কলারোয়ার মিতু প্রেমের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে


466 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কলারোয়ার মিতু প্রেমের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে
জুন ২৮, ২০২০ কলারোয়া ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা

স্টাফ রিপোর্টার ::

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ১নং জয়নগর ইউনিয়নের ক্ষেত্রপাড়া গ্রামের মেয়ে সাবিকুর নাহার জীবন-মৃত্যুর ক্ষণে দিন গুনছেন। পিতা ছিদ্দিক আলী (রাজমিন্ত্রী) বিচারের আশায় ঘুরছেন বিভিন্ন দুয়ারে দুয়ারে। পাচ্ছেন না সু-বিচার। মেয়েটি প্রেমের নামে প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়ে আজ জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দিন গুনছে।
সরেজমিনে গিয়ে মেয়েটির পিতা ছিদ্দিক মালী অভিযোগ আকারে জানায়, প্রতিবেশি সরোয়ার মালির ছেলে হুসাইন মালি ২০১৬ সালে প্রেমের ফাঁদে ফেলে তার ১৩ বছরের মেয়ে মিতুকে দুই পরিবারের সম্মতি না নিয়ে বিয়ে করে। চার বছরের মাথায় তিন বার গর্ভপাত করানো হয় তার মেয়েকে। গর্ভপাত করতে রাজি না থাকলে তার মেয়ে উপর শারীরিক নির্যাতন চালায় তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন, এমনকি হত্যার হুমকিও দেয়া হয়েছিলো। নির্যাতন সইতে না পেরে, একপর্যায়ে গর্ভপাত করাতে রাজি হন তার নাবালিকা মিতু। তাও একবার নয় তিন বার। ফলশ্রুতিতে আজ পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়েছে মিতুকে- এমনি অভিযোগ করছে সিদ্দিক মালিসহ তার পরিবারের সদস্যরা।

এই অবস্থাতেও পাশে নেই হুসাইন মালি কিংবা তার পরিবার। চিকিৎসা সহ সকল দায়ভার এখন তার দিনমজুর বাবা সিদ্দিকুর রহমান এর উপর।

সিদ্দিকুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন- আমার মেয়েকে সুস্থ করার পেছনে ১০ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে আমি সর্বশান্ত হয়ে গেছি, এখন মৃত্যু পথযাত্রী মেয়েকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে আছি।
তিনি আরও বলেন, আমার মেয়ে মিতুকে নিয়ে হুসাইন মালীর পরিবার যে নির্যাতন করেছে ও গর্ভপাতের মত জঘন্য কাজ করিয়েছে আমি তার সঠিক বিচার চাই। আমার মেয়ে মিতুর সাথে ঘটে যাওয়া দুঃখ জনক ঘটনাটির সঠিক বিচার যেনো মেয়েটি দেখে যেতে পারে।

এদিকে সরোয়ার মালি জানান- তিনি বা তার পরিবারের কেউ তার পুত্রবধুর উপর কোন প্রকার নির্যাতন করেনি। গর্ভপাত করানোর কথাটিও এড়িয়ে যান। বলেন- আমার এবং আমার পরিবারের বিরুদ্ধে আনিতো সকল অভিযোগ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট।

হুসাইন মালিকে বাড়িতে না পেয়ে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করতে চাইলে বার বার ফোন করা সত্ত্বেও ফোনটি রিসিভ না করায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামছুদ্দীন আল মাসুদ বাবু বলেন, তিনি বারবার সুবিচার পাইয়ে দিতে চাইলেও আমার বিচার মানতে চায়নি সরোয়ার মালির পরিবারটি। তিনি আরও বলেন, ৫ সদস্যোর কমিটি গঠন করেছিলাম যার উপদেষ্টা ছিলেন জয়নগর

ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান মালি। কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরোয়ার মালি (ছেলের পিতা) পূর্বের চিকিৎসার খরচ বাবদ ছিদ্দিক মালি (মেয়ের পিতাকে) ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দিবে এবং বর্তমানে মিতুর চিকিৎসার খরচ বাবদ মেয়ের পিতা বহন করবে মোট চিকিৎসার ৩ ভাগের এক ভাগ এবং ছেলের পিতা ৩ ভাগের দুই ভাগ খরচ বহন করেবে। তাৎক্ষনিক বিষয়টি সরোয়ার মালি (ছেলের পিতা) মেনে নিলেও পরবর্তী সময়ে সেটি অস্বীকার করেন । তিনিও পুলিশ প্রশাসনকে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহনের অনুরোধ জানিয়েছেন।

#