়। এর ফলে তার স্কুলে ভাল ফলাফল হয় বলে তিনি জানান।