কলারোয়ার যুগিখালি ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভারতীয় নারী ধর্ষনের মামলা


522 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কলারোয়ার যুগিখালি ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভারতীয় নারী ধর্ষনের মামলা
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৭ কলারোয়া ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

বিশেষ প্রতিনিধি ::

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার যুগিখালি ইউপি চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক রবিউল হাসান ও তার চার সহযোগীর বিরুদ্ধে গনধর্ষনের অভিযোগ এনেছেন এক নারী।  ওই নারী একজন ভারতীয় নাগরিক।

এ ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরা জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দিয়েছেন ধর্ষিতা নারীর শাশুড়ি। বিচারক আশরাফুল ইসলাম মামলাটি এজাহারভূক্ত করে তদন্ত করে পুলিশ প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।

তবে চেয়ারম্যান রবিউল হাসান এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন ‘ নিজ এলাকায় দলীয় গ্র“পিংয়ের কারণে এই মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে আমার ভাবমূর্তি বিনষ্ট করতে’।
মামলার বাদী ধর্ষিতা গৃহবধূর শাশুড়ি যুগিখালি গ্রামের মিনু বেগম তার আরজিতে উল্লেখ করেন যে তার ছেলে আফজাল হোসেন ভারতের পশ্চিমবাংলায় দিন মজুরের কাজ করতে গিয়ে কিছুদিন আগে বিথারী গ্রামের এক নারীকে (রিয়া খাতুন) বাংলাদেশে এনে বিয়ে করেন।

এ ব্যাপারে তার কাছে আদালতের অ্যাফিডেভিটও রয়েছে। তিনি আরও বলেন ঘর সংসার করার এক পর্যায়ে এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল হাসান তার ছেলের বউ ও ছেলেকে নানাভাবে বিরক্ত করতেন। এরই এক পর্যায়ে গত ৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮ টার দিকে চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম আফজালের বাড়িতে যেয়ে জানান বাজারে পুলিশ এসেছে।

তোমাদেরকে আমার সাথে এখনই যেতে হবে। এ কথা বলে আফজাল ও তার স্ত্রীকে চেয়ারম্যান স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ অফিসের দোতলায় নিয়ে আসেন। পরে তাদের কাছে ১৫ হাজার টাকা চেয়ে আফজালকে তিনি বলেন ‘তোমার বউ ভারতীয় নাগরিক। এখানে থাকতে চাইলে পুলিশকে এই টাকা দিতে হবে। অন্যথায় পুলিশ তোমার বউকে গ্রেফতার করবে’।

আরজিতে আরও বলা হয় এই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় চেয়ারম্যান থানার ওসির সাথে কথা বলানোর নাম করে ওই রাতেই গৃহবধূকে নিয়ে যান। পরে তাকে থানায় না নিয়ে তোলা হয় কলারোয়ার ঝিকরা গ্রামের জনৈক সঞ্জয়ের বাড়িতে।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন যে সেখানে একটি কক্ষে আটকে রেখে প্রথমে চেয়ারম্যান রবিউল হাসান ও পরে পর্যায়ক্রমে তার সহযোগী সোহাগ হোসেন, সোহাগ দফাদার, আসাদুজ্জামান আসাদ ও কদম আলি ওই গৃহবধূকে জোরপূর্বক ধর্ষন করেন। গভীর রাতে নিস্তেজ হয়ে পড়লে চেয়ারম্যান রবিউল হাসান ধর্ষিতাকে চৌকিদার এমাদুলের মাধ্যমে বাড়িতে পৌছে দেন। ভোরে গৃহবধূর শাশুড়ি ঘুম থেকে উঠে বাড়ির মধ্যে নিজের ছেলের বউকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।

মামলায় তিনি আরও বলেন সকালে বিষয়টি সবাইকে জানিয়ে থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশের নির্দেশ অনুযায়ী তাকে প্রথমে কলারোয়া হাসপাতাল ও পরে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর সুস্থ হয়ে কলারোয়া থানায় মামলা দেওয়া হলে পুলিশ তা রেকর্ড না করে ফেরত দেয়। বাধ্য হয়ে গৃহবধূর শাশুড়ি সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করেন।

গনধর্ষনের এ অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান রবিউল হাসান বলেন ‘ মেয়েটি ভারতীয়। সে সেখানে নবম শ্রেণিতে পড়তো। বয়স ১৬ বছর। তারা বাবা তাকে ফেরত নেওয়ার জন্য বাংলাদেশে যোগাযোগ করেন। বিষয়টি কলারোয়া থানা পুলিশকেও জানানো হয়। এক পর্যায়ে মেয়েটি কারও পরামর্শ অনুযায়ী একটি সাজানো মামলায় আগ্রহী হয়।

তারা তাকে বুঝায় যে এমন একটি মামলা করলে চেয়ারম্যান তোমাকে তোমার ভারতীয় বাবা মার হাতে তুলে দিতে পারবেন না। তুমি নানা ধরনের সুবিধাও পাবে’। চেয়ারম্যান আরও বলেন নিজ দলের লোকজনের কোন্দলের জেরে এমন একটি মিথ্যা অভিযোগ খাড়া করা হয়েছে’।
##